বরিশালে সুগন্ধার ভয়াবহ লঞ্চ ট্রাজেডির এক বছর : আজও মানুষ পোড়া গন্ধ ভাসে দখিনের বাতাসে। 


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৬, ২০২২, ৫:৩১ অপরাহ্ন / ৪৮৮
বরিশালে সুগন্ধার ভয়াবহ লঞ্চ ট্রাজেডির এক বছর : আজও মানুষ পোড়া গন্ধ ভাসে দখিনের বাতাসে। 

বরিশালে সুগন্ধার ভয়াবহ লঞ্চ ট্রাজেডির এক বছর : আজও মানুষ পোড়া গন্ধ ভাসে দখিনের বাতাসে। 
বরিশাল:

২০২১ সাল ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে প্রায় ৫০০ শতাধিক যাত্রি নিয়ে ঢাকা থেকে বরগুনার
উদ্দ্যেশে ‘এমভি অভিযান-১০’ যাত্রা শুরু করে। ঘড়ির কাটায় তখন রাত ৩ টা লঞ্চটি কেবল কীর্তনখোলা
নদী পাড়ি দিয়ে সুগন্ধা নদীর পোনাবালীয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকায় পৌঁছেছে। যাত্রীরা তখন গভীর ঘুমে
আচ্ছন্ন। যাত্রীবোঝাই চলমান লঞ্চটি আকস্মিকভাবে ইঞ্জিনরুমের ত্রুটি থেকে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক
অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর লঞ্চটি সামনের দিকে যতই এগোচ্ছিল আগুনের লেলিহান শিখা
ততই বাড়ছিল। শীতের এই শেষ রাতে মাঝ নদীতে বাতাসের গতিও কম ছিল না। ঘটনার সময় অধিকাংশ
যাত্রী ছিল গভীর নিদ্রায়। আগুনের কারণে যাত্রীদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় আহাজারি, আর্তনাদ। এ সময়
একযোগে সকল যাত্রীর মাঝে প্রাণ বাঁচানোর প্রাণান্তকর প্রয়াস শুরু হয়ে যায়। অনন্যোপায় হয়ে অনেকে
নদীতে ঝাঁপ দেয়। যারা ঝাঁপ দিতে পারেনি বা সাহস করেনি তাদের অধিকাংশই আগুনে দগ্ধ হয়েছে। লঞ্চটি
শেষ পর্যন্ত পুড়ে রীতিমতো কঙ্কালসার হয়েছে। যারা অনিশ্চয়তার উদ্দেশ্যে ঝাঁপ দেয় তাদের কেউ কেউ
সাঁতরিয়ে কূলে উঠতে পারলেও অনেকে নিখোঁজ রয়েছে। সেদিন দেশের ইতিহাসে ঘটে নতুন ভয়াবহ এক
ট্রাজেডি। ঢাকা থেকে বরগুনা পর্যন্ত সুগন্ধা নৌরুটে লঞ্চ যাত্রার ইতিহাসে বিরল ও মর্মান্তিক
প্রাণহানির ঘটনা। সুগন্ধা নদীর তীরে সারিবদ্ধ লাশ আর লাশ। আর লাশের পাশে আহাজারি ও
স্বজনহারাদের আর্তনাদ। বাতাস হয়ে উঠছে ভারি, যে মেঘ আজও কাটেনি। সুগন্ধার আকাশে আজও ভাসে
কান্নার শব্দ। অগ্নিকান্ডে ৪৯ জন নিহত হয়। নিখোঁজ হয়ে যায় অনেকে। নিহতদের মধ্যে আজও ৯ জনের
মৃতদেহ শনাক্ত হয়নি। যাদের শনাক্ত হয়েছে তাদের স্বজনরাও পায়নি তেমন কোনো সহায়তা। ফলে
পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে মানবেতর দিন কাটছে স্বজনদের। ঘটনার পর অকুস্থল
পরিদর্শন করেছেন নৌপ্রতিমন্ত্রী ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা। এ ঘটনা নিয়ে গভীর শোক
প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের একাধিক
মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যগণ। প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নির্দেশে আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের লাশ
দ্রুত হস্তান্তরের নির্দেশ প্রদান করেন। ৩০ লাশের গণকবরে আজও ‘অজ্ঞাত’ ৯ কবর ॥ লঞ্চে ভয়াবহ
অগ্নিকা-ে ৪৯ জন নিহত হয়। সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকা-ের
ঘটনায় নিহত ৩০ জনের লাশ জানাজা শেষে বরগুনা পোটকাখালী এলাকায় গণকবরে দাফন সম্পন্ন করা
হয়েছে। ট্রাজেডির এক বছর পূর্ণ হলেও আজও ৯ জনের মৃতদেহ শনাক্ত হয়নি। বরগুনা জেলা প্রশাসনের
তথ্যমতে, নিহতদের ১৯ জনের মৃতদেহ ওইদিনই হস্তান্তর করা হয় স্বজনদের কাছে এবং শনাক্ত না
হওয়া অজ্ঞাত ৩০ মৃতদেহ দাফন করা হয়েছিল গণকবরে। পরে স্বজনদের মধ্যে ৪৮ জনের ডিএনএ
পরীক্ষার মাধ্যমে অজ্ঞাত ১৪ জনের মৃতদেহের পরিচয় মিললেও এখনো পরিচয় মেলেনি ৯ মৃতদেহের।
এছাড়াও জেলা প্রশাসনের তালিকায় এখনো নিখোঁজের সংখ্যা ৩০ এবং ৭ মৃতদেহের হদিস আজও মেলেনি।
মেয়ে ফিরে আসার অপেক্ষায় মা ॥ অভিযান-১০ লঞ্চে ঢাকা থেকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা আসছিলো
ফজিলা আক্তার পপি (৩০)। সেই ট্রাজেডির এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো পপির পথ চেয়ে বসে আছেন তার
মা আমেনা বেগম। অনেক খোঁজাখুজির পরেও পপির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফজিলা আক্তার পপি
পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানি ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে। পপির মা আমেনা
বেগম জানান, ‘পপি ঢাকার সাভার এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া
মেয়েকে ঢাকায় ভালো কোন স্কুলে লেখাপড়া করাবেন সেই স্বপ্ন নিয়ে অভিযান-১০ লঞ্চে বাবার বাড়িতে
ফিরছিলেন। রাত ৯টার দিকেও কথা বলেছেন তার মেয়ের সাথে। তিনি আরো বলেন, সন্তানহারা মা কিভাবে
থাকে। সন্তানের অভাব কেউ পরণ করতে পারে না। খুব কষ্টে দিন পার করছি। পপি লঞ্চে ওঠার সময় ফোন
দিয়া বলছিলো- মা ছুটি কম, রুটি পিঠা খাইতে মন চায়। যা খাওয়াবা জলদি খাওয়াবা। সকালে শুনি যে লঞ্চে
আমার মেয়ে ছিল সেই লঞ্চেই আগুন লেগে পুড়ে গেছে। আর আমার মেয়ে আসলো না। রুটি পিঠাও খাওয়াতে
পারলাম না। আমি এখন নিশ্চিত আমার মেয়ে আর নেই। স্বজনদের জন্য অপেক্ষা ॥ লঞ্চ ট্রাজেডির
ঘটনায় প্রশাসনের তালিকায় নিখোঁজের সংখ্যা এখনও ৩০। তবে, সাত মৃতদেহের কোনো হদিস নেই। খোঁজ
নিয়ে জানা গেছে,নিখোঁজ রয়েছেন বরগুনা সদরের পরীরখাল এলাকার রাজিয়া সুলতানা ও আট বছরের শিশু
নুসরাত। বছর পার হলেও এখনও মা ও বোনের মৃতদেহ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌসী।
নিখোঁজ রাজিয়া সুলতানার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, আমার মা ও ছোট বোন অভিযান-১০ লঞ্চে
ছিলো। মা- বোনদের মৃতদেহ পাওয়ারও সম্ভাবনা নেই। মানুষ পুড়ে ছাই হয়েছে পুড়েনি পবিত্র কুরআন ॥
লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনায় প্রায় সব পুড়ে গেলেও একটি কুরআন শরীফ অক্ষত পাওয়া গেছে। এমন
অলৌকিক ঘটনা দেখে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ঘটনার পরদিন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঐ
কুরআন শরিফটি উদ্ধার করে। এ অলৌকিক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ আলোচিত
হয়েছে। অনেকে ছবিটিকে ফেসবুক পেজে শেয়ার এবং ছবি তুলে সংরক্ষণ করেছেন অনেকে। ঝালকাঠিতে
আজও হয়নি নৌ ফায়ার স্টেশন ॥ লঞ্চে আগুন লাগার খবর পেয়ে ওই সময় ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস
স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান খেয়ার ট্রলারে করে। নদীবেষ্টিত গুরুত্বপূর্ণ এ জেলায় নৌপথের

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নৌ ফায়ার স্টেশন না থাকায় অভিযান-১০ লঞ্চে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে
এবং আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। নৌ ফায়ার স্টেশন থাকলে ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি আরও
কমে আসত বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। গভীর রাতে মাঝ নদীতে লঞ্চে
ভয়াবহ আগুন লাগলে বরিশাল থেকে নৌ ফায়ার স্টেশন ইউনিট ও ডুবুরি দল এসে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে
উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। এতে করে অনেক সময় পেরিয়ে যায়। ফলে বাড়তে থাকে জানমালের
ক্ষয়ক্ষতি। ১৯৬৩ সালে ঝালকাঠিতে প্রতিষ্ঠিত দ্বিতীয় শ্রেণির এই ফায়ার স্টেশনটিকে ছয় বছর আগে
প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রস্তাব পাঠানো হলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এই জেলার
নৌপথে অগ্নিদূর্ঘটনায় দ্রুত নির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর করা যাচ্ছে না। কবে হবেন নৌ-যাত্রা নিরাপদ?
॥ নদীমাতৃক এ দেশে অধিকাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা,যাতায়াত, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবই চলছে
নদীকে ঘিরে। নদী দিয়েছে ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ উপাধি। মানুষের যাতায়াতের জনপ্রিয় একটি মাধ্যম নৌপথ।
তুলনামূলকভাবে খরচ কম এবং আরামদায়ক হওয়ায় অনেক মানুষই যাতায়াতের জন্য নৌপথকে বেছে নেন।
এতকিছু সত্ত্বেও আমাদের দেশের নৌপথ কতটুকু নিরাপদ? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে একদমই ভাবতে হয়
না। কিছুদিন পরপরই ছোট-বড় দুর্ঘটনাই বলে দেয় উত্তর। একটা শোকের মাতম না কাটতেই আবার
দুর্ঘটনা হানা দেয়। নৌপথে নিরাপত্তার এমন বেহাল দশা চলবে কতকাল? আর কত প্রাণ হারালে
সংশ্লিষ্টদের জ্ঞান ফিরবে? সর্বদা এমন প্রশ্ন জেগে উঠে যাত্রীদের হৃদয়ে। নৌপথে সংঘটিত প্রতিটি
দুর্ঘটনার পরে তদন্ত কমিটি হয়। নিয়ম অনুযায়ী কিছু তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনও জমা দেয়। তদন্তে উঠে
আসে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কথা-অদক্ষ চালক, ত্রুটিযুক্ত ও লাইসেন্সবিহীন নৌযান, বন্দর
তত্ত্বাবধায়ক ও নৌযান মালিকের দায়িত্বহীনতা এবং পর্যাপ্ত সেফটি ইকুইপমেন্টের অভাব ইত্যাদি।
নৌদুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, এজন্য অভিযোগের সঙ্গে তদন্ত কমিটি কিছু সুপারিশও করে।
কিন্তু এরপর এসব তদন্ত প্রতিবেদন এবং সুপারিশ কোনোটিই আলোর মুখ দেখে না। ঢাকা-বরিশাল রুটে
চলাচলকারী অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবির বলেন, দীর্ঘদিনের যাত্রী খরা না কাটলেও
অনেক দিন পর লঞ্চগুলো পরিপূর্ণ যাত্রী পেয়েছে। তবে ডেকের তুলনায় কেবিনের চাপ বেশি ছিল। আবার
বরিশাল থেকেও এরই মধ্যে সবগুলো কেবিন আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের
সুবিধার্থে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও অনেক কম টাকায় আমরা যাত্রী সেবা দিচ্ছি। চাই সব সময়
এমন যাত্রীর চাপ থাকুক। বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক ও বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর
রাজ্জাক বলেন, তিনদিনের বন্ধে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে নদীবন্দর। কর্মব্যস্ততা বেড়েছে সবার।
আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। এছাড়া আমাদের সার্বিক সহায়তায় আইন-
শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছে।

বরিশালে ইটভাটার ছড়াছড়ি ! পুড়ছে সারি সারি কাঠ, হুঁমকির মুখে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ।

বরিশাল:  বরিশালে ব্যাঙ্গের ছাতার ন্যায় বেড়েছে ইটভাটা, এসব ইটভাটাগুলো সরকারি নীতিমালাকে
বৃদ্বাঙ্গুলী দেখিয়ে এবং সরকারি আইনকে উপেক্ষা করে চালাচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী ও মালিকরা।
অধিকাংশ ইটভাটায় পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাসহ শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ও ফসলি জমিতে স্থাপন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো
হচ্ছে সাড়ি সাড়ি কাঠ। পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে ছোট ব্যারেলের (টিনের) চিমনি। এতে
স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে পরিবেশ। আইন অমান্য করে দিনের পর দিন
ইটভাটার সংখ্যা বাড়লেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশালের স্থানীয়
বাসিন্দারা। এদিকে, ভাটায় উন্নত প্রযুক্তির জিগজ্যাগ কিলন, ভার্টিক্যাল স্যাফট ব্রিককিলন,
হাইব্রিড হফম্যান কিলন ও টানেল কিলন ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ ভাটাতেই ব্যবহার
করা হচ্ছে অবৈধ ব্যারেল চিমনি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়ার
রুবেল গাজির সিকো ব্রিকস, আলতাফ হোসেনের আরিফ ব্রিকস, নুর হোসেনের ফুজি ব্রিকস, দূর্গাপুর
বাজার সংলগ্ন সিগমা ব্রিকস, দুর্গাপুর ইসলাম হাওলাদারের আরাফাত ব্রিকস, চরমোনাইয়ের
উজ্জলের মীনা ব্রিকস, চরবাড়ীয়ার রশিদ ও নুরের ইসলাম ব্রিকস, ফারুক মৃধার হাসান ব্রিকস, মো:
ইউনুসের ইনা ব্রিকস, সিরাজুল ইসলামের মিনা ব্রিকস, কর্নকাঠি রুবেল মোল্লার মোল্লা ব্রিকস,
বাকেরগঞ্জের গারুলিয়ার সুলতান মাহমুদের সুরমা ব্রিকস (অবৈধ ড্রাম চিমনি), কলশকাঠীর বারেক
ও খালেক আকনের রুপা ব্রিকস ১-২ ও ৩, রয়েল দাসের রয়েল ব্রিকস, দেলোয়ার হোসেন নজরুলের
গাজী ব্রিকস (অবৈধ ড্রাম চিমনি), গঙ্গা ব্রিকস, বি বি এ টি এ ব্রিকস, এস বি এ টি এ ব্রিকস,
সমসের হাওলাদারের রাজা ব্রিকস ওয়ান, চরামদ্দিতে চুন্নু সিকদারের ছুবা ব্রিকস, কাটাদিয়া
মোজাম্মেল হক আকনের এমএইচএ ব্রিকস, দুধল সবুর খানের এমএসবি ব্রিকস, পেয়ারপুরের কাজী
মাহফুজের কাজী ব্রিকসসহ বরিশালে আরো প্রায় ৬০০টি ইট ভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে সাড়ি
সাড়ি কাঠ। ইটভাটাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধভাবে নদীগর্ভ
বিলীন করে ভেকু দিয়ে কাটা মাটি ও কৃষি জমির মাটি। ফলে একদিকে নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে বন,
অন্যদিকে উর্বরতা হারিয়ে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ছে জমি, ভেঙ্গে যাচ্ছে নদীগর্ভ। বিভিন্ন সূত্র
থেকে জানা গেছে, আকারভেদে একটি ইট ভাটা গড়তে কমপক্ষে পাঁচ একর (৫০০ শতাংশ) জমি
প্রয়োজন। তবে ক্ষেত্রবিশেষে ৪০ থেকে ৪৫ একর জমিরও প্রয়োজন হয়। আর এসব ইট ভাটা গড়ে
ওঠার কারণে তিন হাজার একর ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইটভাটার
ম্যানেজার জানালেন, সাধারণত মধ্যম সারির একটি ইট ভাটায় বছরে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ইট পোড়ানো
হয়। আর প্রতি আট হাজার ইটের জন্য কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার হয় এক হাজার ঘনফুট মাটি। সেই
মাটির জোগান আসে কৃষি জমি ও নদীগর্ভ থেকে। এজন্য প্রতিটি ভাটায় বছরে পাঁচ থেকে ছয় একর
জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করা হয়। সে হিসাবে গড়ে ৭০টি ভাটাতে প্রতি বছর অন্তত সাড়ে
৩০০ একর জমির মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ইট পোড়ানোর জন্য প্রতিটি ভাটায়
দৈনিক গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ মণ কাঠ পোড়াতে হয়। সে হিসাবে গড়ে ৭০টি ইটভাটায় প্রতিদিন ২ হাজার
৪৫০ মণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেও জানা গেছে, বিভিন্ন গ্রাম থেকে
সংগৃহীত কাঠ এসব ভাটায় জোগান দেওয়া হয়। গড়ে প্রতিটি গাছ থেকে সাত থেকে আট মণ কাঠ পাওয়া
যায়। অনেক ভাটায় গাছ চেরাই করতে বসানো হয়েছে করাত কল। বরিশালের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা
গেছে, ইট ভাটাগুলোতে, আম, জাম, রেন্ট্রি, কদম, জামরুল, কাঁঠাল, খেজুর, নারকেলসহ তিন শতাধিক
ফলজ ও বনজ গাছ পোড়ানো হচ্ছে প্রতিদিন। অথচ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫
(সংশোধিত ২০১০) এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭-এর ৭ ধারা অনুযায়ী কাঠ দিয়ে ইট
পোড়ানোকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রথমবার সর্বোচ্চ ৫০

হাজার টাকা এবং দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে ১ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও সাজার
বিধান রাখা হয়েছে। তৃতীয়বার এ অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে ভাটার নিবন্ধন বাতিল ও ভাটা বাজেয়াপ্ত
করারও বিধান রাখা হয়েছে। কাগজে-কলমে এসব আইন বাস্তবায়নে কঠোর নির্দেশনা থাকলেও
বাস্তবে এর প্রয়োগ নেই! এদিকে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-তে বলা
হয়েছে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, হাট-বাজার এলাকা; সিটি
কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা এবং বন, অভয়ারণ্য, বাগান, জলাভূমি ও কৃষি জমিতে ইট ভাটা
স্থাপন করা যাবে না। তবে আইনের তোয়াক্কা না করেই বরিশালের অধিকাংশ ইটভাটা স্থাপন করা
হয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন ফসলি জমিতে। ইটভাটার ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ
ছাড়াও স্থানীয়রা নানা ধরনের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। কলশকাঠী গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলামসহ
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ফসলি জমির ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষেতের পাশে
ইটভাটা গড়ে ওঠায় আগের তুলনায় উৎপাদন কমে গেছে। সরকার ফসলি জমির ওপর ইট ভাটা স্থাপন
রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পাঁচ বছরের মধ্যে এসব জমির উৎপাদন শূন্যে নেমে আসবে। স্থানীয়রা
আরও বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের মধ্যে শ্বসনতন্ত্রের রোগব্যধিতে আক্রান্ত হওয়ার
পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে অসুস্থতা বেড়েছে। বরিশাল সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা
জায়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যদি কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়, তাহলে এর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ব্রংকাইটিস,
শ্বাসকষ্টসহ শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। ফলে এ বিষয়ে
আমাদের সচেতন হতে হবে। ইট ভাটার জ্বালানি হিসেবে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে
জানতে চাইলে অধিকাংশ ভাটার মালিক বলেন, চাহিদার তুলনায় কয়লার সরবরাহ কম এবং দামও বেশি।
কয়লা দিয়ে ইট পোড়ালে তাদের লভ্যাংশ কমে যায়, ফলে লাভ বাড়াতেই তারা কাঠ পুড়িয়ে থাকেন।
সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ কয়লা আমদানির মাধ্যমে সাশ্রয়ী দামে সরবরাহ করতে পারলে তবেই ইট
ভাটায় কাঠ পোড়ানো বন্ধ করা যাবে বলে মনে করছেন তারা। এদিকে কথা হয় কৃষি সম্প্রসারণের এক
কর্মকর্তার সাথে, তিনি বলেন কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটা হলে এর উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়।
চার-পাঁচ বছরের ব্যবধানে জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাপক হারে কমে যায়। ফসলি জমির মাটি কেটে
ভাটায় ব্যবহার বন্ধে ও ফসলি জমির পাশে ইটভাটা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আমরা জেলা
প্রশাসনকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানাবো। আইন অমান্য করে কাঠ পোড়ানো, বসতি ও শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের আশপাশেই ভাটা পরিচালনা করে চলে আসা এসব অনিয়মের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের
বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: আব্দুল মালেক মিয়া জানান, আইন আমান্য করে
পরিচালিত ইট ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
25/12/2022
01620-849601

কোডেকের কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে…
দুঃস্থ ও শীতার্তের পাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান – উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। 
এন এম দেলোয়ার, পিরোজপুর প্রতিনিধি –
মানুষ মানুষের জন্য আর জীবন জীবনের জন্য, আর সেই শ্লোগান কে সামনে রেখে মানবতার কল্যানে এগিয়ে চলছে আপন মহিমায় ” কোডেক “। সেই ১৯৮৫ সাল থেকে পদচলা কোডেকে। আর্থিক স্বচ্ছলতা সামাজিক যোগাযোগ সহ সমাজের বেশকিছু উল্লেখ যোগ্য কাজকর্ম করে সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে একটা চমৎকার অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে ইতিমধ্যে। আর সেই প্রতিষ্ঠানের কম্বল বিতরণের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার। কোডেক ইন্দেরহাট শাখার আয়োজনে উপজেলার মধ্যে হত দরিদ্র পরিবারের জন্য কম্বল বিতরণ করেন। আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব মজুমদার বলেন, আজকের কোডেকের মত সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ভাবে উন্নয়ন মূলক কাজ কর্মে এগিয়ে আসা উচিত। তিনি আরও বলেন, কোডেক শুধু কম্বল বিতরণ করেই খ্যান্ত হয়নি বরং অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একটা নজির স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষা প্রকল্প সহ বহু কর্মকাণ্ড আত্ম মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। এদিকে আজকের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুটিয়াকাঠীর বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ অসীম আকন।বিশেষ অতিথি হিসেবে তিনি বলেন, কোডেকের মত আরও বহু মাল্টিপল সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসা উচিত। এদিকে কোডেকের এরিয়া ম্যানেজার মোঃ কাজী হোসেন। তিনি আজকের অনুষ্ঠানে বলেন, কোডেকের জন্ম ১৯৮৫ সালে। সৃষ্টি থেকে এখন পর্যন্ত সুনামের সাথে পথ চলছে আপন মহিমায়। আমাদের প্রতিষ্ঠানে সকল সদস্যদের মেধাবী ছেলে মেয়েদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়াও সন্মানিত সদস্যদের ৫টি রোগের চিকিৎসা বাবদ সুরক্ষা তহবিল থেকে সুবিধা প্রদান করা হয়। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনগুলোতে আমরা আরও মানুষের সেবার কাজে এগিয়ে আসবো ইনশাআল্লাহ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আজকের কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে সুটিয়াকাঠীর সুশীল সমাজের লোকজন সহ জেলার ও স্থানীয় গণ মাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।