“৬৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী কানসাট ক্লাবে ২৩ বছর পর নির্বাচন ৭’ই ডিসেম্বর”


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৪, ২০২২, ৪:৫৫ অপরাহ্ন / ৬০৪
“৬৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী কানসাট ক্লাবে ২৩ বছর পর নির্বাচন ৭’ই ডিসেম্বর”
“৬৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী কানসাট ক্লাবে ২৩ বছর পর নির্বাচন ৭’ই ডিসেম্বর”
ফয়সাল আজম অপু, বিশেষ প্রতিনিধি-
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কানসাট ক্লাব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ০৭’ই ডিসেম্বর বুধবার। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ৬৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিতে প্রায় ২ যুগ অর্থাৎ ২৩ বছর পর নানান বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে নির্বাচনী আমেজ চরমে। ক্লাবটির ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীরা কড়া নাড়ছে সাধারণ ভোটারদের দুয়ারে। নির্বাচনে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট ৩৭ জন পদপ্রার্থী জয়ের লক্ষে ভোট যুদ্ধে লড়াই করছেন। মোট ৩ হাজার ৫৯২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই নির্বাচনকে ঘিরে ব্যানার ফেস্টুনে ছেঁয়ে গেছে কানসাটসহ পুরো উপজেলা। চায়ের কাপে ঝড় তুলেছে নির্বাচনী হিমেল হাওয়া। জয় নিশ্চিত করতে দিনরাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থী ও সমর্থনগণ। নির্বাচনে সভাপতি পদে ২’জন প্রার্থী মাঠপর্যায়ে লড়ছেন মরিয়া হয়ে।
তাদের মধ্যে আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক,  হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ও  বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ ফেরদৌস রহমান মিলন লড়ছেন চেয়ার প্রতীক নিয়ে। অপরদিকে বিএনপি-জামায়াত প্যানেলে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা যুবদল নেতা মোঃ শহীদুল হক হায়দারী (শহীদ মিঞা)৷
সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি জামায়াত প্যানেলের গোলাম সারোয়ার আবেদী চাকা প্রতীকে ও বিপরীতে গরুরগাড়ী প্রতীক নিয়ে লড়ছেন কানসাট আম আড়ৎদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু।
তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কানসাট সাইফুদ্দিন মেমোরিয়াল ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আমিনুল ইসলাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন একাধিক প্রার্থী। নির্বাচনী নীতিমালা ও স্বতন্ত্র ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ ফেরদৌস রহমান মিলন। তিনি বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে আরও অভিযোগ করে বলেন মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ে ছিলোনা কোন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ছিলোনা কোনপ্রকার সুযোগ। এমনকি ক্লাবের পুরানো সদস্যরা নতুনভাবে সদস্য হবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবুও উদ্বেগ উৎকন্ঠা নিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রার্থীরা চালিয়ে যাচ্ছে নির্বাচনী প্রচারনা। তিনি আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত প্যানেলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিস পোড়ানোসহ ২০১৩-১৪ সালের বিভিন্ন নাশকতার কয়েকটি মামলা রয়েছে। এদিকে সভাপতি প্রার্থী শহীদ মিঞার বিরুদ্ধে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তির দায়ে মামলা চলমান রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়াও বর্তমান কমিশনের অধিনে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া-না হওয়া নিয়ে আমরা চরম হতাশায় রয়েছি। সভাপতি প্রার্থী মিলন আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ইনশাআল্লাহ্।
অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ শহীদুল হক হায়দারী (শহীদ মিঞা) প্রতিবেদককে জানান, সাধারণ ভোটাররা আমাকে ভোটের মাধ্যমে জয় এনে দিবে। এমনকি মাঠপর্যায়ের ঘুরে দেখেছি আমি দুইগুণ বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করবো ইনশাআল্লাহ্। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনীতি করতে গেলে বিভিন্ন মামলা হামলার শিকার হতে হয় এটা সবার জানা। এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিসহ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তুলেছে প্রার্থীরা তা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। এছাড়াও এখন পর্যন্ত কোন প্রার্থীর কোনপ্রকার লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি। কারও বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই সেব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনী নীতিমালা পূর্বের কমিটিতে যেটা রয়েছিল সে অনুযায়ী নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। এমনকি নির্বাচনী মাঠে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে এবং আমরা সুষ্ঠু নিরেপক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ্।
“চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় ধর্মঘট উপেক্ষা করে মাদ্রাসা মাঠে লাখো মানুষের ঢল।”
ফয়সাল আজম অপু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় তৃতীয় দিনের মতো ধর্মঘট চললেও তা উপেক্ষা করে রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে মানুষের ঢল। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে এই ধর্মঘট পালন করছে সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক পরিষদ। ফলে আন্তঃজেলা বা দূরপাল্লার কোনো যানবাহন এই জেলা থেকে ছেড়ে যায়নি বা প্রবেশ করেনি। তবে বাস বন্ধ থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিকল্প উপায়ে সমাবেশের দুই দিন আগে থেকেই রাজশাহী যাওয়া শুরু করেছেন।
ছুটির দিন শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) ও শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শনিবারের গণসমাবেশে যোগ দিতে ট্রেনে করে রাজশাহী যাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, সদর উপজেলা ও নাচোল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী সকালে বিকল্প যান হিসেবে ট্রেনে রাজশাহী গেছেন। সকাল সাড়ে ৮টায় রাজশাহীর উদ্দেশ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন ছেড়ে যায় কমিউটার মেইল ট্রেনটি। ট্রেনে আসন না পেয়ে দাঁড়িয়েও থাকতে দেখা গেছে অনেক যাত্রীকে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাজশাহীর গণসমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতেই দেওয়া হয়েছে এই পরিবহন ধর্মঘট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে রাজশাহীর দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটার হলেও সমাবেশের দিন যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না বলেই আগেই চলে যাচ্ছেন বলে জানান বিএনপির নেতাকর্মীরা। এছাড়াও বাস বন্ধের সুযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়তি ভাড়া এড়াতে অনেকেই ট্রেনে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। নাচোল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাইয়ুম আহমেদ বলেন, শনিবারের বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ ঠেকাতেই আওয়ামী লীগ সরকার এই ধর্মঘট দিয়েছে। বিষয়টি যেহেতু আমরা আগে থেকেই জানি, সেহেতু বিকল্প উপায় হিসেবে আগের দিনই ট্রেনে করে রাজশাহী চলে যাচ্ছি। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় যেকোনো মূল্যে আমরা রাজশাহীর গণসমাবেশকে সফল করবো। নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি সাইরুল মড়ল বলেন, নাচোল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশনে আসতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অটোরিকশায় এসেছি। বাস বন্ধ থাকায় এখন ট্রেনে করে রাজশাহী যাচ্ছি। কালকে সমাবেশ হলেও আজকেই সমাবেশস্থলে পৌঁছাতেই আগের দিন চলে গেছে। কারণ আমাদের আশঙ্কা সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রদল নেতা বলেন, ট্রেনে করে আগের দিনই সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে পারলেও রাতে কোথায় থাকব, কি খাব কিছুই জানি না। প্রয়োজনে খিচুড়ি খেয়ে থাকব, গাছতলায় রাত কাটাব। কিন্তু সমাবেশ সফল করবই, ইনশাআল্লাহ। তবে আশা করছি, সমাবেশস্থলে গেলে একটা ব্যবস্থা হবেই।
যুবদলের এক নেতার দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতেও রাজশাহী অভিমুখে বৃহস্পতিবার থেকে রওনা দিয়েছেন অনেক নেতাকর্মী। বিভিন্ন নাশকতা ও বিস্ফোরণের মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি ও আটক করছে পুলিশ। সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে শেষদিনে হয়তো এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার ওবাইদুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও আজকে শনিবার সকালের ট্রেনে তেমন ভীড় দেখা যায়নি। অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে, যাত্রীর তেমন কোনো বাড়তি চাপ নেই। সকাল সাড়ে ৮টার কমিউটার মেইল ট্রেনে ৪২০ জন যাত্রী যেতে পারে। প্রতিদিনের মতোই আজ পূর্ণ যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত সময়েই ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন ছেড়ে গেছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ মুঠোফোনে বলেন, সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীরা যেন যেতে না পারে, সেই কারণে সমাবেশের তিনদিন আগেই ধর্মঘট দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীতে দেশের সর্বশেষ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আগের গণসমাবেশগুলো থেকে আমাদের অভিজ্ঞতার আলোকে রাজশাহীর সমাবেশ সফল করতে নেতাকর্মীদের নানারকম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার থেকেই সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে নেতাকর্মীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ধর্মঘটের সঙ্গে বিএনপির গণসমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. হামিদুর রহমান নান্নুর। তিনি বলেন, দাবি আদায়ে সরকারের সঙ্গে বারবার আলোচনা হলেও কোনো সমাধান না আসায় বাধ্য হয়ে এই ধর্মঘটের ডাক দিতে হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ নভেম্বর মহাসড়কে নসিমন ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন ও পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ ১০ দফা দাবি পূরণে সরকারকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয় রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ১৭টি সংগঠন। তাদের বেঁধে দেওয়া সময়ে দাবি পূরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ধর্মঘটে যায় সংগঠনগুলো। এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বিকেল পর্যন্ত দূরপাল্লার বাস সব ছেড়ে গেলেও যাত্রীদের নিয়ে আর ফেরেনি। বিকেল থেকেই আন্তঃজেলা চলাচলকারী পরিবহনগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। বাস বন্ধ থাকায় বেশি ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করছে সিএনজি ও অটোরিকশাগুলো।