“সমস্যায় জর্জড়িত চট্রগ্রাম রেলওয়ে”


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১২, ২০২২, ৪:০৪ অপরাহ্ন / ৩০৮
“সমস্যায় জর্জড়িত চট্রগ্রাম রেলওয়ে”

“সমস্যায় জর্জড়িত চট্রগ্রাম রেলওয়ে”
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরো:

কখনো চালক সংকট আবার কখনো ইঞ্জিন সংকটে ধুঁকছে রেলওয়ে। এসব সংকট দীর্ঘদিনের।
একজন লোকোমোটিভ মাস্টার অবসরে গেলে তার স্থলে সহজে অন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া
যায় না। পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা ছাড়া কেউ ট্রেন চালাতে পারেন না। আর সে কারণে অর্ধেকের কম সংখ্যক
লোকোমাস্টার নিয়ে অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চলছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল।
গত কয়েক মাসে অনেকেই অবসরে গেছেন। অনেকে অবসরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে বড় ধরনের
লোকোমাস্টার সংকটে পড়ার শঙ্কা রেলওয়ের। তাই আগে থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরির পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।
তারা বলছেন, একজন পরিপূর্ণ লোকোমাস্টার তৈরি করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। একজন লোকামাস্টার
হঠাৎ করে হওয়া যায় না। তাকে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সহকারী লোকোমাস্টার গ্রেড-২ পদে লোক নিয়োগের
পর পূর্ণাঙ্গ লোকোমাস্টার হতে অন্তত ১৮ বছর সময় লাগে। ১৯৮৫ সালের নিয়োগবিধিতে যা ছিল ৯ বছর।
লোকোমাস্টার আর ইঞ্জিন সংকটের কারণে দু-একটি ট্রেন ইতিমধ্যে বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন ১৯৬টি পণ্য এবং যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। আর এসব ট্রেন চলাচলে
মূল ভূমিকা পালন করণে ইঞ্জিন চালক বা লোকোমাস্টার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বন্ধ থাকায়
লোকোমাস্টারের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কয়েকটি ট্রেন বন্ধও করে দিতে হয়েছে। অথচ নিয়োগবিধি
সংশোধনে ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর ১৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয় যা এখনো আলোর
মুখ দেখেনি।
বাংলাদেশের বড় লোকোসেডগুলোর অন্যতম একটি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী লোকোসেড। এখানে ট্রেন চালানোর
জন্য লোকোমাস্টারের পদ আছে ১২২টি। কিন্তু কর্মরত আছে ৫৮ জন যা অর্ধেকেরও কম। সংশোধনের অপেক্ষায়
থাকা নিয়োগবিধিতে একজন সহকারী লোকোমাস্টার যদি ২০২২ সালে চাকরিতে প্রবেশ করে তাহলে ১৪ বছর
পরে সে ট্রেন চালানোর উপযুক্ত হবে। তাও যদি নিয়মিত প্রমোশন হয়। আর ১৮ বছর পরে লোকোমাস্টার গ্রেড-
১ হবে। যেখানে আগের নিয়োগবিধিতে সময়মত পদোন্নতি হলে ৭ বছরে লোকোমাস্টার হয়ে যেত এবং ৯ বছরে
লোকোমাস্টার গ্রেড-১ হতো। দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়েতে বিভিন্ন পদে লোকবল নিয়োগ বন্ধ থাকায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল লোকবল সংকটে হিমশিম খাচ্ছে। রেল ভবন সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ১৪ হাজার কম জনবল নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রেলওয়ে।
সুখবর হচ্ছে, রেলে আগের চেয়ে ১০ হাজারের বেশি জনবল বাড়িয়ে মোট ৪৭ হাজার ৬৩৭ জনবল অনুমোদন
দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সর্বশেষ গত বছরের ৮ জুলাই প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির
বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেছে। নতুন জনবল কাঠামোর তুলনায় রেলওয়েতে শূন্য পদ রয়েছে ২৪ হাজার
৩৫৭ জন। নতুন জনবল নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার জনবল
নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যারা,অবসরে,যাচ্ছেন
২২ নভেম্বর নিজাম উদ্দিন (লাকসাম), ২২ ডিসেম্বর মো. ওমর (লাকসাম), ৩১ ডিসেম্বর তুষার কান্তি দাশ
(সিজিপিওয়াই), ২০২৩ সালের ২ মার্চ জাকির হোসেন (লাকসাম) অবসর যাবেন। এছাড়াও ইতিমধ্যে এ কে এম
জহিরুল হক, শফিকুর রহমান, এস এম আবুল হাসেম ও আব্দুল মোমেন অবসরে চলে গেছেন। ২০২৩ সালে
অবসরে যাবেন মো. মহিউদ্দিন, মো. আবদুল জলিল, মো. মাকসুদুল আলম, ইকবাল আহমেদ, একেএম
ওয়াহিদুজ্জামান, মো. আলী আহাম্মদ, আখতারুজ্জামান মোল্লা, একিউএম রফিক, চন্দন আইচ।
ইঞ্জিন,আর,চালক,সংকটে,বন্ধ,ট্রেন,চলাচল ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল থেকে দোহাজারী রুটে চলাচলরত ২ জোড়া যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেন ইঞ্জিন সংকটে কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এ রুটে চলাচলরত ডেমু ট্রেনটি ছিলো দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর ভরসা। সে ট্রেনটিও চালক সংকটে কয়েক দফা বন্ধ হয়ে যায়।
এছাড়া জালালাবাদ এক্সপ্রেস বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত একটি যাত্রীবাহী ট্রেন। ট্রেনটি সিলেট থেকে চট্টগ্রাম
যাত্রাপথে মৌলভীবাজার জেলা, হবিগঞ্জ জেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, কুমিল্লা জেলা ও ফেনী জেলাকে সংযুক্ত
করে। চালক সংকটের ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রেনটি বন্ধ রয়েছে। বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী জাহিদ হাসান বলেন, প্রয়োজনীয় লোকোমাস্টার কিংবা সহকারী লোকোমাস্টার না থাকায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আবিদুর রহমান বলেন, আমাদের লোকোমাস্টার সংকট রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া
চলমান রয়েছে। শিগগিরই আমরা সহকারী লোকোমাস্টার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবো। নতুন জনবল নিয়োগ
কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করতে সক্ষম হবো।

“৭ হাজার মিটার জাল ও নৌকা জব্দ”
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরো:

হালদা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে ৭ হাজার মিটার জাল ও ইঞ্জিনচালিত
নৌকা জব্দ করেছে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত উপজেলা
নির্বাহী অফিসার মো. শাহিদুল আলমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা গেছে, হালদা নদীর গড়দুয়ারা ইউনিয়নের নয়াহাট থেকে ধলই ইউনিয়নের হালদা ব্রিজ পর্যন্ত অভিযানে
প্রায় ৭ হাজার মিটার ঘেরা জাল ও ভাসান জাল জব্দ করা হয়। এছাড়াও ২টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ৩টি মাছ
ধরার বড়শি জব্দ করা হয়। জাল উত্তোলনকালে একাধিক মা মাছ মুক্ত করা হয়েছে। জাল উত্তোলন করার সময়
মা মাছের অংশবিশেষ দেখতে পাওয়া যায়। অভিযানে মৎস্য কর্মকর্তা, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা অংশগ্রহণ
করেন।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিদুল আলম বলেন, হালদায় মা মাছ, ডলফিন ও জীববৈচিত্র্য
রক্ষায় মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। আমাদের এ অভিযান চলমান থাকবে।