শেরপুরে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও চৌকিদারকে দ্রুত গ্রেপ্তার, বরখাস্ত ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৮, ২০২৩, ৬:০২ অপরাহ্ন / ৯০
শেরপুরে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও চৌকিদারকে দ্রুত গ্রেপ্তার, বরখাস্ত ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

জাহাঙ্গীর হোসেন, শেরপুর প্রতিনিধি :

শেরপুরের নকলায় গৌড়দ্বার ইউনিয়নের পাইস্কা গ্রামে রাজু মিয়া (৩৫) হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া ও চৌকিদার রেজাউল মিয়াকে দ্রুত গ্রেপ্তার, বরখাস্ত ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসি।

১৮ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরের দিকে নকলা পৌরশহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে ঢাকা-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ওই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। 

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া গৌড়দ্বার ইউনিয়নের পাইস্কা গ্রামের বাসিন্দা। চৌকিদার রেজাউল মিয়া একই গ্রামের বাসিন্দা এবং বাবুলের প্রতিবেশি। 

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন মামলার বাদি নিহত রাজুর বড় ভাই রহুল আমিন (৬০) ও স্ত্রী অন্তরা খাতুন (৩০) এবং একই গ্রামের প্রতিবেশি সাজ্জাদ হোসেন, মোস্তফা কামাল, মহিউদ্দিন জুয়েল, শহীদুল ইসলাম, রহুল আমিন, সাবেক মেম্বার হাবিবুর রহমান বাচ্চু প্রমুখ। 

বক্তাগণ তাঁদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন ইউপি সদস্য বাবুল ও চৌকিদার রেজাউল এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাঁদের অপকর্মের প্রতিবাদ করলেই চলে নির্যাতন। 

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাদের মিয়া জানান মামলায় এজাহার নামীয় আসামী আবু বাক্কারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া উম্মুল বানিন জানান আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি দরিদ্র, অসহায় রাজুর স্ত্রী ও ৩ জন সন্তান রয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করব।  

বাদির লিখিত এজাহার এবং পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গত ১০ ডিসেম্বর সকালে মারা যান পাইস্কা গ্রামের মৃত নুরল ইসলামের স্ত্রী হরফুলি বেগম (৭৫)। বেলা ২টার দিকে হরফুলির মরদেহ দাফন করতে নুরলের ছোট ভাই রহুল ও রাজু স্বজনদের নিয়ে স্থানীয় পাইস্কা গোরস্থানে যান। গোরস্থানে যাওয়ার পথে রাস্তায় হেলে পড়া একই গ্রামের ফরাজ আলীর (৫৫) সাজনা গাছের একটি ছোট ডাল ভাঙা হয়। 

দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাজনা গাছের ডাল ভাঙা নিয়ে একই গ্রামের দু’টি পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আহত হন রাজু ও একই গ্রামের নাজমুল ইসলাম (৪০), রেজাউল করিম (৩৫) রহিদুল ইসলাম (২০)সহ অন্তত ১০ জন। 

আহতদের দ্রুত নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাজু ও নাজমুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল মারা যান রাজু। 

ওই ঘটনায় ১০ ডিসেম্বর রাজুর ভাই রহুল বাদি হয়ে ইউপি সদস্য বাবুল ও চৌকিদার রেজাউল এবং একই  গ্রামের আবু বাক্কার সিদ্দিক মুন্সীসহ ৭ জনকে আসামী করে নকলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ আবু বাক্কারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।