রহস্যময় এক আগুন সন্ত্রাস ভয়ানক বিভীষিকা ছড়িয়ে দিয়েছে ফরিদপুরের  বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ভুলবাড়িয়া গ্রামে।


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৩, ২০২২, ৮:০১ অপরাহ্ন / ৩৮৮
 রহস্যময় এক আগুন সন্ত্রাস ভয়ানক বিভীষিকা ছড়িয়ে দিয়েছে ফরিদপুরের  বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ভুলবাড়িয়া গ্রামে।
মোঃআনোয়ার হোসেন, বোয়ালমারী (ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
 রহস্যময় এক আগুন সন্ত্রাস ভয়ানক বিভীষিকা ছড়িয়ে দিয়েছে ফরিদপুরের  বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ভুলবাড়িয়া গ্রামে।
অজানা আগুন আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে গোটা গ্রামবাসীকে।  বিশেষ করে রাতের বেলায় কখন কোথায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সেই দুর্ভাবনায় নির্ঘুম রাত কাটছে অনেক পরিবারের। সরেজমিন অনুসন্ধানকালে গ্রামবাসীরা জানান,  গত এক মাসে গ্রামটির  প্রায় ৮-১০ টি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে অজ্ঞাতনামা  দুর্বৃত্তরা কারো খড়ের গাদায়, কারো পাটকাঠির গাদায় অথবা কারো গোয়াল ঘরে অগ্নিসংযোগ করছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো যেমন আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি গোটা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।
উক্ত গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলাম ও বেলাল চৌধুরী বলেন, গত ১২ নভেম্বর  একটি মুরগির খোপে আগুন দেয়ার মধ্য দিয়ে এই গ্রামে অগ্নি সন্ত্রাসের যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেমে থেমে কয়েকদিন পর পর এক এক বাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে। গভীর রাতে আগুন ধরিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। ফলে অব্যাহত আগুন সন্ত্রাসে দিশেহারা হয়ে পড়েছে গ্রামবাসী।  সর্বশেষ গত ৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে আগুন দেয়া হয় গ্রামের মোঃ মফিজুর রহমানের বাড়িতে। রাত আনুমানিক ২ টার দিকে দরিদ্র এই বাদাম বিক্রেতার গোয়ালঘরে আগুন দেয়া হয়।  ঘরের তালপাতার বেড়ায় অগ্নিসংযোগ করা হলে মুহূর্তেই তা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরের মধ্যে রক্ষিত বিদেশি  জাতের একটি গর্ভবতী  গাভী  ও একটি এড়ে বাছুর দগ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়। একটি অন্তঃসত্ত্বা ছাগল ঘটনা স্থলেই পুড়ে মারা যায়। গরু দুটি উদ্ধার করতে গিয়ে মফিজুরের স্ত্রী শোভা আক্তার দগ্ধ হয়ে মারাত্মক  আহত হন। আগুনে তার মুখমণ্ডল,হাত-পা ঝলসে যায়। আগুনে  পুড়ে মফিজুর তার মা ছাহেরা বেগম চাচা নান্নু মোল্লাও গুরুতর আহত হন। শোভা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন,স্বামীর বাদাম বিক্রির টাকা তিঁল তিঁল করে গুছিয়ে এই সম্পদ বানিয়ে ছিলাম। কিন্তু দূর্বৃত্তের এক ছোবলে তা শেষ হয়ে গেলো। গাভীন ছাগলটি ঘটনা স্থলেই মারা গেছে। প্রায় দুই লক্ষ টাকা মূল্যের গরু দুটি বাচবে কিনা সন্দেহ। এক প্রশ্নের জবাবে শোভা বলেন,কারা আমার ঘরে আগুন দিয়েছে বলতে পারবো না। তবে বিগত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল তাদের উপর অসন্তুষ্ট ছিল। শোভার স্বামী মফিজুর রহমান আওয়ামীলীগ সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল আহমেদের নির্বাচন করায় ঐ মহলটি তাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়। ফলে নির্বাচনের পর থেকেই শোভাদের পরিবারের উপর জুলুম-নিপীড়ন নেমে আসে। ইতিপূর্বে কে বা কারা রাতের আধারে তার শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ কেটে ফেলে। মাঝেমধ্যেই তাদের  ঘরের উপর ঢিল ছুড়ে মারা হয়। অসৎ উদ্দেশ্যে রাতের বেলা ঘরের বাতার নিচ দিয়ে টর্চলাইটের আলো প্রবেশ করিয়ে ভিতরের অবস্থা দেখা হয়। শোভার মুরগীর ঘরেই আগুন দিয়ে সিরিজ অগ্নি সন্ত্রাসের সূচনা করা হয়। এ ছাড়াও  শোভার অভিযোগ  সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আসলাম চৌধুরীর ছোট ভাই ইমরান চৌধুরীর বদ নজর ছিল তাদের পরিবারের  উপর। সে মফিজুরের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে উত্ত্যাক্ত করে। তাকে কু প্রস্তাব দেয়। ইমরানের কথা না শুনলে মেয়ের মুখ এসিডে ঝলসে দেয়ার,ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দিত সে। অবশ্য ইমরান এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন,মফিজুর সম্পর্কে তার ভাগ্নে হয়। তাই নাতনি হিসাবে মফিজুরের মেয়ের সঙ্গে মাঝে মাঝে দুষ্টুমি করি। এর বাইরে তাদের সঙ্গে আমার কোন খারাপ সম্পর্ক নেই। মফিজুর ছাড়াও এর আগে গ্রামের রবিউল চৌধুরী,নান্নু মোল্লা,সিরাজ কাজী,আকবার আলী,হবিবার চৌধুরী সহ আরো অনেকের বাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। রবিউল চৌধুরীর বাড়িতে পর পর দুই দিন আগুন দেয়া হয়। প্রথমে গোয়াল ঘরে আগুন দেয়া হলে রবিউলের দুইটি মূল্যবান গাভী দগ্ধ মারাত্মক আহত হয়। পরের দিনই পুনরায়  আগুন দেয়া হয় তার পাটকাঠির গাদায়। এভাবে ভুক্তভোগী সব পরিবারগুলোই আগুনে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ধারাবাহিক এই অগ্নি সন্ত্রাসের ঘটনায় বর্তমানে গ্রামজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ মোস্তফা বলেন,কে বা কারা এই নাশকতার সঙ্গে জড়িত তা স্পষ্ট নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসী চরম  অস্বস্তিতে রয়েছেন। গ্রামের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জরুরী বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান মোঃ কামাল আহমেদ বলেন,গ্রামটিতে চরম খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে। গুপ্ত আগুন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে কয়েকটি পরিবার পথে বসে গেছে। অপরাধী শনাক্ত না হওয়ায় প্রতিকারেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। চেয়ারম্যান বলেন,ক্ষতিগ্রস্থরা সবাই আওয়ামী পরিবারের লোক। বিগত ইউপি নির্বাচনে তারা নৌকা প্রতীকে আমাকে ভোট দেয়। মজার ব্যাপার হলো, বেছে বেছে কেবল আমার সমর্থকদের ঘরবাড়িতেই আগুন দেয়া হচ্ছে। আমার ধারণা, আমার বিপক্ষ কোন অশুভ শক্তি গ্রামটিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে এমন অপতৎপরতা চালাতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ।