“যেই মন্দিরের পুজো করতে গিয়ে অনেকে প্রান হারিয়েছে”


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৭, ২০২২, ৭:৩৮ অপরাহ্ন / ২৯৫
“যেই মন্দিরের পুজো করতে গিয়ে অনেকে প্রান হারিয়েছে”

“যেই মন্দিরের পুজো করতে গিয়ে অনেকে প্রান হারিয়েছে”
মো: ইয়াকুব আলী পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি –
যেই মন্দিরের পুজো করতে গিয়ে অনেকে প্রান হারিয়েছে বরদেশ্বরী বা বদেশ্বরী মন্দিরটি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের দেঃ ভিঃ বদেশ্বরী মৌজার প্রায় ২.৭৮ একর জমিতে (মন্দির ও পার্শবর্তী অংশসহ) অবস্থিত। হিন্দু ধর্মের ১৮টি পুরাণের মধ্যে স্কন্দ পুরাণ একটি। সেই স্কন্দ পুরাণে কাশি খণ্ডের ৮৮তম অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে যে, একবার রাজা দক্ষ একটি যজ্ঞানুষ্ঠান করেন। ভোলানাথ শিব হলেন রাজা দক্ষের মেয়ে সতীর স্বামী। রাজা দক্ষ কখনই শিবকে জামাই হিসেবে মেনে নেননি। কারণ মহাবীর শিব সর্বদাই ছিলেন উদাসীন এবং ধ্যানমগ্ন থাকতেন। উক্ত যজ্ঞানুষ্ঠানে মুনি-ঋষিগণ ও অন্যান্য দেবতাগণ নিমন্ত্রিত হলেও রাজা দক্ষ তার মেয়ে দেবী সতীকে ও জামাতা ভোলানাথ শিবকে নিমন্ত্রণ করেন নি। শিবের সহধর্মিনী দেবী সতী এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তার পিতা দক্ষের শিবহীন যজ্ঞে নিজের প্রাণ বলিদান দেন। শিব তার সহধর্মিনী সতীর মৃত্যুতে শোকে উন্মাদ হন। তার সহধর্মিনীর শবদেহটি কাঁধে নিয়ে পৃথিবীর সর্বস্তরে উন্মাদের ন্যায় ঘুরতে থাকেন এবং প্রলয়ের সৃষ্টি করেন। সে মুহূর্তে দেবতাদের আকুল আবেদনে বিষ্ণুদেব তাঁর সুদর্শনচক্র নিক্ষেপ করেন। চক্রের স্পর্শে সতীর শবদেহটি ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত হয়। শবের ৫১টি খণ্ডের মধ্যে বাংলাদেশে পড়ে ০২টি খন্ড। একটি চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে এবং অপরটি পঞ্চগড় এর বরদেশ্বরীতে বা বদেশ্বরীতে। মহামায়ার খন্ডিত অংশ যে স্থানে পড়েছে তাই পীঠস্থান রূপান্তরিত হয়েছে। বরদেশ্বরী মহাপীঠ অন্যতম পীঠস্থান। পরবর্তীতে, পাল রাজারা এখানে একটি মন্দির ও একটি দুর্গ নির্মাণ করেন। উক্ত মন্দিরের নাম অনুযায়ী বোদা উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে। করতোয়া নদীর তীর ঘেঁষে নির্মিত বরদেশ্বরী বা বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দিরটি এখনও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের নিদর্শন বহন করে।
মো: ইয়াকুব আলী
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
মোবাইল ০১৭৭৩৪৪৪৭৪৭