“মেহেরপুরে কলাই চাষে বাম্পার ফলনের আশা”


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৪, ২০২২, ৫:৪৬ অপরাহ্ন / ৩০৪
“মেহেরপুরে কলাই চাষে বাম্পার ফলনের আশা”
“মেহেরপুরে কলাই চাষে বাম্পার ফলনের আশা”
স্টাফ রিপোর্টারঃ
মেহেরপুরে চলতি মৌসুমে ব্যাপক ভাবে কলাই চাষ হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে কলাইয়ের চাষ সকল এলাকায় চোখে না পড়লেও এবার প্রায় প্রতিটা গ্রামেই কমবেশি কলাইয়ের চাষ চোখে পড়ার মতো। চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে কারণে অকারণে বৃষ্টিপাতের ফলে কৃষকের বেশ কিছু ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাষিরা যে যেমন ভাবে পারছে ক্ষেতে নতুন নতুন ফসল ফলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিগত বছরগুলোতে কলাইয়ের চাষ করা হলেও এবছরে জেলার বিস্তৃর্ণ মাঠ জুড়ে প্রায় দ্বিগুন কলাই চাষ চোখে মেলে। বীজ বপন এবং গাছ গজিয়ে ওঠার পর কলাই চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থের আশংকা করলেও তাদের ধারণা পাল্টে গেছে। কারণ বৃষ্টির পানিতে অধিকাংশ কলাই ক্ষেত ডুবে গেলেও এখন তা তরতর করে বেড়ে উঠেছে এবং কিছু কিছু জমিতে ফুল ও ফল লক্ষ্য করা গেছে। যা দেখে মন জুড়িয়ে যাবার মতো। তবে কোন কোন কলাই ক্ষেত মোজাইক রোগে (ভাইরাস রোগ) আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাসের বাহক পোকা দমনের জন্য ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের এসাটাফ, এডমায়ার, টিডোসহ উক্ত গ্রুপের যেকোনো ১ মিঃ লিঃ হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে পরামর্শ দিয়েছেন মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও ব্লক সুপার ভাইজারগণ। এদিকে ভাইরাস ও পোকার আক্রমণ কিছুটা পরিলক্ষিত হলেও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। মেহেরপুরের মাটি সকল ধরনের সবজি চাষের উপযোগী হওয়ায় এ জনপদের কৃষকরা দিন রাত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জমি থেকে ফসল ফলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যুগযুগ ধরে এই ধারাবাহিকতা প্রবাহমান রয়েছে। মাঝে মাঝে নানা প্রতিকুলতার মধ্যে পড়ে কৃষক সর্বশান্ত হয়ে পড়লেও সেসব দূর্যোগ মোকাবেলা করে কৃষক আবারও ঘুরে দাড়াতে চেষ্টা অব্যহত রাখে যেমনটি তারা বর্তমানে করছেন। শীতের সবজির পাশাপাশি নানা ধরনের চাষাবাদে তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যেয়ে কখনও বা অনাবৃষ্টিতে পুড়ে যে সমস্ত জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয় যায় এমন ক্ষেতেও চাষিরা এবার কলাই চাষ করেছেন। যা নজরে পড়ার মতো।
জেলার কল্যাণপুর, করমদী, সহড়াতলা, পলাশীপাড়া, হিন্দা, মাইলমারী, হিজলবাড়ীয়া, পশ্চিম মালশাদহ, বেতবাড়ীয়া, খড়মপুর, ধানখোলা, ভাটপাড়া, চিৎলা, মটমুড়া, চরগোয়াল গ্রাম, ভবানীপুর, রামনগর, হাড়াভাঙ্গা, কাজীপুর, রাইপুর, কাথুলী, সোনাপুর, বন্দর, পিরোজপুর, বলিয়ারপুর, কুতুবপুর, আমঝুপি, হরিরামপুর, বাজিতপুর, আশরাফপুর, আমদহ, মহাজনপুর, কেদারগঞ্জ ও দারিয়াপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে কলাই চাষের আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে। তবে জাতে রয়েছে ভিন্নতা।
রবিবার (২৩ অক্টোবর), সরেজমিন জেলার বুড়িপোতা ও ষোলটাকা ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে যেয়ে দেখা মেলে বিঘার পর বিঘা জমিতে দেশীয় জাতীয় নানা ধরনের কলাইয়ে শীতের আগমনে ক্ষেতে পোকার আক্রমন রোধে চাষিরা ক্ষেত পরিচর্যায় বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। হরিরামপুরের আব্দুস সালাম জানান, এ বছর বৃষ্টিতে চাষিদের অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ধান ও সবজির ক্ষতি সব থেকে বেশি হয়েছে। তাই বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলের ক্ষেতে একটু আগে ভাগেই কলাই চাষ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া চাষিদের অনুকুলে তাই যে, অবস্থা বিরাজ করছে তাতে করে কলাইয়ে বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বানিয়াপুকুর গ্রামের হাসান আলী বলেন, বাংলা সনের ভাদ্র মাসে জমি তৈরী করে কলাই বীজ বপন করতে হয়। আর ৯০ দিনের মধ্যে কলাই ঘরে চলে আসে। এটি অবশ্যই লাভজনক একটি ফসল। এক বিঘা জমিতে কলাই চাষ করতে খরচ খুবই কম। কীটনাশক, সার, সেচ প্রয়োজন ছাড়া দেওয়া লাগেনা। এমনকি ক্ষেতে আগাছা হলেও তা পরিচর্যা না করলেও কলাই এর কোন ক্ষতি হয়না। কোন ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে বিঘা প্রতি ১২ থেকে ১৪ মন করে কলাই উৎপাদন হয় বলে তিনি জানান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলাতে কলাইয়ের চাষ বিগত বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ চাষে আশানুরূপ ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
মাজিদ আল মামুন
মেহেরপুর প্রতিনিধি
০১৯১৫৩৫১৪৯৮