“ভোরের আকাশে ঘন কুয়াশা এযেন শীতের আগমনী বার্তা”


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৬, ২০২২, ৪:৫১ অপরাহ্ন / ৩৩৪
“ভোরের আকাশে ঘন কুয়াশা এযেন শীতের আগমনী বার্তা”
“ভোরের আকাশে ঘন কুয়াশা এযেন শীতের আগমনী বার্তা”
আব্দুল্লাহ আল মামুন যশোর জেলা প্রতিনিধি
বাংলা মাস আশ্বিনের আজ শেষ দিন। পৌষ আগমনের বাকি দুই মাস। কিন্তু প্রকৃতি এখনই শীতের পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে। ভোরে শিশিরসিক্ত করছে দূর্বাঘাস ও গাছপালা। সকালের কোমল রোদে মুক্তোদানার মতো জ্বলজ্বল করে। দিনে সূর্যের তাপের প্রখরতাও কমেছে। মাঠ-ঘাটে শ্রমজীবীরা একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন। পশ্চিমাকাশে সূর্য ঢলে পড়লে আরাম বোধ যেন আরও বেড়ে যায়। সকালের মতোই সন্ধ্যার পল্লি যেন নীল কুয়াশার আঁচলে আচ্ছাদিত হয়ে যায় পরম মমতায়। গ্রামবাংলা তো বটেই, শহরেও কখনো যায় শিরশিরে উত্তরা সমীরণ। রাত যত বাড়ে, তত শীতের অনুভবও বৃদ্ধি পায়। প্রকৃতির এই পরিবর্তন বার্তা দিচ্ছে এই বুঝি শীত এলো। প্রকৃতির এই রূপ অনেকের কাছেই প্রিয়। তাই হেমন্ত অনেক বাঙালির কাছেই প্রিয় ঋতু। এখন থেকে দিন যত গড়াবে পৌষের দিকে ততই সাইবেরিয়ান বায়ু প্রবাহ বাড়বে এ দেশ অভিমুখে। হিমালয়সংলগ্ন দেশের উত্তরের জেলাগুলোতে অবশ্য ইতোমধ্যে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ধীরে ধীরে জেঁকে বসছে শীত। পাশাপাশি বাড়ছে কুয়াশার প্রকোপ। যে কারণে সেখানে গোধূলিলগ্নে দেখা মেলে কুয়াশার। আবার কোথাও সন্ধ্যার পর থেকেই কুয়াশা এমনভাবে বিস্তৃত হয় যে, তা দৃষ্টিসীমা হরণ করার উপক্রম হয়। রাত পেরিয়ে যখন ভোরের আগমন ঘটে তখন গাঢ় কুয়াশার দেখা মেলে কোথাও। তার মধ্যেই উঁকি দেয় নবীন সূর্য। শীতের এই অনুভূতি উপভোগ করতে ইতোমধ্যে রূপসী বাংলার ঘরে ঘরে তুলে রাখা পাতলা কাঁথা আর চাদর-কম্বল স্থান পেতে শুরু করেছে খাট-চৌকিতে।
ইট-পাথরের শহরও ব্যতিক্রম নয়। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরে  শীতের আমেজ বেশ ভালো করেই বোঝা যাচ্ছে। কমেছে ফ্যানের ঘূর্ণন গতি। সন্ধ্যায় কিছুটা প্রয়োজন হলেও ভোরের দিকে একেবারেই ভিন্ন চিত্র। ফ্যান আর শীতাতপ যন্ত্র বন্ধ করে দিতে হয়। ঘুমের ঘোরে অনেকে খুঁজে নেন উষ্ণতার অবলম্বন। আবার যাদের মাঝ-রাতে বিছানায় যাওয়ার অভ্যাস তাদের অনেকে দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন। এসবই শীত থেকে পরিত্রাণের প্রচেষ্টা। তবে নগরবাসীর মতে, এই আবহাওয়াকে শীত বলা যাবে না, এটা শীতানুভূতি। নাতিশীতোষ্ণ পরিস্থিতি। যশোর জেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, যশোর মনিরামপুর কেশবপুরে সন্ধ্যা রাতে সামান্য গরম ভাব থাকলেও শেষ রাতে ফ্যান বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় অনেকেই খাপ-খাওয়াতে পারছেন না। যে কারণে কেউ কেউ সর্দি-জ্বর, কাশিসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সব বয়সির মধ্যে এই সমস্যা দেখা গেলেও শিশু আর বয়স্করা একটু বেশি ঠান্ডা জ্বর কাশিতে আক্রান্ত। তবে চিকিৎসকরা বলেন প্রতিবছর আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় এমনটা হয়ে থাকে। এতে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।