ভাড়ায় প্রক্সি, কাস্টমসের হাতে গ্রেপ্তার ২৩ জন।


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৩১, ২০২২, ৫:২৪ অপরাহ্ন / ৪৫০
ভাড়ায় প্রক্সি, কাস্টমসের হাতে গ্রেপ্তার ২৩ জন।

ভাড়ায় প্রক্সি, কাস্টমসের হাতে গ্রেপ্তার ২৩ জন।
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সিপাহী পদে জনবল নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‘পরীক্ষার্থী’ ভাড়া করে লিখিত পরীক্ষা দিয়ে মৌখিকে এসে তারা ধরা পড়েন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর সাগরিকা রোডে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট প্রশিক্ষণ একাডেমি থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার
করে পাহাড়তলী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রফিকুল ইসলাম (৩৪), শামীম আখন্দ (৩০), শামীম প্রধান (৩০),
শাহেদ মিয়া (২৮) ও মো. নূরনবী (৩৪)। এর আগে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার ১৮ জনকে গত মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে
কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন আবুল বাশার (৩৪), এনামুল হক (৩০), শহীদুল ইসলাম (৩৪), রফিকুল ইসলাম
(২৮), আব্দুর রশিদ (৩৭), সবুজ চন্দ্র (৩৫), জয় বন্দ্র দে (২৮), বাবুল মিয়া (৩৩), মোবারক হোসেন (২৭),
আকতারুজ্জামান (৩৬), খলিলুর রহমান (৩১), আরিফুর রহমান (২৮), সুজন সরকার (২৯), নিতোষ চাকমা (৩২),
সোহেল রানা (২৮), মো. ইলিয়াছ (৩২), কাজী দেলোয়ার হোসেন (৩৮) এবং মো. মহিউদ্দিন (২৯)।
জানা গেছে, ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে দুই দফায় সিপাহী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছিল। কিন্তু
আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত ছিল। জটিলতা অবসানের পর গত ১১ নভেম্বর থেকে ১০
ডিসেম্বর পর্যন্ত একমাস ধরে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতার পরীক্ষা নেওয়া হয়। ২৩ ডিসেম্বর প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা
সম্পন্ন হয়।
পরে গত সোমবার থেকে শুরু হয় মৌখিক পরীক্ষা। তিনদিন ধরে চলা পরীক্ষার শেষদিন ছিল গতকাল বুধবার। নগর
পুলিশের পাহাড়তলী জোনের সহকারী কমিশনার একেএম মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘মৌখিক পরীক্ষার প্রথমদিন ১৮ জন
এবং গতকাল বুধবার শেষদিনে আরও ৫ জনকে কাস্টমস কর্মকর্তারা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তারা কেউই
লিখিত পরীক্ষা দেননি। পরীক্ষার্থী ভাড়া করে তাদের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে
জানিয়েছে, ১০ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকায় তারা প্রক্সি পরীক্ষার্থী ভাড়া করেন।’
পুলিশ জানায়, প্রথম দফায় গ্রেপ্তার ১৮ জনের বিরুদ্ধে পাহাড়তলী থানায় মামলা দায়ের করেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী
রাজস্ব কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ চৌধুরী। এদের মধ্যে ১৭ জনকে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজিরের পর কারাগারে
পাঠানো হয়। মহিউদ্দিন নামে এক প্রার্থী আটকের পর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে পুলিশ হেফাজতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলায় গ্রেপ্তার ১৮ জনের
পাশাপাশি তাদের হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অজ্ঞাতনামা ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী পাহাড়তলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক জানান, চট্টগ্রাম কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার ড.
আবু নুর রাশেদ আহমেদের নেতৃত্বাধীন নিয়োগ কমিটির সদস্যরা জালিয়াতির বিষয়টি উদঘাটন করেন। মৌখিক পরীক্ষার
শুরুতে লিখিত পরীক্ষার স্বাক্ষর পাতার স্বাক্ষরের সঙ্গে মৌখিকের মিল আছে কি না যাচাই করা হয়। সেখানে ২৩ জনের
স্বাক্ষরে অমিল পাওয়া যায়। তাদের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় লিখিত পরীক্ষার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জিজ্ঞাসা করা হয়।
কিন্তু কেউই সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। এরপর নিয়োগ কমিটি তাদের আটক করে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের হাতে তুলে
দেয়।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আড়াই কেজি স্বর্ণ আটক করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সদস্যরা।
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ

চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে আড়াই কেজি স্বর্ণসহ এক যাত্রীকে আটক করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সদস্যরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক তাসলীম আহমেদ। আটকের নাম জসিম উদ্দিন। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা।
জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এয়ার এরাবিয়ার জি৯-৫২৬ ফ্লাইটে শারজাহ থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে
পৌঁছান জসিম। চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে সাড়ে ১০টার দিকে তাকে চ্যালেঞ্জ করে ব্যাগ তল্লাশি চালান
এনএসআই সদস্যরা। এ সময় দুই কেজি ৯০ গ্রাম স্বর্ণ, দুটি সোনার বার ও ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট দুই
কেজি ৪২৩ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী। উদ্ধার করা এসব
জিনিসের দাম এক কোটি ৬৭ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩১ টাকা।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক তাসলীম আহমেদ বলেন, একটি কুকিং মেশিনের ভেতরে কয়েলে
রূপান্তর করে এসব স্বর্ণ আনেন ওই যাত্রী। উদ্ধার করা স্বর্ণ বিমানবন্দর কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স-এর কাছে হস্তান্তর
করা হয়েছে। আটকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাউজানে অগ্নিদগ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ

রাউজানে গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রান্না করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হওয়া গৃহবধূ সানজিদা সুলতানা (২২) মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে ঘটনার দুই সপ্তাহ পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া সানজিদা রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম গ্রামের হানিফ শেঠের ছেলে
মোহাম্মদ রাসেলের স্ত্রী। গ্যাসের চুলায় রান্না করতে গিয়ে তার কাপড়ে আগুন লাগলে তিনি দগ্ধ হন। পরিবারের
সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জয়নাল বলেন, স্বামীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা
যায়– রান্না করার সময় ওই নারীর পরনে ত্রিপিস ছিল। গলায় থাকা ওড়নার এক কোণায় আগুন লাগলে সারা
শরীরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের মা এই ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই বলে জবানবন্দি
দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গৃহবধূ সানজিদা নগরের বায়জিদ থানাধীন বকসি নগরের বকসু মাঝি বাড়ির মৃত নেজাম উদ্দিনের
কন্যা। তার দুই বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।