বড় দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এ্যাড.গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার এমপি।


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৬, ২০২২, ৬:৪৪ অপরাহ্ন / ৪৬৩
বড় দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এ্যাড.গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার এমপি।
বড় দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এ্যাড.গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার এমপি।
মোঃ শামীম হোসেন – খুলনা
বড় দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য এ্যাড. গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার এমপি।  দুই সহস্রধিক বছর আগে জেরুজালেমের কাছাকাছি বেথলেহেম নগরীর এক গোয়াল ঘরে জন্মে ছিলেন খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। ৩০ বছরের স্বল্পস্থায়ী জীবনে তিনি মানুষকে শুনিয়েছেন শান্তির বানী, ভালোবাসার কথা। বড়দিন উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, আইন ও বিচার বিভাগীয় সংসদীয় কমিটির স্থায়ী সদস্য এ্যাড.গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার এমপি। এমপি ঝর্ণা বলেন, শুভ বড়দিন, খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিষ্টের শুভ জন্মদিন। হিংসা ও পাপাচার থেকে মানুষকে মুক্তির পথে ডেকেছেন যিশু খ্রিষ্ট। সংযম ও পরম সহিষ্ণুতায় মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। তিনি বলে গেছেন সাম্যের কথা। শত নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মাঝেও সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকেছেন, যা আজও তার অনুসারীদের অনুপ্রাণিত করে। এমপি ঝর্ণা আরো বলেন, এই দিনে সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও অত্যন্ত আনন্দ ঘন পরিবেশে বড়দিন উদযাপন করেন। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন দৃশ্যমান হয় শুভ বড়দিনে। আমি বিশ্বাস করি শত বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হবে। সবার জন্য শুভ কামনা ও বড় দিনের শুভেচ্ছা।
অস্তিত্ব সংকটে খুলনার দাকোপের বাজুয়া চুনকুড়ি-কচা নদীসহ উপজেলার সকল নদী।
মোঃ শামীম হোসেন- খুলনা –
অস্তিত্ব সংকটে খুলনার দাকোপের বাজুয়া চুনকুড়ি-কচা নদীসহ উপজেলার সকল নদী। দখল, কচড়ি পানা ও দূষণে স্বাভাবিক গতি হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে নদীটি। বাজুয়ার চুনকুড়ি-কচা নদী দীর্ঘদিন ধরেই নদীটির গলায় ফাঁস দেওয়ার আয়োজন চললেও রক্ষায় এগিয়ে আসেনি কেউ। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস হলেই নদীটি উদ্ধার ও সংস্কার করা হবে। জানা যায়, দাকোপ উপজেলার বাজুয়া স্লুইচ গেট দিয়ে কচা, চুনকুড়ি সংলগ্ন এলাকা হয়ে পোদ্দার গঞ্জ গেট দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে নদীটি। সেখান থেকে নদীটি পশুর নদীতে গিয়ে মিশেছে।
নদীটি এখন কচড়িপানাতে ভরে গেছে।এক সময় এই নদী দিয়ে নৌকা চালিয়ে শত শত মানুষ জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতো। এখন আর নৌকা চালানোর কোন উপায় নেই। একদিকে দখলদারদের দখলের দাপটে নদীর দুইকুল দখল করে পুকুর, বাড়ি, ঘর করে নিজেদের দখলে রেখে নদীর আয়তন কমিয়ে ফেলেছে অন্য দিকে কচড়িপানায় নদী ব্যবহারের উপায় নাই। এক সময় এই নদীতে নৌকা চালাতো কচা গ্রামের সুব্রত তিনি বলেন এখন আর নদী দিয়ে নৌকা চালানোর উপায় নাই। নদীটি সংস্কারের অভাবে মৃত প্রায়। আমার বাবা, ঠাকুরদা নৌকা চালিয়েছে তাদের সাথে আমিও নৌকা চালিয়েছি এখন শুধু গল্প ছাড়া আর কিছুই না। সরেজমিন উপজেলার দাকোপ, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব, বানিশান্তা ইউনিয়নসহ সকল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দখলদাররা ভবন নির্মাণ, ময়লা ফেলার ভাগাড় ও মাছ চাষসহ নানা কাজে ব্যবহার করছেন। কোথাও কোথাও নদীর দুই পাশ দখল করে সরু করা হয়েছে। কোথাও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। আবার কোথাও নেটপাটা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে নদীর প্রবাহ আটকে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। নদীর প্রকৃত সীমানা যেমন চিহ্নিত নেই, তেমনি কে কোথায় কতটুকু দখলে নিয়েছে তারও পুরোপুরি হিসাব কেউ দিতে পারেননি। ফলে এক সময়ের প্রবাহমান নদীটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বাজুয়া এলাকার ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দীনবন্ধু মন্ডল বলেন, এক সময় নদীতে স্রোত ছিল। নদীপাড়ের লোকজন নানা অজুহাতে তা দখল করেছে। এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনেও খনন কিংবা নদী সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে নদীটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ফলে এলাকার কৃষকদের তরমুজ, ধানসহ কৃষি ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। বাজুয়া এলাকার প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা অশোক রায় তারক বলেন, প্রভাবশালীরা নদী দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। কিন্তু নদীরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এজন্য নদী দখলে কেউ পিছিয়ে নেই। যার যতটুকু সুযোগ আছে, সে ততটুকু দখল করে বসে আছে। নাম প্রকাশ না করে কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসংলগ্ন এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, নেটপাটা দিয়ে নদীর পানি প্রবাহ আটকে রেখে মাছ চাষ করছে এলাকার কতিপয় ব্যক্তি। তারা জালিয়াতির মাধ্যমে এটিকে খাল দেখিয়ে ডিসি অফিস থেকে লিজ নিয়েছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে লিজ বাতিল করে ডিসি অফিস। কিন্তু আজও অবৈধ নেটপাটা রয়ে গেছে। এভাবেই মাছ চাষ চলছে। এলাকার মানুষ পানিতেও নামতে পারে না। ওইসব প্রভাবশালীরা পানিতে নামলেই মারধর করে। স্থানীয়রা আরও জানান, স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় নদী মরা খালে পরিণত হয়েছে। ছোট ছোট খাল হিসেবে যে যার মতো দখল করেছেন। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও খনন ছাড়া নদীকে বাঁচানো সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নদী ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠনের নেতা কৈলাশগঞ্জের কৃতি সন্তান, অন্যায়ের প্রতিবাদী ওয়ার্কার্স পার্টিরনেতা গৌরাঙ্গ রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মূলত নদীটা যাদের দেখার কথা, সেই কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। অনৈতিক সুযোগ নিয়েই স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখল করার সুযোগ দিয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, নদী সংরক্ষণ আইন আছে, তবে সুষ্ঠু প্রয়োগ হয় না। এজন্য শুধু দাকোপ উপজেলা নয়; সকল এলাকার অনেক নদীই আজ দখল হয়ে রয়েছে। নদীগুলো মারা যাওয়ার ফলে পরিবেশ, চাষাবাদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসলেও কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে না বসায় কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এই বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড দাকোপ নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, দাকোপের সকল নদী খনন ও দখলমুক্ত করার জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রকল্প পাস হলেই নদী রক্ষার কাজ শুরু হবে।