বাঘায় মহিলা অটোরিক্সাচালকের আবদার পূরণ করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৭, ২০২২, ৫:৩৫ অপরাহ্ন / ৩৭৩
বাঘায় মহিলা অটোরিক্সাচালকের আবদার পূরণ করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বাঘায় মহিলা অটোরিক্সাচালকের আবদার পূরণ করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
আবুল হাশেম, রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ
জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে  অটোরিক্সা চালাচ্ছেন জায়েদা বেগম নামে এক নারী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা দু’মুঠো ভাতের জন্য কিস্তিতে কেনা অটো নিয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটে বেড়ান তিনি। জায়েদা বেগমের বাড়ি বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জোতকাদিরপুর গ্রামে। জায়েদা বেগম জীবন-জীবিকার তাগিদে গৃহিণী পেশা ছেড়ে ধরেছেন অটোর হ্যান্ডেল। সমাজে পুরুষের পাশাপাশি জায়েদা বেগম মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তার স্বামী শাহ জামাল আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছে।আর তাকে তালাক দিয়েছে। তারপর তিনি নিরুপায় হয়ে পড়েন। অবশেষে  অটো চালানো পেশা বেছে নিয়েছেন। জায়েদা বেগমের দরিদ্র পরিবারে জন্ম। অন্যদিকে কালো চেহারার বলে কেউ বিয়ে করতে চায়নি। ফলে ৩০ বছর বয়সে বিয়ে করেন। বছর খানেক সংসার করেন। তারপর অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন স্বামী অন্যত্র চলে যায়।
তখন জীবন-জীবিকার তাগিদে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাতেন। ইতিমধ্যে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান। অভাবি সংসারে ভারতের সীমান্তবর্তী পদ্মার দুর্গম বাংলাবাজার চর ছেড়ে ছেলে জায়দুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রায় ৩০ বছর আগে চলে আসেন উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জোতকাদিরপুর গ্রামে। এই গ্রামে ৫ কাঠা জমি কিনে শুরু করেন নতুন জীবন। খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার তাগিদে কোনো পেশাকে ছোট করে দেখেননি জায়েদা বেগম। এভাবেই পার করেন জীবনের ৫৫ বছর।
স্থানীয় এক এনজিও থেকে কিস্তিতে ৩২ হাজার টাকা নিয়ে প্রথমে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনেন। নিজ এলাকায় কয়েকদিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে রাস্তায় নামেন ভ্যান নিয়ে। এভাবে শুরু করে চলে যায় ৫ – ৭ বছর। হঠাৎ করেই অটোর ব্যাটারী নষ্ট হওয়ায় বিপাকে পড়ে জায়দা বেগম।
গত শনিবার(৩ ডিসেম্বর) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চারঘাট-বাঘার মাননীয় সাংসদ আসেন রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বামতীরের স্থাপনাসমূহ নদী ভাঙ্গন হতে রক্ষা প্রকল্পের ড্রেজিং কাজের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে আসেন। রাস্তায় দেখা হয় জায়েদা বেগম এর সাথে। প্রতিমন্ত্রী জায়েদার খোজ খবর নিতে এগিয়ে যান তার কাছে। তাদের কথোপকথন এর একপর্যায়ে জায়েদা বেগম তার গাড়ির জন্য এক সেট ব্যাটারি চাই প্রতিমন্ত্রীর কাছে। ব্যাটারিটি দিতে চেয়ে আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রীও। ঘটনাটির দুইদিন যেতে না যেতেই সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পাকুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন আহ্বায়ক সামিউল আলম নয়ন সরকার ব্যাটারি কেনার জন্য নগদ ৩২ হাজার টাকা প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে জায়েদা বেগমের হাতে তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পাকুড়িয়া ইউনিয়ন কৃষকলীগ সভাপতি মজিবুর রহমান, পাকুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ এনামুল হক, রফিকুল ইসলাম (শিক্ষক), সাবেক যুব নেতা সুজন প্রাং,আসাদুল ইসলাম প্রমুখ।
পাকুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহবায়ক সামিউল আলম নয়ন সরকার জানান, আমার প্রাণপ্রিয় নেতা, অভিভাবক, গণমানুষের নেতা চারঘাট-বাঘার ৬ আসনের সাংসদ ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মোঃ শাহরিয়ার আলম এর নিকট আর্থিক   অনুদানের আবেদন করেছিলেন জায়েদা বেগম। জায়েদা বেগম এর অটো ভ্যানগাড়ীটির ব্যাটারী নষ্ট হওয়ার কারণে নতুন ব্যাটারি ক্রয়ের জন্য নগদ ৩২ হাজার টাকা উপহার পাঠিয়েছেন। আমি শুধু আমার নেতার পক্ষে জাহেদা বেগমের হাতে উপহার টি তুলে দিয়েছি মাত্র। নগদ অর্থ পেয়ে তার চোখেমুখে তৃপ্তি আর আনন্দের ছাপ দেখেছি। কাপড়ের আঁচলে চোখের পানি মুছে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের জন্য দোয়া করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে এ কাজটি করতে পেরে নিজে গর্ববোধ করছি।