বাঁশখালীতে বিষাক্ত কেমিক্যাল ছিটিয়ে জ্বালছে দিলো ২৮০ শতক ধানক্ষেত


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৭, ২০২৩, ১০:২৬ অপরাহ্ন / ১৩২
বাঁশখালীতে বিষাক্ত কেমিক্যাল ছিটিয়ে জ্বালছে দিলো ২৮০ শতক ধানক্ষেত

বাঁশখালী প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বাহার ছাড়া ইউনিয়নে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে কেমিক্যাল ছিটিয়ে ২৮০ শতক বা ৩ একর অধিক জমির ধানক্ষেত জ্বলছে দিয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৪ লক্ষাধিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে ভুক্তভোগী সুত্রে জানা গেছে।জানা যায়, উপজেলার বাহারচড়া ইউনিয়নের মধ্যম ইলশা গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ড থেকে জমি বিরোধে পূর্ব শত্রুতার জেরে আব্দুল কাদেরের বসতঘরের সামান্য পশ্চিমে বিলের মাঝখানে কৃষি জমির ধানক্ষেতে কে বা কাহারা বিষাক্ত কেমিক্যাল ছিটাইয়ে দিয়েছে, এতে প্রায় ৮ কানি বা ৩ একর অধিক জমির ধানক্ষেত জ্বলছে গেছে। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায় জ্বলছে যাওয়া ধানক্ষেতের মর্মান্তিক দৃশ্য।

পরিদর্শনকালে মফিজুর রহমান, রহিম উদ্দিন, মোঃ তারেক, মোঃ করিমসহ ভুক্তভোগীরা বলেন,৭ নং ওয়াডের মৃত আবুল কালামের ছেলে আবু নাছের, আবুল বাশার, মৃত শফি আহমদের পুত্র মোঃ বেলাল এবং মৃত নজরুল ইসলামের পুত্র আব্দুল মজিদ ওরফে মারুফ গংদের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ জায়গা জমি সংক্রান্তে বিরোধ চলছে, এই সংক্রান্তে অভিযুক্তদের পক্ষে হারুন রশীদ গং বাদী হয়ে আমাদের বিবাদী করে মামলা নং ২৩/৬৮ ইং দায়ের করেছিল, ওই মামলায় আমরা ভুক্তভোগী বিবাদী গণের পক্ষে ১৯৮৪ সনে রায় ডিগ্রি প্রদান করেন মাননীয় আদালতের বিচারক। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত হারুন রশীদ গংরা আপীল মামলা নং ২৪/৮৪ ইং দায়ের করিলে মাননীয় বিচারক মহোদয় ২০১৭ সনে ওই মামলায় দুই পক্ষকে পার্ট ডিগ্রি প্রদান করিলেও, এতে আমাদের কাংখিত সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়াতে ওই পার্ট ডিগ্রী স্থগিত করনের প্রার্থনায় আমরা ভুক্তভোগী পক্ষ বাদী হয়ে মাননীয় ১ম অতিরিক্ত জেলা জর্জ আদালতে অপর আপিল মামলা নং ৪১৯/১৭ ইং দায়ের করিলে নালিশি জমির সমস্ত বৈধ কাগজ পত্রাদি পর্যালোচনা করিয়া মাননীয় আদালতের বিচারক মহোদয় গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখে রায়ের কার্যক্রম মামলার পরবর্তী ধার্য্য তারিখ পর্যন্ত স্থগিত রাখার আদেশ দেন আদালত। ওই স্থগিত আদেশ অদ্যবদি পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে।কিন্তু এরই মধ্যে অভিযুক্তরা আমাদের দখলীয় জমি জবরদখলের চেষ্টায় বিভিন্ন ভাবে আমাদের পরিবারের ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছে।এরই প্রেক্ষিতে রবিবার দিবাগত রাতের আঁধারে বিষাক্ত কেমিক্যাল ছিটিয়ে প্রায় ৮ কানি বা ৩ একর অধিক জমির সমস্ত ধানক্ষেত জ্বলছে দিয়েছে তারা।এছাড়াও ইতিপূর্বে আমাদের দখলীয় ওই জমিতে ধান চারা রোপণ করেছিলাম,কিন্তু রোপণকৃত ধান চারা গুলো ধ্বংস করে দিয়েছিল অভিযুক্ত আবু নাছের, আবুল বাশার, বেলাল,মারুফ গংরা।
ওই ঘটনার পর ভুক্তভোগী মফিজুর রহমান গং বাদী হয়ে অভিযুক্ত আবু নাছের গংদের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় ৩৬৬/২৩ ইং মামলা দায়ের করেছি, এতে আসামীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে আমাদের ক্ষতি সাধন করার লক্ষ্যে রাতের আঁধারে ধানক্ষেতে বিষাক্ত কেমিক্যাল ছিটিয়ে ধানক্ষেত জ্বলছে দিয়েছে তারা। এতে জমি মালিক মফিজুর রহমান গংদের অন্তত ৪ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।সরকার দেশের খাদ্য সংকট নিরসনে কল্পে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনাবাদি কৃষি জমিতেও ধান চাষে উদ্ভুদ্ধ করতে কৃষকদের নানা ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, এরই মধ্যে দেশের উন্নয়নকে ধ্বংস করতে অভিযুক্ত আবু নাছের গংরা কৃষি জমিতে আমাদের রোপণকৃত ধানক্ষেত কেমিক্যাল ছিটিয়ে জ্বলছে দিয়েছে। আমরা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিপুরণ ফেতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান বলেন, তাদের দু’পক্ষের মধ্যে এই জমি সংক্রান্তে দীর্ঘদিন যাবৎ মামলা চলছে,স্থানীয় ভাবেও অনেক বিচার আচারও হয়েছে। মানুষের প্রতি মানুষের শত্রুতা থাকতেই পারে কিন্তু মানুষ প্রাণ বেঁচে থাকার একমাত্র উপদান এই ধানের প্রতি শত্রুতামি করা জঘন্য কাজ। এতে জমি মালিকদের বড় ধরনের ক্ষতি করে দিয়েছে, যারা এই কাজ করছে তদন্ত করে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার বলে আমি মনে করি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী অফিসার রকি মুহরি, তিনি বলেন, ধান চারা গুলো যেভাবে জলছে গেছে তা দেখে বিষাক্ত কেমিক্যাল ছিটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ছালেক জানান,বিষাক্ত কেমিক্যাল ছিটিয়ে কৃষকের ধানক্ষেত জ্বলছে দেয়ার বিষয়টি খবর পেয়ে উপ-সহকারী রকি মুহরি জ্বলছে যাওয়া ধানক্ষেত এলাকাটি পরিদর্শন করেছে, বিষাক্ত কেমিক্যাল ছিটিয়ে কৃষকদের এমন ক্ষতি যে বা যারা করেছে তারা জঘন্য অপরাধ করেছে।ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে ভুক্তভোগীদের আইনানুগ সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।