বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে খাবার মানে নয়-ছয়, দামে চড়া!


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২১, ২০২২, ৫:২৫ অপরাহ্ন / ৪৬৯
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে খাবার মানে নয়-ছয়, দামে চড়া!

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে খাবার মানে নয়-ছয়, দামে চড়া!

বরিশাল:  নিত্যপ্রোয়জনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখিয়ে চড়া দামে খাবার বিক্রি
করছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে
চরম অসন্তোষ দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাবারের দাম অনেক বেশি হলেও মান খুবই
খারাপ।এছাড়া নোংরা পরিবেশে করা হয় খাবার পরিবেশন। পঁচা-বাসি খাবারও গরম করে পুনরায় বিক্রির
অভিযোগও করেন তারা।সরেজমিনে ক্যাফেটেরিয়া ঘুরে দেখা গেছে, ভাত,মাছ,মাংস,সবজি, সিংগারা,
চমুচা, পরোটা, ভাজিসহ অন্যান্য ভারি খাবার পাওয়া এ যায় এখানে। এসব খাবারের মধ্যে অধিকাংশই
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও টেবিলের নিচে
ফ্লোরে ঢাকনা ছাড়া রয়েছে রান্না করা তরকারি। এর ওপর ভনভন করছে মাছি।খাবারের দামও আগের
তুলনায় বেশি রাখা হচ্ছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, খাবারের মান খারাপ।
সিঙ্গারা,সামুচা, রোলসহ অন্যান্য আইটেমগুলো আগের দিনের থাকে গরম করে দেওয়া হয়। খাবারের
মান নিয়ে কথা বলতে গেলে কাউন্টারে দায়িত্বরত থাকা ব্যক্তিরা উল্টো ছাত্রদের সাথে এমন
ব্যবহার করেন যেন শিক্ষার্থীরা তাদের হাতে জিম্মি।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বরি’র
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান খাবারের মান ও দাম নিয়ে প্রশ্নতুলে একটি পোস্ট
করেছেন। সেখানে তিনি লিখেন , ‘আজ আমি মোরগ পোলাউ কিনতে আসি। আমায় বলা হলো ৬০ টাকা।
আগে মোরগ পোলাও অথবা মুরগির তেহারী ৪৫ টাকা ছিলো। সেখান থেকে দায়িত্ব পরিবর্তন হওয়ার
পরে ৫০ হলো। আজ ক্যাফেটেরিয়াতে সেইম সাইজের মাংস নাম পরিবর্তন করে রোস্ট পোলাও নাম
দিয়ে ৬০ টাকা করা হলো।কিন্তু রোস্ট পিস (১/৪) করা হয়নি। কি হচ্ছে ক্যাফেটেরিয়াতে! রাইসের
পরিমান কমছে, মাংস এর পরিমাণ কমছে, সিংগারা এর সাইজ ছোট হয়েছে। পরাটা যেন একটা টিস্যু
পেপার! মাছের দাম বাড়িয়ে হয়রানি করে! কেউ কিছু বলতে গেলে বাকবিতন্ডায় জড়ায়। কেউ কি নেই
দেখার?। তিনি আরো লিখেন, ক্যাফেটেরিয়ায় যদি বাহিরের মতো ব্যবসা করতে চায় তাহলে কেন
ক্যাফেটেরিয়ার সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে উনি।তির্থ বিশ্বাস নামে আরেক শিক্ষার্থী ঐ পোস্টে মন্তব্য
করেছেন,আমি শুনেছি, আমাদের সিনিয়রদের প্রতিবাদের ভাষা এতটাই প্রবল ছিল যে ভিসি পর্যন্ত
পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। আর এখন, জহির ভাইয়ের খাবার খেয়ে মেট্রোনিডাজল কিনে নিঃশব্দে
ঘরে ফেরা লাগে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, এর
আগে আমায় পঁচা সিঙ্গারা দিয়েছে। তা নোটিশ করলে খাবার পরিবেশনের পরিচালক জহিরুল ইসলাম
আমার সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। আসলে তিনি কোনো অভিযোগ আমলে নেন না।এ বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার
পরিচালক জ্যোতির্ময় বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মৌখিকভাবে আমি যে
অভিযোগগুলো পেয়েছি তা সমাধান করার চেষ্ঠা করেছি। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
যে যেভাবে আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছে আমি সে ভাবে সমাধান করার চেষ্টা করেছি। খাবারের মান
নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খাবারের মান যাচাই করবে শিক্ষার্থীরা। যারা লিখিত অভিযোগ করবে
তাদেরকে নিয়ে আমি এরপর বসে সিদ্ধান্ত নিবো কি করা উচিত। তারাই ক্যাফেটরিয়া পরিচালনার
জন্য লোকজন এনে দিবে, এবং তারাই ক্যাফেটরিয়ার খাবার সরবরাহ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্য প্রফেসর ড.মো.ছাদেকুল আরেফিন শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, এ বিষয়টা
আমি অবশ্যই দেখবো। আমাকে অবহিত করানোর জন্য ধন্যবাদ।

শেবাচিমে বিনা চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বরিশাল:  বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সঠিক
চিকিৎসা না পেয়ে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রবের মেয়ে রেনু বেগম
মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রেনু বেগম বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের
৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালাম চৌধুরীর স্ত্রী এবং ২ নম্বর সেক্টরের
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রবের মেয়ে। এ ঘটনায় হাসপাতাল পরিচালকের
কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো বিচার পাচ্ছে না ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযুক্ত চিকিৎসক হলেন কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা.
মুশফিকুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব পালনে কোনো প্রতিহিংসা চরিতার্থ
করেননি তিনি। তারপরও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলায় হতবাক হয়েছেন।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। চলতি সপ্তাহে প্রতিবেদন
দাখিল করা হবে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রোগীর ছেলে আরাফাত চৌধুরী বলেন, মা ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট গুরুতর
অসুস্থ হলে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। ওখানে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে কার্ডিওলজি বিভাগের
বিভাগীয় প্রধান ডা. এম.এ সালেহউদ্দিন আহম্মেদ আমাদের জানান, রোগীকে
আরও দুই দিন পর্যবেক্ষণের পরে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু ১০টার দিকে এসে
কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মুশফিকুজ্জামান মাকে ছাড়পত্র
দিয়ে দেন। তখন আমরা তাকে বিভাগীয় প্রধানের দুই দিন পর্যবেক্ষণের কথা
বললে তিনি আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। আমাকে ও আমার বোনকে
মারধর করতেও উদ্যত হন। তিনি বলেন, আমরা তখন বাসায় চলে আসতে
বাধ্য হই। এরপর আরও তিনবার অসুস্থ হয়ে পড়েন মা। কিন্তু হাসপাতালে
ভর্তি করা হলে মা যখনই ডা. মুশফিকুজ্জামানের সামনে পড়েছেন, তখনই
তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর মা ভর্তি হন।
ডা. মুশফিকুজ্জামান মাকে দেখে ১৯ তারিখ ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয়। আবার
২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভর্তি হন। এরপর ডা. মুশফিকুজ্জামানের সামনে
পড়েন এবং তিনি ২৫ আগস্ট ছাড়পত্র দিয়ে দেন। যেদিন আমার মা মারা
যান তার আগের দিনও তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয়। রোগীর ওই স্বজন
বলেন, ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমরা
হাসপাতালে নিলে ডা. মুশফিকুজ্জামান ছাড়পত্র দিয়ে দেন। কিছু পরীক্ষা করিয়ে
নিয়ে আসতে বলেন। সেই রিপোর্টও দেখেন না। মায়ের অবস্থা তখন খুবই
খারাপ ছিল। শেষে উপায় না পেয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই।
সেখানে চিকিৎসক না পেয়ে পুনরায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করি। আমার মা ২৯ নভেম্বর সেখানে মারা
যান। তিনি আরও বলেন, ছাড়পত্র দেওয়া নিয়ে তর্কাতর্কির সূত্র ধরে
প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমার মাকে সঠিক চিকিৎসা দেয়নি হাসপাতাল।
এমনকি উপায় না পেয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাতি পরিচয় দেওয়ায় ডা.

মুশফিকুজ্জামান ধমক দিয়ে বলেন, ওসব গল্প জনসভায় বলবেন। রেনু
বেগমের স্বামী আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, ছাড়পত্র দেওয়া নিয়ে
ছেলেমেয়েদের সাথে তর্কাতর্কি হওয়ার পর যখন সঠিকভাবে চিকিৎসা
দিচ্ছিলেন না ডা. মুশফিকুজ্জামান, তখন আমি তার কাছে হাত জোর করে
ক্ষমাও চেয়েছি। আমাদের ভুল না হলেও ভুল বলে মাফ চেয়েছি। কিন্তু তিনি
বলেছেন, আমার মেয়ে এসে যদি তার পা ধরে মাফ চায়, তাহলে বিচেনা
করে দেখবেন চিকিৎসা হাসপাতালে দেওয়া যায় কি না। আমার স্ত্রীর মৃত্যুর
পরে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে অভিযোগ দিলেও তারা টালবাহানা
করছেন। ডাক্তারের অবহেলায় আমার রোগীর মৃত্যু হলেও তার কোনো
প্রতিকার পাচ্ছি না। আমার স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য দায়ী ডা. মুশফিকুজ্জামানের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন
কার্ডিওলজলি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মুশফিকুজ্জামান। তিনি বলেন,
মৃত ব্যক্তির প্রতি আমার সমবেদনা রয়েছে। চিকিৎসা পেশায় কাউকে সুখী
করা অনেক দুঃসাধ্য। হৃদরোগ বিভাগে তা আরও দুঃসাধ্য। রোগী মারা
যাওয়ার পর অনেক অভিযোগ আসে, তবে আপনাদের (প্রতিবেদক) বুঝতে
হবে এর সত্যতা কতটুকু? এ ঘটনায় আমার কাছেও জবাব চাওয়া হয়েছে।
আমি জবাব দিয়েছি। হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম
বলেন, রোগীর স্বজনের লিখিত অভিযোগ পেয়ে মেডিসিন বিভাগের ইউনিট-২
এর প্রধান, কার্ডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং মেডিসিন বিভাগের
ইউনিট-৩ এর সমন্বয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ৭
কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবদেন দাখিল করবেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন
পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি
আরও বলেন, মনে রাখা জরুরি জনগণের আয়করের টাকায় আমাদের বেতন
হয়। সুতরাং হাসপাতালে আসা সকল রোগীর সঙ্গে সেবামূলক আচরণ করা
উচিত।

বরিশালে মাকে ফোন দিয়ে তরুণীর আত্মহত্যা!

বরিশাল:  মাকে ফোন দিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন বলে
জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এ ঘটনা
ঘটে। নিহত ওই তরুণীর নাম নাবিলা আক্তার মিতু (২২)। তিনি বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা
ইউনিয়নের মৃত মোকছেদ চৌধুরীর কন্যা। মহানগর পুলিশ এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন বলেন, মিতু ও তার মা খাদিজা বেগম উপজেলার
রহমতপুর বাজার সংলগ্ন আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে মুসা মুন্সির
বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। সোমবার সকালে মিতুকে বাসায় রেখে মা খাদিজা বেগম নিজ
কর্মস্থল উপজেলা কৃষি অফিসে যান। বেলা ১১টার দিকে মিতু তার মাকে ফোন করে
আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। মা খাদিজা বেগম বাসায় ছুটে এসে কন্যা
মিতুকে বাসার একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
এসময় তার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এসে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার
করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি
অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ওসি হেলালউদ্দিন আরও বলেন, নাবিলা আক্তার মিতু প্রেম
করে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর বনিবনা না হওয়ায় তাদের ডিভোর্স হয়। এরপর
থেকে তিনি মানসিকভাবে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিষণ্নতা থেকেই তিনি
আত্মহত্যা করেছেন। এ বিষয়ে তাদের বাড়িওয়ালা মুসা মুন্সি জানান, কলেজে পড়া
অবস্থায় মিতু প্রেম করে নাটোরের একটি ছেলেকে বিয়ে করে। সেই ছেলের সঙ্গে ডিভোর্স
হয়েছে। সেই থেকে সে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়। তিনি আরও জানান, মিতুর প্রাক্তন
স্বামী আবার বিয়ে করছে। এ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছে সে। এরপর থেকেই মিতু
বেশ কয়েকদিন ধরে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। সোমবার বাসায় কেউ না থাকার
সুযোগেই সে আত্মহত্যা করেছে।
20/12/2022
01620849601