বরিশাল বাকেরগঞ্জে তিন ঠিকাদারের ঠেলাঠেলি নির্মাণ হয়নি ব্রিজ, সাঁকোই পারাপারের ভরসা।


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৭, ২০২৩, ৫:৫৯ অপরাহ্ন / ৪৫২
বরিশাল বাকেরগঞ্জে তিন ঠিকাদারের ঠেলাঠেলি নির্মাণ হয়নি ব্রিজ, সাঁকোই পারাপারের ভরসা।

বরিশাল বাকেরগঞ্জে তিন ঠিকাদারের ঠেলাঠেলি নির্মাণ হয়নি ব্রিজ, সাঁকোই পারাপারের ভরসা।
রমজান আহম্মেদ (রঞ্জু), ব্যুরো চীফ, বরিশাল –
বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের চৈতা
বাজার ব্রিজ হতে টেংরাখালি রেজিস্ট্রি প্রাইমারি স্কুল ভায়া ইউনাইটেড
হাই স্কুল আজিজ মেম্বার বাড়ির সামনে রঘুনাথপুর ছাব্বিশ ঘর খালের উপর
আয়রন ব্রিজ নির্মাণ কাজ পায় পিরোজপুর মঠবাড়িয়ার ঠিকাদারী
প্রতিষ্ঠান নওশীন ট্রেডার্স। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে আয়রন ব্রিজ পূর্ণ
নির্মাণের জন্য পূর্নবাসন প্রকল্প আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায়
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৩১ লাখ ৮৫ হাজার ৮১১ টাকা
বরাদ্দে ব্রিজ নির্মাণ কাজের আদেশ পায়। যার কার্যা আদেশ ২৬ মে ২০২২
সালে ব্রিজ নির্মাণ শুরু করে ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ সালে কাজ শেষ করার
কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করেনি ঠিকাদারী
প্রতিষ্ঠান। সরেজমিনে দেখা যায়, বড় রঘুনাথপুর খালের উপরে ব্রিজ পূর্ণ
নির্মাণের জন্য ঠিকাদার পুরাতন ব্রিজ ভেঙে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ
করেন। নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে পথচারীরা চলাচল করছেন। নড়বর এর
বাঁশের সাঁকোটি যাতায়াতে দুর্ভোগে পোহাচ্ছে ব্রিজের দুই পাশের শাকবুনিয়া,
মধ্যম মহেশপুর,ছোট রঘুনাথপুর, বড় রঘুনাথপুর গ্রাম সহ পার্শ্ববর্তী
নিয়ামতি, কাঁঠালতলী দুই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা মোসলেম হাওলাদার জানান, বাঁশের সাঁকোই তাদের
চলাচলের একমাত্র ভরসা। সরকারি প্রাইমারি, স্কুল কলেজ মাদ্রাসা সহ
প্রায় ১৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে
যাতায়াত করছে। বিশেষ করে বর্ষায় স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ

প্রতিদিন পথচারীকে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত
করতে হয়। বড় রঘুনাথপুরের বাসিন্দা হোসনেয়ারা বেগম অভিযোগ করে
বলেন, আমি পীরের বাড়ি কাজ করি প্রতিদিন খুব সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই
কাজে যেতে হয়। মাঝে মধ্যে নরবরে সাঁকো দিয়ে খালের মধ্যে পড়ে যাই।
প্রায়ই বছর ঘনিয়ে আসছে ঠিকাদার ব্রিজটি ভেঙে ফেলেছে কিন্তু নির্মাণ
কাজ শুরু করেনি। সাঁকোর ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি
সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। সোনার বাংলা মাধ্যমিক
বিদ্যালয় এর শিক্ষার্থী রাসেল জানান, এই সাঁকোর ওপর দিয়ে পারাপার হতে
গিয়ে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা। খুদে
শিক্ষার্থীদের জন্য যেন এটা একটা মরণফাঁদ। আমি সাইকেল চালিয়ে
প্রতিদিন স্কুলে যাই। সাইকেলটি কাঁদে বহন করে সাঁকো পার হতে হয়। ঝুঁকি
নিয়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে মাঝে মধ্যে খালে পরে যেতে হয়। এ বিষয়ে জানতে
চাইলে নওশীন ট্রেডার্স এর প্রো: শামিম সোহাগ জানান, ব্রিজের কাজ
আমার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পেয়েছে। তবে আমি এখনো সরেজমিনে যাইনি।
তবে ব্রিজের কাজটি আমি বেতাগী থানার বিবিচিনি গ্রামের ঠিকাদার আবুল
হোসেনের কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রয় করেছিলাম। ছয় মাসেও সে
নির্মাণ কাজ শুরু না করায় বাকেরগঞ্জের ঠিকাদার কাজি বশিরের কাছে
দ্বিতীয়বার বিক্রয় করেছি। বিক্রয় নিয়ে ঠিকাদারদের মাঝে সমস্যার সৃষ্টি
হয়েছে। দশ দিনের মধ্যে সমস্যার অবসান করে ব্রিজের কাজ শুরু করা হবে
বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ঠিকাদার আবুল হোসেন বলেন, নওশীন ট্রেডার্স
এর প্রো: মো: শামিম সোহাগ আমার কাছে ব্রিজের কাজ বিক্রয় বাবদ দেড়
লাখ টাকা নিয়েছেন। অধিক মুনাফা পেয়ে কাজটি দ্বিতীয় বার কাজি বশিরের
কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। অথচ আমাকে টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। এ বিষয়ে
ঠিকাদার কাজি বশির জানান, নওশীন ট্রেডার্স এর প্রো: শামিম সোহাগ
ব্রিজের কাজ প্রথমে আবুল হোসেনের কাছে বিক্রি করেছে বিষয়টা আমার
জানা ছিল না। তবে তিনি কেন ব্রিজের কাজটি এখনো শুরু করেননি এমন

প্রশ্নের জবাবে জানান, পুরাতন ব্রিজটি ছিল ২১ মিটার আর এখন নতুন
ব্রিজটি ১৭ মিটার নকশা করা হয়েছে। ঢাকা অফিসে আমার লোক রয়েছে
ব্রিজটি ২১ মিটার করার জন্য রিভাইস করার চেষ্টায় আছি। তাই নির্মাণ
কাজ এখনো শুরু করা হয়নি। বাকেরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী
আবুল খায়ের মিয়া জানান, আমরা নওশীন ট্রেডার্সকে কাজটি দিয়েছি। তারা
কার কাছে বিক্রি করেছে সেটা আমার জানা নেই। তবে ব্রিজটি কেন নির্মাণ
হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মে মাসের পরে বর্ষা মৌসুম
থাকায় খালে পানির পরিমাণ বেশি ছিল তাই ব্রিজটি নির্মাণ কাজ শুরু করা
হয়নি। স্থানীয়রা এখানে ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন
ধরে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের উদাসীনতায় ব্রিজটি নির্মাণ শুরু
হয়নি। এছাড়াও তিন ঠিকেদারের ঠেলা ঠেলিতে ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায়
স্কুলশিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে
হচ্ছে। সেতু নির্মিত হলেই এলাকাবাসীর জন্য যাতায়াতব্যবস্থাসহ ব্যবসা-
বাণিজ্যের নতুন নতুন সুযোগের সৃষ্টি হবে।

তারিখঃ ০৩-০১-২০২৩
মোবাঃ ০১৬২০৮৪৯৬০১

বরিশালে আয়কর আদায়ে সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। 

রমজান আহম্মেদ (রঞ্জু), বরিশাল ব্যুরো চীফ –
বরিশাল : করোনা মহামারীর সংকট কাটিয়ে প্রায় সাড়ে ছয়শ’ কোটি টাকা আয়কর আদায়ের মাধ্যমে গত
অর্থবছরে বরিশাল বিভাগে আয়কর আদায়ে সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। যা পূর্ববর্তী
অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা বেশী। বরিশাল কর অঞ্চলের কমিশনার কাজী লতিফুর রহমান
বলেছেন, এ অঞ্চলে আয়কর আদায়ের পরিমান বিগত বছরগুলোর তুলনায় যথেষ্ট ভাল এবং আশাব্যঞ্জক।
তাই চলতি অর্থবছরে বিভাগের ছয় জেলা থেকে সাড়ে সাতশ’ কোটি টাকা আয়কর আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে
কাজ করছে বরিশাল কর অঞ্চল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০১-২০০২ অর্থবছরে মাত্র ২৩ কোটি
টাকা আয়কর আদায়ের মধ্যদিয়ে বরিশাল কর অঞ্চলের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব
বোর্ডের নজরদারীসহ করদাতাদের ইতিবাচক মনোভাবে বিগত ২০ বছরে তা সাড়ে ছয়শ’ কোটিতে উন্নীত
হয়েছে। পাশাপাশি করদাতার সংখ্যাও মাত্র ২০ হাজার থেকে চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত
প্রায় ৯৩ হাজারে উন্নীত হয়েছে। যা আগের অর্থবছরে ছিলো ৭৮ হাজারের কিছু বেশী। চলতি অর্থবছরে
দক্ষিণাঞ্চলে করদাতার সংখ্যা লাখের অংকে পৌঁছবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পাশাপাশি বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে টিআইএন ধারীর সংখ্যাও প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজারে
উন্নীত হয়েছে। সূত্রমতে, কৃষি নির্ভর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকার পাশাপশি কৃষি-
অর্থনীতিই এখনো মূল চালিকা শক্তি। তবে গত দুই দশকে অন্যান্য ব্যবসা ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হলেও
করোনা সংকটের কারণে বিগত তিনটি অর্থবছরে সারাদেশের ন্যায় এ অঞ্চলেও অর্থনীতিতে যথেষ্ট
নেতিবাচক প্রভাব পরেছে। তারপরেও কর দাতাদের ইতিবাচক মনোভাবের ফলে বরিশাল কর অঞ্চলে
প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। বরিশাল কর অঞ্চলের কমিশনার বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে এখনো
বেশীরভাগ মাঝারী এবং বৃহৎ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বড় মাপের ব্যসায়ীরা আয়কর রিটার্ন
ঢাকাতে জমা দিয়ে থাকেন। ফলে বরিশাল কর অঞ্চলের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি কিছুটা হলেও ব্যাহত হচ্ছে।
তবে আয়করের প্রতি ভীতি দূর করাসহ কর প্রদানে নৈতিক দায়িত্বের বিষয়টি মানুষের মধ্যে ক্রমে
প্রতিষ্ঠিত হবার ফলে দক্ষিণাঞ্চলে আয়কর আহরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একইসাথে করদাতাদের সাথে
আরো সৌজন্যমূলক আচরনসহ কর প্রশাসনকে পরিপূর্ণ হয়রানী বিহীন জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে
গড়ে তোলারও তাগিদ দিয়েছেন করদাতারা। পাশাপাশি সাধারণ করদাতাদের পক্ষ থেকে যেকোন অসৎ
উদ্দেশ্যে করদাতাদের ওপর ন্যূনতম বাড়তি চাঁপ প্রয়োগসহ হয়রানির বিষয়টি পরিহারের আহবান জানানো
হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চল জুড়েই কর প্রশাসন চলছে জনবল সংকটসহ নানা
সীমাবদ্ধতার মধ্যে। বরিশাল কর অঞ্চলের ২২টি সার্কেলে মঞ্জুরীকৃত প্রায় ২৬৫ জনবলের মধ্যে ১৩৯
টি গুরুত্বপূর্ণ পদই শূন্য। ২২টি সার্কেলের উপ-কমিশনারের পদে রয়েছেন মাত্র আটজন। যেকারণে
একজন উপ-কমিশনারকে একাধিক সার্কেলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিছুটা সংকট তৈরী হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই উপ-কর কমিশনার থেকে যুগ্ম কর কমিশনার পর্যন্ত সব পদেই জনবল সংকট চলছে।
এমনকি তিনজন যুগ্ম কর কমিশনার পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন। ২৯ পরিদর্শকের আটটি পদে
কোন জনবল নেই। অপরদিকে বরিশালে কর অফিসের জন্য একটি বহুতল ভবন নির্মানের বিষয়টি প্রায়
দেড় যুগ ধরে নানা টেবিলে ঘুরপাক খেয়ে সর্বশেষ প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন স্থগিত করা হয়েছে।
প্রায় ৮০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের ওই ভবন নির্মান প্রকল্পটি কবে নাগাদ আলোর মুখ দেখবে তা
সঠিক করে কেহই বলতে পারছেন না। ফলে বরিশাল মহানগরীর নিজস্ব ও ভাড়া বাড়িতে ছড়িয়ে ছিটেয়ে থাকা
কর কমিশনারসহ বিভিন্ন সার্কেলের দপ্তরগুলোতে অনেক সময়ই কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
এতে করে কারদাতারাও ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ব্যাপারে বরিশাল কর অঞ্চলের কমিশনার কাজী
লতিফুর রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে কর আহরণ প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। পাশাপাশি এ অঞ্চলের
মানুষের মধ্যে কর প্রদানে ইতিবাচক সাড়ার পরেছে। তিনি আরও বলেন, কর দাতাদের ওপর কোন অনৈতিক

চাঁপ প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে সব কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এরপরেও যেকোন
অনিয়মের ক্ষেত্রে সবসময়ই জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন,
বিষয়টি এনবিআরসহ অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
হস্তক্ষেপে খুব শীঘ্রই এ সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মোবা: 01620849601
তারিখ: 5/1/23