“বঙ্গবন্ধু টানেলে গাড়ি চলবে জানুয়ারিতে”


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৭, ২০২২, ৫:৩০ অপরাহ্ন / ২৮৭
“বঙ্গবন্ধু টানেলে গাড়ি চলবে জানুয়ারিতে”

“বঙ্গবন্ধু টানেলে গাড়ি চলবে জানুয়ারিতে”
চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল দিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারিতে গাড়ি চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস।টানেলের দক্ষিণ টিউবের পূর্তকাজ সমাপ্তি উদ্বোধনের আগের দিন শুক্রবার প্রকল্প এলাকায় গিয়ে এ কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে টানেলের ওই টিউবের পূর্তকাজ সমাপ্তির উদ্বোধন করবেন।ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার কমিয়ে দেবে এ টানেল। এর মধ্য দিয়ে ৫ মিনিটেই চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে যাওয়া যাবে আনোয়ারায়।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে একটা নতুন দিগন্ত সূচনা করেছি। আমরা খুব আনন্দিত ও
উদ্ভাসিত।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শনিবার দক্ষিণ টিউবের পূর্তকাজ শেষ হওয়ার বিষয়টি উদ্বোধন করবেন। নির্মাণকাজ শেষ হলে টানেলের চূড়ান্ত উদ্বোধন করবেন সরকারপ্রধান। সচিব বলেন, ‘এই টানেলের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ হয়ে গেছে। শুধু এখন ফিনিশিং ওয়ার্ক চলছে। আমরা এই বছরের মধ্যে চেয়েছিলাম একটা আনন্দ দিয়ে শুরু করা যাক।আর যেহেতু একটা টিউবের পূর্ত কাজ শেষ হয়েছে, এখন আমরা সেটার উদযাপন করছি। ঈদের আগে যেমন চাঁদরাত উদযাপন করি, এখন সেই চাঁদরাত এখানে।’জানুয়ারিতে কাজ পুরোপুরি শেষ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটার দুইটা টিউব আছে। একটার পূর্ত কাজ শেষ হয়েছে পুরোপুরি।’
প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘দুনিয়ার ভেতরে সব কি দাঁড়ি, কমা দিয়ে চলে? একটা বাস্তবতার ভিত্তিতে চলছে। যেটা ডিসেম্বরে শেষ করার কথা, সেটা জানুয়ারিতে শেষ হবে। এক-দুই মাসে তেমন কিছু হবে না।’ প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের জাতীয় বীরত্বের কাহিনী। একটা সবসময় নদী নিয়ে দুঃখের গান গাওয়া হতো। এখন সেই নদীর তলদেশ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছি।অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে অবকাঠামো উন্নয়ন বোঝানো হয়। আর সেটার চূড়ান্ত হচ্ছে কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে টানেল।’ বঙ্গবন্ধু টানেলে গাড়ি চলবে জানুয়ারিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছেন। সেখানে যেমন দেশীয় বিনিয়োগ থাকবে, তেমন থাকবে বিদেশি বিনিয়োগ। আর তার জন্য দরকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ আর বন্দর। এর সঙ্গে মাতারবাড়ীর একটা সম্পর্ক আছে। এ ছাড়া ঢাকার সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার কমে যাচ্ছে।’ সচিব আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি আল্লাহর রহমতে প্রধানমন্ত্রী ভালো জায়গায় নিয়ে গেছেন। কোনোভাবে এটা দমানো সম্ভব না।’ একটা উদাহরণ দিয়ে সরকারপ্রধানের মুখ্যসচিব বলেন, ‘আপনাদের পত্রপত্রিকায় অনেকেই উদ্বিগ্ন ছিল যে, বাংলাদেশের কী হবে।
বাংলাদেশ যখন আইএমএফ আসছে, তখন তারা বাংলাদেশের প্রতিটা সেক্টর পর্যালোচনা করে দেখেছে। যদি মার্কিং করা হয় তাহলে বাংলাদেশ পাবে এ প্লাস। আর এটা এক দিনে পায়নি। বিভিন্ন নীতি ও উন্নয়ন থেকে হয়েছে। আর তারা এতে ইমপ্রেসড হয়েছে।’ সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন বলেন, ‘আগামীকাল আমাদের জন্য একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল যেটা নদীর নিচ দিয়ে গিয়েছে এবং এক প্রান্তে পতঙ্গো ও আরেক প্রান্তে আনোয়ারাকে সংযুক্ত করেছে, সেই টানেলের দুটো টিউবের দক্ষিণ টিউব যেটি, সেটির পূর্ত কাজের সমাপনী উদযাপন করব আমরা। ‘এখনো ইলেকট্রো মেকানিক্যাল কাজগুলো বাকি রয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর টিউবের পূর্তকাজ কিছুটা বাকি আছে। আমরা জানুয়ারি মাসে
যান চলাচলের জন্য খুলে দেব।তিনি বলেন, ‘টোটাল কাজ হয়েছে ৯৪ শতাংশের বেশি। এই টানেল উদ্বোধনে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে ০.১৬৬ ভাগ।’
প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘এখন প্রতিটি সিস্টেম কাজ করছে আলাদাভাবে। তারপর এগুলো আমাদের কন্ট্রোল সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হবে।সব মিলিয়ে জানুয়ারির শেষ দিকে (কাজ) শেষ হবে বলে আশা করছি।’প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, ‘আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। আর সেগুলো আমরা ওভারকাম করেছি। ‘প্রথম টিউব ১৭ মাস লাগলেও পরেরটা ১০ মাসে সম্পন্ন হয়েছে। করোনার জন্য আমরা এক মাস কাজ করতে পারি নাই।’টানেল নিয়ে যত তথ্য নদীর তলদেশে নির্মিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল এটি। কর্ণফুলী নদীর দুই তীরকে সংযুক্ত করে চীনের সাংহাই শহরের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে টানেল প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেতু বিভাগ। সেতু বিভাগ থেকে জানা যায়, দুই টিউব সংবলিত মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৩২ কিলোমিটার। এই দুই টিউব তিনটি সংযোগপথের (ক্রস প্যাসেজ) মাধ্যমে যুক্ত থাকবে। বিপদের সময়ে অন্য টিউবে গমনের জন্য এই ক্রস প্যাসেজগুলো ব্যবহার হবে। টানেল টিউবের দৈর্ঘ্য ২.৪৫ কিলোমিটার এবং ভেতরের ব্যাস ১০.৮০ মিটার। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং টানেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম টানেল টিউবের বোরিং কাজ উদ্বোধন করেন। ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দ্বিতীয় টিউবের বোরিং কাজ উদ্বোধন করেন। সেতু বিভাগ বলছে, চীনের এক্সিম ব্যাংক এই প্রকল্পের জন্য ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা ঋণ দেয়। বাকি টাকার জোগান দেয় বাংলাদেশ সরকার। চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি টানেলটি নির্মাণ করছে।
৩.৩২ কিলোমিটার টানেলটি কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে পশ্চিম প্রান্তে পতেঙ্গা নেভাল একাডেমির কাছ থেকে শুরু হয়ে পূর্ব প্রান্তে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী সার কারখানার (কাফকো) মাঝখান দিয়ে আনোয়ারা প্রান্তে পৌঁছেছে। মূল টানেলের সঙ্গে পশ্চিম প্রান্তে (পতেঙ্গা) দশমিক ৫৫০ কিলোমিটার ও পূর্ব প্রান্তে (আনোয়ার) ৪.৮ কিলোমিটারসহ মোট ৫.৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক রয়েছে। এ ছাড়াও আনোয়ারা প্রান্তে সংযোগ সড়কের সঙ্গে ৭২৭ মিটার ভায়াডাক্ট (উড়ালসড়ক) রয়েছে।

“চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস”
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চার বছর আট মাস ১৫ দিন পর চট্টগ্রামের জনসভায় ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৪ ডিসেম্বর নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠের এই জনসভায় লাখো মানুষের সমাবেশ ঘটবে বলে আশা করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
প্রধানমন্ত্রীর জেলা সফরের মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা
হবে। সেই সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চলমান রাখার অংশ হিসেবে ৭ ডিসেম্বর কক্সবাজারে জনসভায়ও যোগ
দিবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২০১৮ সালের ২১ মার্চ পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী
লীগ আয়োজিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নেতারাও তৎপর চট্টগ্রামের জনসভা ঘিরে। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ব্যাপক লোকসমাগমের পাশাপাশি আওয়ামী লীগপ্রধান নির্বাচনকেন্দ্রিক বার্তা দেবেন বলেই আশা সংশ্লিষ্টদের।
জনসভা ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। জনসভা সফল করতে দিন-রাত নগর থেকে
উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। ২০১২ সালের ২৮ মার্চ পলোগ্রাউন্ড মাঠে সর্বশেষ
জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ১০ বছর পর এই মাঠে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা। নৌকার আদলে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। নৌকার দৈর্ঘ্য ৮৮ ফুট, প্রস্থ ৪০ ফুট। মূল মঞ্চের সামনে
থাকবে ১৬০ মিটার লম্বা একটি নৌকা। ১৫ নভেম্বর থেকে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
দলীয় সভানেত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি মহানগর, দক্ষিণ ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সমাবেশস্থলসহ
আশপাশের এলাকাজুড়ে ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ড টাঙিয়েছেন। জনসভার প্রচার-
প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। প্রতিদিন মহানগর, দক্ষিণ ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ
নেতারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে লিফলেট বিতরণ, সভা-মিছিল করছেন। নগর ও
জেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লার বাসাবাড়িতে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য দাওয়াত
দেওয়া হচ্ছে । একইসঙ্গে ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন নগর ও জেলার শীর্ষ নেতারা।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জানান, ইতিমধ্যে পলোগ্রাউন্ডের
জনসভার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আমাদের প্রত্যেক এমপি এবং নেতারা নিজ নিজ এলাকা থেকে লোকজন আনার
জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ থেকে প্রচুর লোকজন আসবে। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে জনসভায়
আসার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন। গত ১৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে প্রচুর উন্নয়ন করেছেন। এই উন্নয়নের জন্য
কৃতজ্ঞতা জানাতেই জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনসভায় আসবেন। ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রধানমন্ত্রীর
জনসভায় মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। মাঠের বাইরে আরও ১০ দশ গুণ লোকের সমাগম হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন জানান, ৪ ডিসেম্বর জনসভা সফল
করতে প্রচার-প্রচারণা চলছে। আমাদের প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত
বৃহস্পতিবার থেকে নগরের ২৪টি স্থানে সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জনসভার মাইকিং করা হচ্ছে। নগরে ১০টি অটোরিকশাযোগে মাইকিং শুরু হয়েছে। ৪৪টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডে ১, ২ ও ৩ ডিসেম্বর একযোগে মাইকিং ও
প্রতিটি মহল্লায় প্রচার-প্রচারণা করা হবে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সন্দ্বীপ উপজেলার মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের
চেয়ারম্যান  মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান জানান, ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল
করতে যুবলীগ দিন-রাত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন লিফলেট বিতরণ, পথসভা, মিছিল হচ্ছে।
সন্দ্বীপে প্রতিটি পাড়া-মহল্লার বাসাবাড়িতে জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে। জনসভা ঘিরে
উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ।

“এলসি ছাড়াই দেশে এলো ৮৭২টি গাড়ি”
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ

ঋণপত্র (এলসি) না খুলেই জাপান থেকে বিপুলসংখ্যক গাড়ি বাংলাদেশে এনেছেন
ব্যবসায়ীরা। ‘মালয়েশিয়া স্টার’ জাহাজে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩২১টি ও মোংলা বন্দরে ৫৫১টি গাড়ি এসেছে।তিনশ’র বেশি
আমদানিকারকের এসব গাড়ির মধ্যে কতগুলোর ঋণপত্র নেই তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস।
ঋণপত্র ছাড়া গাড়ি বন্দরে পৌঁছার পর আমদানিকারকরা এখন বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা, মালিকদের
কাছে ধরনা দিচ্ছেন, যাতে দ্রুত ঋণপত্র জমা দিয়ে সেগুলো ছাড় করে নেওয়া যায়।
জানা গেছে, ২২ নভেম্বর মালয়েশিয়া স্টার জাহাজে যে গাড়িগুলো এসেছে, তার বেশিরভাগই সরবরাহ করেছেন জাপানে
অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রস কন্টিনেন্টালের জহীর উদ্দিন। বাংলাদেশে যত রিকন্ডিশন্ড গাড়ি সরবরাহ দেওয়া হয়,
তার ৮০ শতাংশই তাঁর কোম্পানির। ফলে ক্রস কন্টিনেন্টালের সঙ্গে শিপিং এজেন্ট ও আমদানিকারক মিলে এসব গাড়ি
এনেছেন।
জানতে চাইলে জাহাজটির শিপিং এজেন্ট এনসিয়েন্ট স্টিমশিপ কম্পানি লিমিটেডের পরিচালক মোরশেদ হারুন  বলেন,
মালয়েশিয়া স্টার জাহাজে মোট ৮৭২টি গাড়ি বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে নেমেছে ৩২১টি। আর মোংলা
বন্দরে নেমেছে ৫৫১টি। গাড়ি নামিয়ে জাহাজটি বাংলাদেশ ছেড়েছে। ঋণপত্র ছাড়া গাড়ি আনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে মোরশেদ হারুন বলেন, ‘নিশ্চয়ই কোনো না কোনোভাবে টাকাটা পেমেন্ট হয়েছে। তবে ঋণপত্র ছিল কি না, তা যাচাইয়ের দায়িত্ব শিপিং এজেন্টের নয়। এটি কাস্টমস, ব্যাংকের মতো রেগুলেটরি বডি নিশ্চিত করবে। আর আমি অনুমতি পেয়েছি বলেই জাপান থেকে গাড়ি বোঝাই করেছি আর চট্টগ্রাম ও মোংলায় নামিয়েছি।’
আমদানিনীতি আদেশ অনুযায়ী, ঋণপত্র ছাড়া একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুমোদিত পণ্য দেশে
আনতে পারেন। কিন্তু যখনই বড় আকারের অর্থাৎ অনেক গাড়ি আমদানি হয়, তখন কোনোভাবেই ঋণপত্র না খুলে
জাহাজীকরণের সুযোগ রাখা হয়নি আমদানিনীতিতে।
নাম প্রকাশ না করে এক গাড়ি ব্যবসায়ী বলেছেন, ‘জাহাজে থাকা সবগুলো গাড়ির বিপরীতে ঋণপত্র খোলার প্রক্রিয়া চলছে।
হয়তো দেখা যাবে সপ্তাহ দশেকের মধ্যে ঋণপত্র খোলা হয়ে জমা পড়বে। এ জন্য অবশ্য ঋণপত্র জমা না দেওয়ায় কাস্টমস
জরিমানা আদায় করতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মাধ্যমে ঋণপত্র খোলা নিশ্চিত
করতে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এ ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা একসঙ্গে এক লাখ ডলারের ঋণপত্র না খুলে
ছোট আকারে ২০ হাজার ডলারের ঋণপত্র খোলার পরামর্শ দিচ্ছে। ’
ঋণপত্র ছাড়া এতগুলো গাড়ি আমদানির পর বারভিডা কোন আমদানিকারকের কত গাড়ি আছে সেই তথ্য সংগ্রহ শুরু
করেছে। জানতে চাইলে বারভিডার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ফোর হুইলার্সের কর্ণধার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার
মতে এ ক্ষেত্রে এখনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি। কারণ বিদেশি সরবরাহকারী হয়তো গাড়িগুলো বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ঋণপত্র
ছাড়াই। কিন্তু সেগুলো তো বন্দর থেকে ছাড় করা হয়নি। ’
তবে ঋণপত্র ছাড়া গাড়ি জাহাজে তোলা আমদানিনীতির পরিপন্থী, এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘সে জন্য হয়তো
কাস্টমস জরিমানা করবে। ’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঋণপত্র জমা না পড়লে শিপিং লাইন বিএল বা বিল অব লেডিং ইস্যু করতে পারবে না। আর বিএল
ইস্যু করতে না পারলে সেটি শুল্কায়নের জন্য কাস্টমসে জমা পড়বে না। শুল্কায়ন না হলে গাড়িগুলো বন্দরে পড়ে থাকবে।
আর ৪৫ দিন পার হলে কাস্টমস চাইলে নিলামে তুলতে পারবে। ঋণপত্র ছাড়া গাড়ি আমদানি কিভাবে সম্ভব হলো জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলছেন, ‘এ বিষয়ে আমরা জানি না। কাস্টমস জানবে।
পরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট গ্রুপের উপকমিশনার কামরুন নাহার লিলি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমরা পুরো
জাহাজে থাকা গাড়ির আইজিএমসহ জমা পড়া সব তথ্য যাচাই করতে আইটি বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি। তাদের তথ্য হাতে
আসার পরই বুঝতে পারব আসল ঘটনা কী। ’
তিনি বলেন, ‘সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট যখন বিল অব এন্ট্রি জমা দেবে তখনই কাস্টমসের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং এখন যেহেতু
বিল অব এন্ট্রি জমা হয়নি, তাই আমাদের নিজের উদ্যোগে এই কাজটি করতে হচ্ছে। তথ্য না আসার বিস্তারিত বলতে পারব
না।