“ফেনীর সোনাগাজীতে চাঁদা চাওয়া চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেফতার”


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৬, ২০২২, ৪:৫৭ অপরাহ্ন / ২৮৮
“ফেনীর সোনাগাজীতে চাঁদা চাওয়া চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেফতার”
ফেনীর সোনাগাজীতে চাঁদা চাওয়া চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেফতার
আবুল কালাম রিন্টু, ফেনী প্রতিনিধি,
ফেনীর সোনাগাজী পৌর শহরের ব্যবসায়ীদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সুমন সাহা (৩৪) নামে এক ভুয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ অক্টোবর) খুলনা জেলা শহরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনাগাজী পৌর শহরের ব্যাবসায়ী মদিনা মিষ্টি এন্ড সুইটসের মালিক হেদায়েত উল্যাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী হেদায়েত উল্যাহ বলেন, গত ২ অক্টোবর দুপুরে হঠাৎ করে ০১৯২৯-৬৮৬৩৪৫ নম্বর থেকে ফোন করে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবুল কালাম আজাদ (সুমন সাহা) পরিচয় দিয়ে দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করার হুমকি দেন। এ সময় তিনি দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না করতে তাকে অনুরোধ করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে রক্ষা পেতে ওই নাম্বারে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন সুমন সাহা। বিষয়টি আঁচ করতে না পেরে ওই নাম্বারে প্রথমে ২ হাজার টাকা পাঠান। বাকী টাকা পরে পাঠাবেন বলে জানান। এভাবে বাজারের আরও ৭-৮ জন ব্যবসায়ীকে ফোন করে ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয় দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলে টাকা দাবি করেন সুমন সাহা। পরে ব্যবসায়ীরা বিষয়টি বনিক সমিতির সভাপতি নুর নবীসহ থানা পুলিশকে অবহিত করেন। তারা বিষয়টি ভুয়া বলে তাদেরকে টাকা দিতে নিষেধ করেন।
সোনাগাজীর বনিক সমিতির সভাপতি নুর নবী বলেন, গত ২ অক্টোবর দুপুরে একটি মোবাইল ফোন নাম্বার থেকে ফোন করে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবুল কালাম আজাদ নামে পরিচয় দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলে দ্রুত বাজারের সব মিষ্টি দোকান ও মালিকের নামসহ ফোন নাম্বার দিতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি দোকানদারদের নাম ও ফোন নাম্বার দিলে সবাইকে ফোন করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এক ব্যবসায়ী কিছু টাকা দিলেও অন্যরা বিষয়টি ভুয়া বুঝতে পেরে কোন টাকা দেননি।
এ ব্যাপারে সোনাগাজী মডেল থানার এসআই সেন্টু চন্দ্র দাস বলেন, মোবাইল ফোনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি পুলিশকে অবগত করা হয়। প্রতারকদের শনাক্ত করতে পুলিশও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে মাঠে নামে। ব্যবসায়ীদের ফোন ও তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া নম্বরটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় শনিবার ভোররাতে খুলনা জেলা শহরে অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে সুমন সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়।সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. খালেদ হোসেন বলেন, খুলনা থেকে গ্রেপ্তারের পর ভুয়া ম্যাজিষ্ট্রেট প্রতারক সুমন সাহাকে শনিবার বিকালে থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রবিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।