ফেনীতে বিশ্বসেরা কারিদের কেরাত সম্মেলন ২০২২ অনুষ্ঠিত ।


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৩১, ২০২২, ৬:৫৪ অপরাহ্ন / ৪৩৯
ফেনীতে বিশ্বসেরা কারিদের কেরাত সম্মেলন ২০২২ অনুষ্ঠিত ।
ফেনীতে বিশ্বসেরা কারিদের কেরাত সম্মেলন ২০২২ অনুষ্ঠিত ।
আবুল হাসনাত রিন্টু, ফেনী প্রতিনিধি –
বিশ্বসেরা সব কারিদের নিয়ে আসর বসলো ফেনী জেলার মিজান ময়দানে। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে রাত ১১.০০ টা পর্যন্ত ৬ষ্ঠ বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো এই আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলন। যেখানে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ যেন হৃদয়ে কম্পন তৈরি করছিলো ধর্মপ্রাণদের। একেকটি আয়াত শেষ হওয়ার পরক্ষণেই হাজারো জনতা সমস্বরে বলে উঠছিলো ‘লিল্লাহে তাকবির’। পুরো মাঠজুড়ে এক অন্যরকম পবিত্র আবহ। সমবেত জনতা পবিত্র কোরআনের সুরে মাতোয়ারা। তিলাওয়াতকারীদের কেউ এসেছেন মিশর থেকে, কেউ এসেছেন তানজানিয়া থেকে আবার কেউ এসেছেন আফ্রিকার দেশ নায়জেরিয়া থেকে।সম্মেলনে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন, তানজানিয়া থেকে আগত কারি রেজা আইয়ুব ও ঈদী শাবান, নাইজেরিয়া থেকে আগত আবেদ ইদ্রিস, মিশর থেকে আগত সালাহ মুহাম্মদ সোলায়মান, মিশর থেকে আগত আবদুর রহমান খোলী, নাতে কোরআন পরিবেশন করেন শেখ এনাম। এ সম্মেলনে সর্বমোট ৭ দেশের কারি পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন।
আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলন সংস্থা ফেনীর সভাপতি ও ফেনী আলীয়া কামিল মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী।বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল-হাসান, পুলিশ সুপার জাকির হাসান, ফেনী পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলন সংস্থা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শায়খুল হুফফাজ মাওলানা হাফেজ তৈয়ব প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেনী- ২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, বর্তমান সরকার মাদরাসাশিক্ষাকে যতটা গুরুত্ব দিয়েছে আর কোনো সরকার এতটা দেয়নি। আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলনের আয়োজন অব্যাহত। এর মধ্য দিয়ে তরুণ সমাজ শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতে আগ্রহী হবে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের সব ক্ষেত্রে আলেম-ওলামাদের প্রয়োজন। তাদের সম্মান রক্ষা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।এক শ্রেণির মানুষ দাড়ি-টুপিওয়ালাদের বিদ্রুপ করে। প্রকৃতপক্ষে কোনো মাদরাসা ছাত্র জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত নেই। বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ দমনে যে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে তাতে ইসলামের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফেনীতে শেখ কামাল ব্যাডমিন্টন অনুর্ধ ১৪-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপ উদ্ভোধন করা হয়।
আবুল হাসনাত রিন্টু, ফেনী প্রতিনিধি :
বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল জাতীয় জুনিয়র (অনুর্ধ ১৪ ও অনুর্ধ ১৮) ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২২ ফেনীতে শুরু হয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় খায়রুল আনাম জিমনেসিয়ামে। সিনিয়র সচিব ও তথ্য কমিশনের কমিশনার ড. আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসকু আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান, পুলিশ সুপার জাকির হাসান, ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, ক্রীড়ার জন্য বঙ্গবন্ধু জ্যেষ্ঠ পুত্র শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল নিবেদিত ছিলেন। ক্রীড়ায় বর্তমান উন্নয়ন তারই ধারাবাহিকতা। বর্তমান সরকার যতদিন থাকবে ততদিন ক্রীড়ায় সফলতা আসবে, ব্যাডমিন্টনের মানোন্নয়ন হবে।
সভাপতি ডঃ আব্দুল মালেক বলেন, ফেনীতে দ্বিতীয়বার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকার বাইরে খুব কমই জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় ফেনীর সক্ষমতা রয়েছে। এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক যুগ্ম-সচিব শাহ আলম সরদার, জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান, পুলিশ সুপার জাকির হাসান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক ড. সিরাজ উদ্দিন মো. আলমগীর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক আমির হোসেন বাহার।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীলের সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, পোর্টল্যান্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান মজুমদার প্রমুখ। জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্র জানায়, ৪২ জেলা, ৫ বিভাগসহ মোট ৫১টি দলের ২৬৭ খেলোয়াড়  প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছে। এদের মধ্যে ২০৭ জন বালক এবং ৬০ জন বালিকা। আগামী ২ জানুয়ারি প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে।
ভারতে বসেই পরিকল্পনা করতেন ফেনীর ল্যাংড়া হাসান।
আবুল হাসনাত রিন্টু, ফেনী প্রতিনিধি –
অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি চক্রের অন্যতম হাসান জমাদ্দার ওরফে ল্যাংড়া হাসান ভারতে বসে দেশের বিভিন্ন এলাকার স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করত, পরে দেশে এসে সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করত। এ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির প্রধান হারুন অর রশীদ।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি জানতে পারে, সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত চক্র অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে মানিকগঞ্জ, ফেনী, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও ময়মনসিংহের ভালুকা, ঢাকার কেরানীগঞ্জ এবং ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন জায়গায় স্বর্ণালঙ্কারের দোকানে ডাকাতি করে আসছে। পরে ডিবির মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ডাকাত চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, হাসান জমাদ্দার ভারতে বসে দেশের বিভিন্ন এলাকার স্বর্ণের দোকান নিশানা করত। তার সহযোগীরা সেসব দোকানের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিত। সব ঠিকঠাক হলে হাসান ভারত থেকে এসে ডাকাতিতে যোগ দিত। এই দলের সদস্যরাই সম্প্রতি রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বোমা ফাটিয়ে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করেছিল। চক্রটির ডাকাতির মালপত্র পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারের একটি চক্র কিনে থাকে। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। হাসান ২০০৮ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা ফাটিয়ে ডাকাতি করত। ২০১২ সালে চট্টগ্রামের একটি দোকানে ডাকাতি করতে গিয়ে পায়ে গুলি লেগেছিল হাসানের। তার বিরুদ্ধে ডিএমপিসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ১৭টি মামলা রয়েছে বলেও জানান হারুনুর অর রশীদ।
ডাকাতি শেষে হাসান কীভাবে ভারতে যেত- জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার ভারতের নাগরিক কার্ড করেছে। তার পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন থেকে ব্লক করে রাখা। তাই সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা-যাওয়া করত। তার আশ্রয়দাতাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করছে, হাসানের নেতৃত্বে চক্রটি সারাদেশে ২৫-৩০টি ডাকাতি করেছে। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ ও ফেনীতে ডাকাতি করে হাসান। ফেনীতে ডাকাতির সময় একজনকে গুলি করে। সেই ব্যক্তি পরে মারা যান। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে রামপুরা থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হয়েছে।