নতুন বছরের শুরুতেই সুন্দরবনে বাঘ গণনা শুরু।


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২, ২০২৩, ৭:৫৭ অপরাহ্ন / ৩৪৮
নতুন বছরের শুরুতেই সুন্দরবনে বাঘ গণনা শুরু।
নতুন বছরের শুরুতেই সুন্দরবনে বাঘ গণনা শুরু।
মোঃ শামীম হোসেন- খুলনা –
নতুন বছরের শুরুতেই সুন্দরবনে বাঘ গণনা শুরু। সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা নির্ধারণে আবার শুরু হয়েছে বাঘ গণনা। ‘সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প’–এর আওতায় এ গণনার কাজ শুরু করা হয়। নতুন বছরের প্রথম দিন আজ রোববার (১ জানুয়ারি) সকাল থেকে বনে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের (ফাঁদ) কাজ শুরু করে বন বিভাগ। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নতুন বছরের প্রথম দিন সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে তৃতীয়বারের মতো বাঘ গণনার কাজ শুরু হয়েছে। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ও বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের প্রজেক্ট ডাইরেক্টর (পিডি) হিসেবে ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে সুন্দরবনের বাঘ গণনা শুরু হয়েছে। ৩০ জন লোক এ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বনের গভীরে এমন সব জায়গায় ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যেখান দিয়ে বাঘ চলাচলের সম্ভাবনা আছে। খুঁটিতে বাঘের আনুমানিক উচ্চতায় ক্যামেরা বসানো হবে। এসব ক্যামেরার সামনে দিয়ে বাঘ বা কোনো প্রাণী চলাফেরা করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি উঠবে। আর এ কাজে সব মিলিয়ে ৬৬৫টি গ্রিডে জোড়া ক্যামেরা বসানো হবে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জে ২০০টি, খুলনা রেঞ্জে ১৪০টি, শরণখোলা রেঞ্জে ১৮০টি, চাঁদপাই রেঞ্জে ১৪৫টি। প্রতিটি গ্রিডে এক জোড়া ক্যামেরা বসানো হবে। প্রতি গ্রিডে ৪০ দিন ক্যামেরা থাকবে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর ক্যামেরার ব্যাটারি ও এসডি কার্ড পরিবর্তন করতে হবে। ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে ছবি তোলার পর অ্যানালাইসিস করে বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। এ পদ্ধতিতে ২০১৩-২০১৫ সালে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে প্রথম বাঘ জরিপ করা হয়। তখন বাঘ পাওয়া গিয়েছিল ১০৬টি। দ্বিতীয়বার ২০১৭-২০১৮ সালে জরিপ করে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ১১৪টি।
জানা যায়, এর আগে ২০০৪ সালে বন বিভাগ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় বাঘের পায়ের ছাপ গুনে জরিপ করেছিল। এতে বাঘের সংখ্যা এসেছিল ৪৪০টি। তার আগে ক্যামেরায় ছবি তুলে ২০০৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান ব্রিটিশ জুয়োলজিক্যাল সোসাইটির সহায়তায় সুন্দরবনে বাঘ গণনা জরিপ করেন। তাতে বাঘের সংখ্যা ছিল ২০০টি। এছাড়া ২০১০ সালে বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ যৌথভাবে সুন্দরবনের খালে বাঘের বিচরণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি জরিপ করে। এতে বাঘের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৪৫০টি বলে উল্লেখ করা হয়।
“বছরের প্রথম দিনে খুলনায় আরও কমলো সবজির দাম”
মোঃ শামীম হোসেন- খুলনা –
বছরের প্রথম দিনে খুলনার বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্যেরই দাম বাড়েনি। তবে একাধিক পণ্যের দাম কমেছে। রবিবার (০১ জানুয়ারি) খুলনা মহানগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজার, টুটপাড়া জোড়াকল বাজার, রূপসা বাজার, চানমারী বাজার ঘুরে এমনটা জানা যায়। বাজারে শীতকালীন সবজির দাম আরও একদফা কমেছে। একই সঙ্গে মুরগির দামও আছে ক্রেতা নাগালের মধ্যে। গরু আর ছাগলের মাংসের দামে কোনো হেরফের নেই।
নগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের সবজি বিক্রেতা রবিউল, মনির, মাসুম জানান, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, শিম, বিটকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি দরে। বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বরবটি ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০-৮০ টাকা, লালশাক আঁটি ২০ টাকা, লাউশাক ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জোড়াকল বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী লিপু, মনির, বাদল জানান, বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৫০ টাকা, সোনালী ২৫০ টাকা, রাজহাঁস ৪০০ টাকা, চীনা হাস ৪০০ টাকা, দেশি মুরগি ৪৩০ টাকা। গত চার-পাঁচ দিন ধরে একই দাম বিরাজমান।
নগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারে মুরগি কিনতে আসা গৃহিণী নাফিসা বেগম বলেন, ‘এখন বাজারে সবজি আর মুরগি কিনে খুশি মনে বাড়ি ফিরতে পারছি। ১২০ টাকার সবজি এখন মাত্র ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বছরের শেষ দিনে মুরগির দাম বাড়ে। এবার দাম কম পেলাম। তবে মাছের দাম আগের মতোই। বেসরকারি চাকরিজীবী নবীন বিশ্বাস বলেন, ‘আর কয়দিন পর শীতের সবজি বাজারে ৫-১০ টাকায় পাওয়া যাবে। সবজির মত চিনি, তেল ডালের দাম কমলে মানুষ একটু ভালোভাবে চলতে পারবে। নগরীর ময়লাপোতার গরুর মাংস বিক্রেতা জাহিদ হোসেন, আরমান শেখ বলেন, দাম কমা কিংবা বাড়ার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নাই। বাজারে এখন গরুর মাংস ৬৫০ টাকা আর ছাগলের মাংস ৮৫০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।