“দ্বিতীয় দিনেও চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য খালাস বন্ধ”


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৯, ২০২২, ৪:২১ অপরাহ্ন / ৪৪২
“দ্বিতীয় দিনেও চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য খালাস বন্ধ”

“দ্বিতীয় দিনেও চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য খালাস বন্ধ”
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরো:

নৌ শ্রমিকদের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দরে
বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে তৈরি হয়েছে স্থবিরতা। সোমবার (২৮ নভেম্বর) বহির্নোঙরে কয়েকটি জাহাজ পণ্য
খালাসের জন্য প্রস্তুতি নিলেও শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে তা বন্ধ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, রোববার বন্দরের বহির্নোঙরে বিভিন্ন পণ্যবাহী ২২টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস
চলছিল। সেগুলোর সঙ্গে সোমবার কয়েকটি জাহাজ পণ্য খালাসের জন্য প্রস্তুতি নিলেও শ্রমিকদের কর্মবিরতির
কারণে তা বন্ধ রয়েছে। এর আগে রোববার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরসহ সারাদেশে কাজে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন নৌযান শ্রমিকরা। তারা সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবি জানান।
দাবিগুলো হলো- দুর্ঘটনায় মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ, কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক
কল্যাণ তহবিল গঠন, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিংপাস দেওয়া, রাতে বাল্কহেড চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল
করা, বাংলাদেশের বন্দরসমূহ থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা শতভাগ কার্যকর করা, চট্টগ্রাম বন্দরে চরপাড়া
ঘাটের ইজারা বাতিল এবং চট্টগ্রাম থেকে পাইপ লাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম বন্ধ
করা। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে বন্দরের ভেতরে
অপারেশনাল কার্যক্রম, কন্টেইনার লোড-আনলোড, বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে
বহির্নোঙর এবং কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন ঘাটে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য উঠানামা বন্ধ রয়েছে।
নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নবী আলম বলেন, ১০ দফা দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি
চলছে। দাবি নিয়ে আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু মালিক ও মন্ত্রণালয় কোনো পক্ষই বৈঠকে আসছে না।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখবো।

“এসএসসি: চট্টগ্রামের ৭১ স্কুলে শতভাগ পাস”
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রামে এসএসসিতে সেরা ফলাফলে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। এবারও এসএসসি পরীক্ষার শতভাগ পাস সেরা স্কুলের তালিকায় উঠে এসেছে
চট্টগ্রাম নগরের ১০ স্কুলের নাম। এছাড়াও চট্টগ্রামের ৭১টি স্কুলের কেউ ফেল করেনি, কৃতকার্য হয়েছে সবাই।
প্রতিবার যেখানে শতভাগ পাস এবং জিপিএ-৫ শিক্ষার্থীর দিক থেকে এগিয়ে সেরার তালিকায় থাকত চট্টগ্রাম
কলেজিয়েট স্কুল। সেখানে এবার একজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় এবার তালিকার শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে
পড়েছে স্কুলটি। এবার বোর্ডের এক হাজার ৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে সেরার তালিকায় জায়গা করে
নিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা বিদ্যালয়। যেখানে ৬১০ জন পরীক্ষার্থীদের সবাই পাস করেছেন।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। তাদের পরীক্ষার্থী ছিল ৪৭৯ জন।
তৃতীয় স্থানে আছে চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৪৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায়
অংশ নেয়। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫৫ জন। ২২১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস করে ৪র্থ অবস্থানে রয়েছে সেন্ট প্লাসিড স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ৫ম অবস্থানে রয়েছে জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ২২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করে।
পাসের হারের ভিত্তিতে সেরা দশে থাকা নগরের বাকি পাঁচ বিদ্যালয়ের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম
ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক কলেজ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২১৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে।
সপ্তম স্থানে রয়েছে ক্যান্টনম্যান্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই স্কুল থেকে ২১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ
নেয়। অষ্টম স্থানে রয়েছে চকরিয়া গ্রামার স্কুল। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার ২০৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে
সবাই পাস করেছে। নবম স্থানে রয়েছে হালিশহর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২০৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। দশম স্থানে আছে কুসুমকুমারী সিটি করপোরেশন বালিকা বিদ্যালয়। এই
প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই কৃতকার্য হয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভালো ফলাফল করেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার।
তিনি বলেন, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একান্ত প্রচেষ্টা ছিল। এর
ফলে প্রতিবছরের যে ধারাবাহিকতা তা আমরা রক্ষা করতে পেরেছি।

“চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার কমেছে, বেড়েছে জিপিএ-৫”
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৮৭.৫৩
শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ হাজার ৬৬৪ জন, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।সোমবার (২৮ নভেম্বর) চট্টগ্রাম
শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ন চন্দ্র নাথ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গতবারের তুলনায় পাসের হার কমেছে। কারণ গতবার শুধুমাত্র তিন বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে। এবার সব বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে। সে তুলনায় ফলাফল এগিয়েছে। তবে পরীক্ষার্থীরা বিগত বছরের তুলনায় খারাপ ফল করেছে। জিপিএ-৫ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ছাত্রীরা।
ফলাফল বিবরণীতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বর্ডে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ২১৩টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৯২টি স্কুলের মোট
পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার জন। এর মধ্যে উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪০ জন। পাস করেছে ১ লাখ ৩০
হাজার ১৩ জন।
পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৬৭ হাজার ১৭১ জন এবং ছাত্রী ৭৭ হাজার ৩৭৯ জন। পাসের হার ৮৭.৫৩ শতাংশ, যা
গত বছরের তুলনায় ৪.৩ শতাংশ কম। ছাত্র পাসের হার ৮৭.৩৩ শতাংশ যা গত বছরের তুলনায় ২.৮১ শতাংশ কম এবং
ছাত্রী পাসের হার ৮৭.৬৯ শতাংশ যা গত বছরের তুলনায় ৪.৩ শতাংশ কম। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে সর্বমোট ১৮ হাজার ৬৬৪ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হাজার ৮৭৩ জন বেশি। এর মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৭৭৫ জন, যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার ৩৯৩ জন বেশি এবং ছাত্রী ১০ হাজার ৮৮৯ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৩ হাজার ৪৮০ জন বেশি। এ বছর বিজ্ঞানে পাসের হার ৯৬.৮১ শতাংশ, মানবিকে ৭৮.৮২ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৯১.৩০ শতাংশ। বিজ্ঞানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ৫২৫ জন, মানবিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬৬৩ জন।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে পাসের হার ৯৪.২১ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ১.০৭ শতাংশ কম। মহানগরীসহ চট্টগ্রাম জেলায়
পাসের হার ৮৯.১১ শতাংশ। কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৮৮.৪৫ শতাংশ, রাঙ্গামাটি জেলায় ৮১.৬০ শতাংশ, খাগড়াছড়ি জেলায় ৭৫.৬৭ শতাংশ এবং বান্দরবান জেলায় ৭৮.৩৬ শতাংশ।
জিপিএ-৫ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এগিয়ে আছে ছাত্রীরা। গত বছরের তুলনায় তাদের জিপিএ-৫ বেড়েছে ৩ হাজার ৪৮০। চট্টগ্রাম
শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পিছিয়ে পড়া পার্বত্য এলাকায়ও এবার পাসের হার গত বছরের তুলনায় কমেছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ সেপ্টেম্বর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতি ও বন্যার কারণে দীর্ঘদিন
আটকে থাকার পর অনুষ্ঠিত হয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।