দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণে জরিপ কাজ শুরু হচ্ছে।


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৭, ২০২২, ৫:৪০ অপরাহ্ন / ৪৫৫
দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণে জরিপ কাজ শুরু হচ্ছে।

দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণে জরিপ কাজ শুরু হচ্ছে।
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরো:

দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি,তা নতুন করে নির্ধারণের জন্য কাজ শুরু হচ্ছে।
জরিপ অধিদপ্তরের ৩৫জনের একটি দল বান্দরবানে গিয়ে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণে কাজ শুরু করবে।
সুত্রে জানা যায়, জরিপ দলের সদস্যরা ৪০ দিন ধরে বান্দরবান জেলার রুমা ও থানচি উপজেলার পাহাড়গুলো পরিমাপ
করে সর্বোচ্চ পাহাড়ের শীর্ষবিন্দু নির্ণয় করবেন। দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বান্দরবানের তাজিংডং নাকি সাকা হাফং
জরিপের মধ্য দিয়ে সেই বিতর্কও নিরসন হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
সুত্রে আরো জানা যায়, বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলায় অবস্থিত কেওক্রাডংকে একসময় দেশের সর্বোচ্চ পাহাড় হিসেবে
ধরা হতো, বর্তমানে তাজিংডং পাহাড়কে সর্বোচ্চ বলা হচ্ছে। তবে পাহাড়ে গহীনে যারা ভ্রমণ করেন তাদের অনেকেই
দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে তাজিংডং নয়, সাকা হাফং বা মদক তং দেশের সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ। এই বিতর্ক
নিরসনের জন্য জরিপ অধিদপ্তর থেকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ণয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সুত্রে আরো জানা যায়, বাংলাদেশের সর্বোচ বিন্দু বা পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণ ও সরকারিভাবে পর্বতের উচ্চতা পরিমাপের জন্য
২০২২ সালের ১৭ মে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের সার্ভেয়ার
জেনারেল অব বাংলাদেশ এর কাছে একটি পত্র প্রেরণ করে। আর ওই পত্রে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিন্দু বা পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণ ও
অন্যান্য পর্বতগুলোকে সরকারি ভাবে পরিমাপ করে গেজেট প্রণয়নের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। পত্রের প্রেক্ষিতে সম্মতি প্রকাশ করে সম্প্রতি জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (জরিপ) দেবাশীষ সরকার জেলা প্রশাসককে একটি পত্র প্রেরণ করেন এবং বান্দরবানে এসে থানচি ও রুমা এলাকার পাহাড়সহ দুর্গম এলাকায় অবস্থিত পাহাড় গুলো পরিমাপের কথা জানান।
ওই পত্রে জরিপ দলের সদস্যরা প্রিসিশন টোটাল স্টেশন, আরটিকে-জিপিএস, স্ট্যাটিক জিপিএস, হ্যান্ড হেল্ড জিপিএস,
আরটিকে রেডিও লিংক লেভেল মেশিনসহ উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পাহাড় এর গড় উচ্চতা নির্ণয় করবেন বলে জানান।
জরিপ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী তত্তবধায়ক এরশাদুল হক মন্ডল এই দলের নেতৃত্ব দেবেন আর জরিপ দলটি বান্দরবানের
থানচি ও রুমা উপজেলায় ৪০দিন ধরে বিভিন্ন পাহাড়ের উচ্চতা পরিমাপ করবেন বলে জানান জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত
জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুরাইয়া আক্তার সুইটি। তিনি আরো জানান, শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) জরিপ অধিদপ্তরের ৩৫জনের একটি দল বান্দরবানে এসে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণে কাজ শুরু করবে।

“চট্টগ্রামের ট্যুরিস্ট স্পট পরিদর্শনে ৩৮  ভারতীয় পর্যটক”
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রামের ট্যুরিস্ট স্পট পরিদর্শনে এসেছেন ভারতীয় ৩৮ জন পর্যটক।
ভারতের আগরতলা ও ত্রিপুরা রাজ্য থেকে আগতদের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে চট্টগ্রাম ট্যুরিস্ট পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) ভারতীয় পর্যটক দল চট্টগ্রামের পতেংগা সী বিচ, চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা, ইসকন মন্দির,
কৈবল্যধাম ও রামকৃষ্ণ মন্দির পরিদর্শন করেন।
বিকেলে পতেংগা সী বিচে আগত ভারতীয় পর্যটক দলকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান চট্টগ্রাম ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি
মো. আপেল মাহমুদ ও এডিশনাল এসপি হাসান ইকবাল। এ সময় চট্টগ্রাম ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার
ইফতেখার হাসান, পতেংগা সী বিচ ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. ইসরাফিল মজুমদার সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা
উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করে ট্যুরিস্ট পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ভারতীয়
পর্যটক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

“সিআইডি-ক্রাইম পেট্রল দেখে শিশু আয়াতকে অপহরণ ও হত্যা”
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রামে নিখোঁজের ১০ দিন পর শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতের খণ্ডবিখণ্ড লাশ
উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী রোড এলাকা থেকে লাশটি
উদ্ধার করা হয়। পার্শ্ববর্তী মসজিদে আরবি পড়তে ঘর থেকে বেরিয়েছিল পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু আয়াত। পরে
আর ঘরে না ফেরায় হন্যে হয়ে তাকে খোঁজে পরিবারের লোকজন। তার সন্ধান চেয়ে পোস্টার ও প্রচারপত্রও বিলি করা হয় বিভিন্ন এলাকায়। আয়াত নিখোঁজ হয় ১৪ নভেম্বর। কিন্তু বেশ কয়েকদিন কোথাও সন্ধান মেলেনি। আয়াত চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছমুন্সী বাড়ি এলাকার সোহেল রানার মেয়ে।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ইপিজেড থানায় জিডি করা হয়। তার
দাদা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে আবেদন করেন নাতনির সন্ধান চেয়ে। এরপর
আয়াতের সন্ধানে মাঠে নামে পিবিআই। আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে আর
স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে কথা বলে আয়াতের ভাড়াটিয়ার ছেলে আবীর আলীকে (১৯) আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আবীর আয়াতকে খুন করে মরদেহ ছয় টুকরা করে সাগরের পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার
কথা জানায়।
পিবিআই জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া থাকায় আয়াতের বাসায় সবার সাথে সম্পর্ক ছিল আবীরের। সে
সুযোগই কাজ লাগিয়ে সে আয়াতকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল। ১৪ নভেম্বর বিকেল
সোয়া ৩টার দিকে পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয় আয়াত। ওই সময় আবীর
তাকে কোলে নেয়। যেটা ওই এলাকায় খেলাধুলা করা অন্য শিশুরাও দেখেছিল। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরায়ও
সেটি দেখা গেছে। এরপর তাদের নিচতলায় বাবার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় আবীর। সেখানেই আয়াতকে
শ্বাসরোধে খুন করে আবীর। তারপর শিশুটিকে ছয় টুকরা করে সাগরে ভাসিয়ে দেয় সে।
শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) আবীরকে নিয়ে পুলিশ নগরের আকমল আলী সড়কের স্লুইস গেট সংলগ্ন নালায় এবং
পরবর্তীতে আউটার রিং রোড সংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকার সমুদ্র পাড়ে যায়। তবে ‘সাগরের পানিতে’ ভেসে
যাওয়ায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি। আকমল আলী সড়কে তার মায়ের বাসার সামনে একটি ঝোপ
থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি উদ্ধার করে। এছাড়া আয়াতের বাসার পাশে কবরস্থানে আয়াতের পায়ের স্যান্ডেল
উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মর্জিনা আক্তার জানান, আবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বীকার করে যে
বেশকিছু দিন ধরে সে পরিকল্পনা করেছিল আয়াতকে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়
করার। ওই জন্য রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি সিমও সে সংগ্রহে রেখেছিল। যাতে ওই নম্বর থেকে ফোন করে
টাকা দাবি করতে পারে। কিন্তু সিমটি সচল না থাকায় সে আর ফোন করতে পারেনি। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে খুনের কথা স্বীকার করলেও আবীর পুলিশকে বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা করেছিল। তবে আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতেই মূলত সে হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত স্বীকার করে আলামত কোথায় আছে তা পুলিশকে জানায়।
আবীর পুলিশকে জানায়, মা-বোনকে আয়াতের বাসায় পাঠিয়ে সে রাতে একটি কাটার ও কিছু পলিথিন কেনে।
কাটার দিয়ে আয়াতকে কেটে টুকরো করতে না পেরে বাসায় থাকা বঁটি দিয়েই শরীর থেকে হাত, পা ও মাথা
বিচ্ছিন্ন করে। এরপর পলিথিনে মুড়িয়ে স্কচ টেপ দিয়ে পুনরায় মালামাল রাখার শেডে রেখে দেয়। পরদিন সকালে
ও রাতে সাগর সংলগ্ন একটি নালায় তিনটি করে ছয়টি প্যাকেট ফেলে দেয়।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা জানান, আশপাশের বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার
ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আর স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেশী আবীরকে আটক করা হয়। তাকে বিভিন্ন
সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে আয়াতকে খুন করে মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরের পানিতে ভাসিয়ে
দেওয়ার কথা স্বীকার করে। পুলিশ সুপার জানান, আবীরের বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ায় সম্প্রতি তার মা আকমল আলী সড়কের পকেট বাজার এলাকায় আলাদা একটি বাসা ভাড়া নিয়েছেন। তবে বাবা এখনো আয়াতদের বাড়িতেই থাকেন।
সে জানিয়েছে, ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রল’ও ‘সিআইডি’ তার পছন্দের সিরিয়াল। মূলত সেসব
অনুষ্ঠান দেখেই মুক্তিপণ আদায়, মরদেহ গুম, আলামত নষ্ট সবকিছুই সেখান থেকে শিখেছে বলে জানিয়েছে
আবীর।

“উখিয়ায় পুলিশের অভিযানে ৯১ রোহিঙ্গা আটক”
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ

কক্সবাজারের উখিয়ার থানার মোড় থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৯১ জন
রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। এসময় তাদের বহনের অভিযোগে দুইটি হানিফ বাসও জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়া থানা গেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিক্তিতে তাদের আটক
করে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত কয়দিন আগে রোহিঙ্গারা দুইটি বাস ভাড়া নেন। তারা ইজতেমায় যাওয়ার জন্য জড়ো
হয়েছিল। তবে অন্যরা বলছেন ভিন্ন কথা। রোহিঙ্গারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পালিয়ে যাচ্ছে। আটককৃত রোহিঙ্গাদের
ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আটককৃতরা রোহিঙ্গারা উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে উখিয়া থানার তদন্ত ওসি বিপুল চন্দ্র দে
নিশ্চিত করেন। তবে তাদের নাম-ঠিকানা জানাতে পারেনি। উখিয়া থানার তদন্ত ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন, আটককৃত রোহিঙ্গারা উখিয়া থানায় রয়েছে। রোহিঙ্গা বহনের দায়ে বাস দুইটি জব্দ করা হয়। স্থানীয়রা জানান, উখিয়া ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট উঠে যাওয়ায় রোহিঙ্গারা ইচ্ছেমতো যেকোনও যায়গায় চলে যাওয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলীর ফোনে বারবার কল করেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব
হয়নি।