“ঝিকরগাছা বাসস্ট্যান্ডে মরা রেইনট্রি শিশু গাছটি এখন যমদূত”


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৬, ২০২২, ৮:৫৪ অপরাহ্ন / ৩২১
“ঝিকরগাছা বাসস্ট্যান্ডে মরা রেইনট্রি শিশু গাছটি এখন যমদূত”
“ঝিকরগাছা বাসস্ট্যান্ডে মরা রেইনট্রি শিশু গাছটি এখন যমদূত”
আঃজলিল,ড স্টাফ রিপোর্টারঃ—
যশোর বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছা বাসস্ট্যান্ডে অবস্হিত বিশাল বড় আকারের মরা, শুকিয়ে যাওয়া রেইনট্রি (শিশু গাছ) গাছটি এখন সাক্ষাৎ যমদূতে পরিনত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি বা বাতাসে এর শুকনো ডাল ভেঙে পড়ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন এই ভাঙা ডালের আঘাতে আহত হয়েছে। বড় আকারের ঝড়বৃষ্টি হলে এই গাছটি উপড়ে পড়ে ব্যপক প্রাণহানি সহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করছেন এলাকাবাসী। যশোরের ঝিকরগাছা বাজার একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। এই বাজারের  প্রাণকেন্দ্রে বাসস্ট্যান্ড অবস্হিত। আর বাসস্ট্যান্ডের একেবারে মাঝখানে মরা গাছটি যমদূত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই গাছের নীচে রয়েছে ৩৩ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তারের খুটি আর তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার। একেবারে গাছের নীচেই আছে ঝিকরগাছা বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদ, এস কে সুপার মার্কেট, একটি হোটেল, ট্রাক মালিক সমিতির অফিস, একটি মুদিখানা, একটি চায়ের দোকান সহ ভ্রাম্যমাণ ফলের দোকান। যশোরগামী বাসগুলো প্রতিনিয়ত এই গাছের নীচে এসে দাড়িয়ে থাকে। তাছাড়াও সারাদিন এই গাছের নীচে দিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। এরকম ব্যস্ততম একটি জায়গায় এই মরা গাছটি দাড়িয়ে থাকায় জনমনে সর্বদা চরম আতংক বিরাজমান।
গাছের নীচে অবস্থিত চা বিক্রেতা হাকিম জানান, শুধুমাত্র পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে দোকানদারি করি। সামান্য বাতাসেই এই মরা গাছের ডাল ভেঙে পড়ে। আমার দোকানের ওপরেও একবার গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আমি আহত হয়েছি। গাছটি কেটে ফেললে ভালো হয়। বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদ এর পেশ ইমাম জনাব আব্দুস শুকুর বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লিদের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময়ই শংকিত থাকি, কখন না জানি গাছের ডাল ভেঙে মসজিদের উপর পড়ে। স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি জানিয়েছি কিন্তু গাছ কাটা হয়নি।
এসকে সুপার মার্কেট এর মালিক বাবুল হোসেন বলেন, এই গাছটি যদি ভেঙে পড়ে তাহলে আমার মার্কেট এর ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। আমার দোকান সহ এই গাছের নীচে অবস্থিত আরও দোকানে সবসময় মালিক, কর্মচারী এবং খরিদদার থাকে। সবসময় আতংকে থাকি কখন না জানি গাছ ভেঙে মানুষ মারা যায়।ঝিকরগাছার ঐতিহ্যবাহী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেবা’র সহ সভাপতি আলীশাহ বলেন, আমরা গত ৬ বছর ধরে যশোর বেনাপোল মহাসড়কের সকল গাছ অপসারণ করতে আন্দোলন, সংগ্রাম, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে চলেছি। কিন্তু পরিবেশবাদী নামধারী কিছু অবিবেচক উন্নয়ন বিরোধী লোকের একটি আবেদনের দোহাই দিয়ে এই গাছগুলো কাটা হচ্ছে না যেটি অত্যান্ত দুঃখজনক।
ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ মাহবুবুল হক জানান, এই গাছ সহ যশোর বেনাপোল মহাসড়কের সকল মৃত ঝুকিপূর্ণ গাছগুলো অপসারণের জন্য আমি জেলা পরিষদে চিঠি দিয়েছিলাম কিন্তু কোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় গাছগুলো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এই গাছগুলোর কারনে মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় জনগন এই মরা শুকনো গাছটি সহ যশোর বেনাপোল মহাসড়কের সকল গাছ অপসারণ করে অনতিবিলম্বে রাস্তাটি ছয়লেনে উন্নীত করার দাবী জানিয়েছেন।
প্রেরক,
আঃজলিল

যশোরে দুই চোরকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ।  

আঃজলিল, স্টাফ রিপোর্টারঃ–

যশোরে গভীর রাতে বসতঘরে চুরি করে পালানোর সময় মিজান (২০) ও আরিফ (২৫) নামে দুই চোরকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপার্দ করেছে জনগণ। সোমবার (১৪ নভেম্বর) ভোররাতে যশোর সদরের নরেন্দ্রপুর রুপদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক দুইজন পাশের গ্রাম শ্রীবদ্দির এলাকার বাসিন্দা।

নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের আইসি উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ইসলাম বলেন, মিজান ও আরিফ নামে এই দুইচোর গত রাতে রুপদিয়া গ্রামে জিয়াউর রহমান জিয়ার বসতঘরে কৌশলে ঢুকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল নিয়ে পালানোর সময় জিয়া টের পান।

এসময় তার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ওই চোরদের আটক করে গণপিটুনি দেয়।পরবর্তিতে গণপিটুনির শেষে দুই চোরকে স্হানীয় এলাবাসিরা মিলে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।

বেনাপোল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ-২০২২। 

আঃজলিল, স্টাফ রিপোর্টারঃ–

গতি-সেবা-ত্যাগ এমন অঙ্গিকারে অঙ্গিকারাবদ্ধ বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রতিষ্ঠানটি অত্যান্ত দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিবছরের ন্যায় জন সচেতনতা বৃদ্ধি’র লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ উদযাপণ করে থাকে। এ উপলক্ষ্যে দেশ ব্যাপি ফায়ার স্টেশনে চলছে ৩দিন ব্যাপি ” ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২২”এর কর্মসূচি।মঙ্গলবার(১৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বেনাপোল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ-২০২২। এর শুভ উদ্বোধণ ঘোষনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ৮৫,যশোর-১ শার্শা আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিন।

প্রধান অতিথি সকালে বেনাপোল ফায়ার স্টেশন পৌছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সেখানকার ইনচার্জ ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর রতন কুমার দেবনাথ।জাতীয় পতাকা ও বিভাগীয় পতাকা উত্তোলণ শেষে অভিবাদন ও প্যারেড পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথি। ফায়ার সার্ভিস সম্পর্কে জনসচেতনতা আনতে ফায়ার স্টেশন প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারায়ন চন্দ্র পাল।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু(চেয়ারম্যান,শার্শা উপজেলা পরিষদ ও সভাপতি,শার্শা উপজেলা আ.লীগ),বেনাপোল পোর্টথানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ কামাল হোসেন ভূঁইয়া,বেনাপোল পৌর আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন,শার্শা উপজেলা যুবলী সভাপতি-অহিদুজ্জামান অহিদ। দীঘিরপাড় ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি-আব্দুল হক খোকন,সাধারণ সম্পাদক-মাইদুল ইসলাম সহ ঐ এলাকার আ.লীগ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-নেতৃবৃন্দ।পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত এবং ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর রতন কুমার দেবনাথ এর স্বাগতিক বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি শেখ আফিল উদ্দিন বলেন,”অগ্নি দুর্ঘটনাসহ প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সকল দুর্যোগ-দুর্ঘটনার বিষয়ে জনসাধারণকে আরও সচেতন করার লক্ষ্যে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২২’ উদযাপিত হচ্ছে। আমি বেনাপোল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি জরুরি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সকল দুর্যোগে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির সদস্যগণ, সবার আগে তারা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তাদের আত্মবিসর্জনের ঘটনা প্রমাণ করে দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যগণ কতটা নিবেদিত”।“বিভিন্ন সময় দেশের জান-মাল রক্ষা করতে গিয়ে আত্মাহুতি দেওয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সকল সদস্যের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাস্তবমুখী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন”।“ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি এই বাহিনীর সদস্যদের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করতে ঢাকার অদূরে মুন্সিগঞ্জ জেলায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফায়ার একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বমানের একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের কর্মদক্ষতা বিশ্বমানে উন্নীত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স- এর কর্মীরা সাহস, সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবেন এই আমার প্রত্যাশা”।বেনাপোল ‌‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২২’-এর সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করে আজকের এই কর্মসুচি’র শুভ উদ্বোধণ ঘোষণা করা হলো।

প্রেরক,

আঃজলিল