জয়পুরহাটে শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৩, ২০২২, ৫:৪০ অপরাহ্ন / ২৮৭
জয়পুরহাটে শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

জয়পুরহাটে শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা..
মোঃ জাহিদুল ইসলাম। কালাই (জয়পুরহাট)সংবাদদাতাঃ
জয়পুরহাটে শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করছেন তারা। ইতোমধ্যে জেলার পাঁচটি উপজেলায় বিভিন্ন জাতের চারা বিক্রি করে অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, শীতকালীন সবজির চারা বিক্রি করে অনেকে লাখপতিও হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর শুধু সবজি চারা বিক্রি হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা। ফলন খরচ পুষিয়ে লাভ পাচ্ছে বিভিন্ন সবজি চারা উৎপাদনকারী এ অঞ্চলের কৃষকরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এখানকার কৃষকরা তাদের প্রয়োজনে চারা উৎপাদন করেন, আবার অনেকেই কিনে জমিতে লাগান। বর্তমানে জেলার সদর, পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর ও কালাই—এ পাঁচ উপজেলায় শীতকালীন সবজির চারা বিক্রি করে অনেকে লাখপতিও হয়েছেন।
চলতি মৌসুমের জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া অঙ্কুরোদ্গমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে বিক্রি চলবে নভেম্বর মাস শেষ পর্যন্ত। এ চার মাস সময়কালে পলিথিনে মোড়ানো শেড তৈরি করে চার-পাঁচবার পর্যন্ত বীজ অঙ্কুরোদ্গমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে বিক্রি করতে পারেন কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার পূরানাপূল এবং ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের দুই মেইন রোড এলাকায় মাঠজুড়ে পলিথিনে মোড়ানো বীজতলা। এ সকল বীজতলায় চারা কেনার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে চাষিরা আসছেন। বীজতলার মালিকরা বিক্রয়ের জন্য তাদের জমি থেকে চারা তুলছেন। কেউ কেউ বীজতলার ওপরের পলিথিন খুলে উন্মুক্ত করে দিচ্ছেন। আবার কেউ আগাছা পরিষ্কার করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের জুলাই মাস থেকে শীতকালীন সবজি বীজতলা প্রস্তুত করে এতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, চিচিঙ্গা, মরিচ ও টমেটোর বীজ বপন করা হয়। ওই বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা গজালে তা পরিচর্যা করে এক মাস বয়সে জমি থেকে তুলে অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। তারা জানান, ভালো মানের প্রতিটি ফুলকপির চারা এক টাকা থেকে দুই টাকা এবং বাঁধাকপির চারা প্রকারভেদে এক টাকা থেকে দুই টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জয়পুরহাট ছাড়াও আশে-পাশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা এখানে সবজি চারা ক্রয় করতে আসেন  । চারা ক্রয় করতে আসা আক্কেলপুর উপজেলার কৃষক আনোয়ার বলেন, আমি আমার এক বিঘা জমিতে বাঁধাকপি লাগাবো, তাই চারা কিনতে এসেছি। গত বছর এখান থেকে চারা কিনে বেশি ফলন পেয়েছি। পাঁচবিবি উপজেলার উচাই এলাকার হালিম মন্ডল জানান, এখান থেকে চারা নিয়ে রোপণ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। এখানকার চারাগুলো নষ্ট কম হয় এবং ভালো মানের ফসল পাওয়া যায়। এজন্য তিনি এখানে চারা নিতে এসেছেন।
পূরানাপূল এলাকার বীজতলার মালিক কৃষক মৃত্যুঞ্জয় সরকার বলেন, আমি বিগত ২২ বছর ধরে এ ব্যবসা করে আসছি। এ চারা বিক্রি করে অনেক লাভবান হয়েছি। দুই বিঘা জমিতে অঙ্কুরোদ্গমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে থাকি। এগুলো বিক্রি করে প্রতি বছর সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় হয়। তিনি আরও বলেন, আমার বাবার যতটুকু আবাদি জমি ছিলো, সেখানে চারা কিনে নিয়ে এসে আবাদ করা লাগতো। তারপর সময়মতো চারা পাওয়া যেতো না। তাই সময়ের ফসল অসময়ে লাগানোর জন্য ফলনও কম পাওয়া যেতো। মৃত্যুঞ্জয় সরকার জানান, তিনি প্রথমে ১২ কাঠা জমিতে বীজতলা তৈরি করে চারা লাগানো শুরু করেন। সেই বছরেই জমিতে লাগানোর পর অবশিষ্ট চারা বিক্রি করে ৫ হাজার টাকা লাভবান হোন।এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, পাঁচটি উপজেলায় শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করা হয়েছে। সবজি চারা উৎপাদন লাভজনক ব্যবসা বলে কৃষকরা এদিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় উপজেলা ও জেলা কৃষি অফিস বিভিন্নভাবে কৃষকদের এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও চারার গুণগত মান বজায় রাখতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এছাড়া নতুন নতুন জাত ও আগাম সবজির চারা উৎপাদনেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মোঃ জাহিদুল ইসলাম
কালাই (জয়পুরহাট)
০১৭৮৫-৩৫২৫৫৮

কালাইয়ে ধান মাড়াই মেশিনের নিচে পরে শিশুর মৃত্যু… 
মোঃ জাহিদুল ইসলাম। কালাই (জয়পুরহাট) সংবাদদাতাঃ
জয়পুরহাটের কালাইয়ে ধান মাড়াই মেশিনের নিচে পরে ৩ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।গত শুক্রবার সকাল ৮.৩০ মিঃ কালাই উপজেলার  জিন্দারপুর  গ্রামে এ দূর্ঘটনাটি ঘটে।নিহত শিশুটি জিন্দারপুর গ্রামের মো রাজুর একমাত্র ছেলে মোঃ রাকিবুল,বয়স তিন (৩)বছর।স্থানীয় ও পারিবারিক সুত্রে জানা যায়,শিশু রাকিবুল(৩)প্রতিদিনের ন‍্যায় সকালে খেলতে  বের হয়।এসময় শিশুটির চাচা তাকে ভ্যানে উঠার জন্য ডাক দিলে রাস্তার অপর পার্শ্ব থেকে পার হতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা ধান মাড়াই মেশিনের নিচে পড়ে গিয়ে মাথায় প্রচন্ড আঘাত পায়।দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে কালাই আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালাই থানার অফিসার্স ইনচার্জ এস এম মঈনুদ্দিন।শিশুটির মা-বাবা কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকার কারণে নিহত রাকিবুল(৩) তার দাদা-দাদীর সাথে গ্রামের বাড়িতে থাকতো।শিশুটির মৃত্যুতে জিন্দারপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।
মোঃ জাহিদুল ইসলাম
কালাই (জয়পুরহাট)
০১৭৮৫-৩৫২৫৫৮