চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি’র) স্টেশন তলায় একুশে বই মেলা শুরু হয়েছে।


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৩, ৭:৫৭ অপরাহ্ন / ৩৫১
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি’র) স্টেশন তলায় একুশে বই মেলা শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি’র) স্টেশন তলায় একুশে বই মেলা শুরু হয়েছে।
আহমেদ হানিফ –
স্টেশন তলা নামটা শুনতেই কেতাবি অর্থে মনে হতে পারে ব্যস্ততম জনপদের গাড়ি থামাবার নির্দিষ্ট স্থান। সেখানে আবর্তিত হয় নগর জীবনের যাত্রাপথের নানান গল্পের,কল্পনার ছবিতে হয়তো ভেসে উঠতে পারে ব্যস্ততার নানান ঢঙে আঁকা হৈ-হুল্লোড়ের জনজীবনের চিত্র।
না আমাদের গল্পের স্টেশন তলাটি মোটেও তেমন কিছুই নয়, না এটা গাড়ি থামবার স্থান নয়। তাহলে স্টেশন তলাটা কি? তাহলে শুনুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশন সংলগ্ন এক নং গেইট মুখী সড়কের পাশে অবস্থিত একটা ‘চায়ের দোকান’।
বাহারি নাম ও স্বাদের চা পরিবেশনের উদ্দেশ্যে কয়েকমাস আগে যাত্রা শুরু হয় স্টেশন তলার।
চায়ের চুমুকে জীবনের গল্প বলার আয়োজনের সার্থকতা নিহিত স্টেশন তলার প্রতিদিনকার আয়োজন।
গান,আড্ডার তালে তালে ক্যাম্পাস জীবনের যাপিত বাস্তবতার গল্প গুলো জমজমাট হয়ে উঠে বিকাল বেলার চা আড্ডায়।  তাই রসিকজন কিংবা হতাশাগ্রস্ত মানুষের আড্ডার উপলক্ষ্য হয়ে উঠে স্টেশন তলার চায়ের আয়োজন।
স্টেশন তলার পরিচয় প্রদান করা আমার এই আয়োজনের মূখ্য উদ্দেশ্য নয়,
তাহলে স্টেশন তলার বিষয়টি উঠে আসার পিছনে নিশ্চয় কোনো গল্প থাকা অস্বাভাবিক নয়।
বণিতা বাদ দিয়ে আসল কথায় আসি-
আজকের লেখনীর শিরোনাম টানতে গেলে বলা চলে’স্টেশন তলার একুশে বই মেলা’
ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি সকল বাঙালির মননে জাগ্রত করে ভাষাপ্রীতি।ভাষার মাসকে কেন্দ্র করেই নানা স্থানে নানান নামে অনুষ্ঠিত হয় বেশ ঘটা করে আয়োজন।
তার মধ্যে আছে অমর একুশে বই মেলা, শহিদদের স্মরণে শোক সভা ও শহিদ বেধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ।
তারই অংশ হিসেবে স্টেশন তলা আয়োজন করছেন একুশে বই মেলা।
সাত দিনব্যাপী বই মেলার আয়োজন শেষ হচ্ছে একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে।
শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি আসক্ত করার অভিপ্রায়ে এই আয়োজনের সারর্থী হয়েছে,বীকন পাবলিকেশনস,দাঁড়িকমা প্রকাশনী,শৈলী,অক্ষরবৃত্ত, নন্দন বইঘর,বাতিঘর প্রমূখ প্রকাশনী গুলো।
স্টেশন তলার এই আয়োজনের মূখ্য উদ্দেশ্য যদি বলতে যাই তাহলে বলা চলে শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন সাধন করা।
ভাষার মাসে মাতৃভাষায় রচিত চমকপ্রদ প্রচ্ছদের বইগুলো মানুষের হাতে পৌঁছাতে পারলে হয়তো স্বকীয়তা রক্ষায় কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে। বইয়ের মলাটের রঙ ধূসর হয়ে উঠলেও বইয়ের মধ্যে জমাটবদ্ধ শব্দগুলো তো সবসময়ই থাকে নতুনত্বের গান বিলিয়ে যেতে, তাই হয়তো ওমর খৈয়াম বলেছেন, ”রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে,প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, কিন্তু বইখানা অনন্ত-যৌবনা-যদি তেমন বই হয়”।
তাই বলবো মানুষের মননে চিরস্থায়ী রূপ পাক তার অর্জিত জ্ঞানের সূক্ষ্মতম বিষয়টিও।
সার্থকতার মাধ্যমে মানুষের গল্পের আসরে উপস্থাপিত হউক স্টেশন তলার এই মহৎ আয়োজনটি।