“চট্টগ্রামের মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট বাওয়াছড়া”


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৫, ২০২২, ৫:৪১ অপরাহ্ন / ৬০১
“চট্টগ্রামের মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট বাওয়াছড়া”

“চট্টগ্রামের মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট বাওয়াছড়া”

মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ দূর থেকে শোনা যায় ঝরনার নুপুরধ্বনি। অতিথি পাখিদের কলতান,
পাহাড়ি সবুজ গাছের সমারোহ একসঙ্গে উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসুন বাওয়াছড়া কৃত্রিম লেক থেকে। শুধু
লেক নয়, হরিনমারা নামে একটি ঝরনাও আছে সেখানে। উত্তর চট্টগ্রামের অন্যতম মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট
এটি। এ যেন সৌন্দর্যের সঙ্গে অপরূপ সৌন্দর্যের মিতালী! পাহাড়ি ঝরনার মুখে বাঁধ, পাহাড়িয়া সবুজ গাছের সমারোহ।
শিশু থেকে বৃদ্ধ যে কেউ মুগ্ধ হবেন বাওয়াছড়া দেখে। এই স্নিগ্ধ সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পর্যটকদের। মিরসরাই
উপজেলার ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে এটি অবস্থিত।
অনুপম নৈসর্গিক দৃশ্য, দুই পাশে সুউচ্চ পাহাড়, ঝরনা এসব দেখে মুগ্ধ হতে হবেই! মেঘের মতো উড়ে আসা শুভ্র এ
পানি আলতো করে ছুঁয়ে দেখলেই এর শীতল পরশ মুহূর্তে ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে। অঝোরে পাহাড়ের এ ‘কান্না’ যে
কারো মনে নাড়া দেবে। যেন একটু ছুঁয়ে হাত বুলিয়ে যাই! লেকে ছোট্ট একটি নৌকা আছে, সেই নৌকায় লেকে
মনের আনন্দের ঘুরে বেড়ান পর্যটকরা।
প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে দেশের ভ্রমণপিয়াসী মানুষ। অনেকে রাতের বেলায়
চাঁদের আলোয় লেকের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পাহাড়ের পাদদেশে তাঁবু টাঙিয়ে অবস্থান করেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বে এর অবস্থান। সবুজ শ্যামল আঁকাবাঁকা মেঠো পথ পেরিয়ে
বারমাসি ছড়ার মুখে তাই লেকটির নামকরণ করা হয়েছে বাওয়াছড়া লেক। এর মধ্যে সামান্য পথ ছাড়া বাকি
পথ গাড়িতে যাওয়া যায়।
টলটলে শান্ত পানির চুপচাপ বয়ে চলার ধরনই বলে দেবে এর উৎস অবশ্যই বিশাল কিছু থেকে। স্থানীয় লোকদের
বাড়ি ও ক্ষেতের আইলের পাশে বেড়ে উঠেছে বিভিন্ন শাক-সবজির সমাহার। কিছুণের মধ্যেই পর্যটকেরা
আবিষ্কার করবেন লাল আর নীল রঙের ফড়িঙের মিছিল!
যত দূর পর্যন্ত ঝিরিপথ গেছে তত দূর পর্যন্ত তাদের মনমাতানো ঝিঁঝি পোকার গুঞ্জন শোনা যায়। চলার পথে
শোনা যায় হরিণের ডাক। অচেনা পাখিদের ডাক, ঘাসের কার্পেট বিছানো উপত্যকার সঙ্গে। এই লেকের ঝরনার
পানিতে গোসল করার লোভ সামলানো কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। নীল আকাশের বিশালতার নিচে সবুজের
সমারোহ। এ যেন প্রকৃতির লীলাখেলা।
ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী নামজুল ইসলাম রাকিব জানান, আমি এখানে প্রথমবার এসেছি। অনেক সুন্দর
জায়গা। তবে এখনো পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠেনি। সরকার একটু নজর দিলেই এটি হবে চট্টগ্রামের মধ্যে
অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র। এছাড়া এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা জরুরি।

রাতে তাবু টাঙিয়ে রাত কাটানো কলেজ ছাত্র আকবর হোসেন বলেন, ‘বাওয়াছড়ায় দিনের বেলায় অনেকবার
এসেছি। গত কয়েকদিন আগে বন্ধুরা মিলে এখানে ক্যাম্প করে রাত কাটিয়েছি। এক কথায় অসাধারণ। সারা
রাত লেকের পাড়ে হুই হুল্লোড়, খাওয়া-ধাওয়া, বারবিকিউ অনেক আনন্দ হয়েছে।’
চট্টগ্রাম শহর থেকে আসা পর্যটক ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ‘বাওয়াছড়া অনেক সুন্দর জায়গা। এ প্রকল্পকে ইকো
ট্যুরিজমের আওতায় এনে যদি উন্নয়নমূলক কাজগুলো হাতে নেয় তাহলে ভবিষ্যতে এটি সম্ভাবনাময় একটি
জায়গা হবে।’
‘বিস্তীর্ণ পাহাড় এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এখানে কেউ যদি বাস্তবে না আসে তাহলে বুঝতে পারবে না যে
এই জায়গাটা কতটুকু সুন্দর। সরকার যদি উদ্যোগ নেয় তাহলে আরও পর্যটক আসবে।’
কীভাবে যাবেন?দেশের যে কোনো জায়গা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার ছোট কমলদহ
বাজারের দক্ষিণ পাশে নেমে মাত্র দেড় কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে প্রকল্পের অবস্থান।সড়কের মূল প্রবেশ
মুখে প্রকল্পের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। যে কোন ছোট গাড়ি নিয়ে প্রকল্প পর্যন্ত যাওয়া যাবে।
থাকা-খাওয়ালেকের ২শ গজের মধ্যে আছে ‘বাওয়াছড়া লেক রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট’। সেখানে একসঙ্গে ১০জন
থেকে শুরু করে ৩০০ জন একসঙ্গে খেতে পারবেন। এছাড়া কমলদহ বাজারে রয়েছে বিখ্যাত ‘ড্রাইভার’ হোটেল।
এই হোটেলের খাবার উত্তর চট্টগ্রামে খুব জনপ্রিয়। তবে এখানে থাকার ব্যবস্থা না থাকলেও প্রকল্প এলাকা থেকে
মাত্র ৪০ মিনিটের পথ চট্টগ্রাম শহরের এ কে খান মোড় ও অলংকারে থাকার জন্য আছে মায়ামী রিসোর্ট ও
রোজভিও।

“চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে চালু হচ্ছে ইলেকট্রনিক গেট”

মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ভোগান্তিহীন যাতায়াতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু হচ্ছে ইলেকট্রনিক গেট।  ৬টি ই-গেটের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক
উদ্বোধন হবে মঙলবার (১৫ নভেম্বর)।
এর মধ্যে ৩টি গেট দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রীরা যাওয়ার সময় এবং ৩টি গেট দিয়ে আসার সুযোগ পাবেন।  ২০২০
সালে দেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) থেকে এগিয়ে ই-পাসপোর্ট চালু হয়। এরই ধারাবাহিকতায়
২০২২ সালের ৭ জুন চালু হয় সর্বাধুনিক স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থা বা ই-গেট।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার তাসলিম আহমেদ জানান,
‘মঙলবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী ৬টি ই-গেট এর
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এর মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের
কাতারে আরও একধাপ এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বর্তমান জনবল দিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সেজন্য ইতিমধ্যে তাদের
প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিশেষ প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ই-গেট ব্যবহারের জন্য যাত্রীর অবশ্যই ই-পাসপোর্ট থাকতে হবে। প্রথমে ই-গেটের প্রবেশপথে নিজের
ছবি, তথ্য ও বারকোডযুক্ত পৃষ্ঠা স্ক্যান করতে হবে। সেখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে সব তথ্য
যাচাই হলে খুলবে প্রথম ধাপ। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যামেরাযুক্ত ফেসিয়াল রিকগনিশনের মাধ্যমে পাসপোর্টের
ছবির সঙ্গে যাত্রীর তাৎক্ষণিক পাওয়া মুখমণ্ডল মিলানো হবে। মুখমণ্ডল মিলে গেলে খুলে যাবে দ্বিতীয় গেটও।
সার্ভার এবং সিষ্টেম ঠিক থাকলে ২০-২২ সেকেন্ডের মধ্যেই একজন যাত্রীর ইমিগ্রেশন শেষ হবে।
কোনও কারণে ই-পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে বর্তমান মুখমণ্ডল না মিললে ই-গেট ব্যবহার করা যাবে না। এরপরও
যাত্রীকে চূড়ান্ত অনুমতির জন্য ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার কাছে যেতে হবে। কারণ, পাসপোর্টের তথ্য ই-গেটে
ইলেকট্রনিক্যালি যাচাই করা হলেও ই-ভিসা সব দেশে নেই। তাই সেই ভিসা যাচাই করতে হয় ম্যানুয়ালি। যাচাই
করে এর বিপরীতে সিল, স্বাক্ষর দিতে হয় ইমিগ্রেশন দফতরকে।

“চট্টগ্রামে ফুটপাতজুড়ে শীতের পোশাক”
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ চারপাশে হেমন্তের হিম হিম হাওয়া, ভোরের কুয়াশার চাদর, দিনের বেলার ঠাণ্ডা
বাতাস, রাতে শীত শীত অনুভূতিই জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। আর এ শীতকে মোকাবিলার জন্য এখন  চলছে
সামর্থ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাপড় ক্রয়পর্ব। বন্দরনগর চট্টগ্রামের সবগুলো বিপণী বিতানসহ ফুটপাতজুড়ে দিন রাতে
সমান তালে চলছে শীতের কাপড় বিক্রি।
শীতের আগমন বার্তায় জমজমাট হয়ে উঠেছে শীতের পোশাকের দোকানগুলো। ফুটপাতেও চলছে বিকিকিনি। তবে বাড়েনি
ক্রেতার সংখ্যা।ঘাঁটাঘাটি করছে শীতের পোশাকের।
ছেলেদের কোট, ব্লেজার, জ্যাকেট, সোয়েটার, কানটুপি, মাফলার, মেয়েদের কার্ডিগান, শাল, ভারী ওড়না আর শিশুদের রং
বে-রঙের বাহারি শীতের কাপড় এসেছে বেশি। একইসঙ্গে লেপ-তোশক, কম্বলের সংগ্রহও বেড়েছে।
সামর্থ্যবান পুরুষ, নারী ও তরুণীদের কাছে এখনো কাশ্মিরী আলোয়ান-শালের কদর রয়ে গেছে আগের মতোই। নতুন-
পুরোনো শীতের পোশাকের জন্য উচ্চমধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে সব শ্রেণির ক্রেতার পছন্দের শীর্ষে জহুর-হকার্স মার্কেট।
বরাবরের মতো এ বছরও আমদানি করা পুরানো শীতের পোশাকের পাশাপাশি নতুন ডিজাইনের পরিধেয় সামগ্রী মজুদ
করেছেন দোকানিরা। তরুণ-তরুণী আর শিশু-কিশোরদের পোশাকই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা।
নগরীর জহুর হকার্স থেকে শুরু করে নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতজুড়ে বিক্রি হওয়া শীতের কাপড় মিলছে ৫০ থেকে ৫০০
টাকায়। ছেলেদের চায়না-কোরিয়ান লেদারের জ্যাকেট, জিন্স ও মোটা কাপড়ের জ্যাকেটও মিলছে এখানে।
বিপণীকেন্দ্রের সামনে নতুন পুরনো কাপড় স্তূপ করে বিক্রির রেওয়াজ রয়েছে। ‘এক দাম ৩০ টাকা’, ‘১ পিস ৪০ টাকা’ এ
রকম কাগজ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে অনেক দোকানে। এখানে হাতমোজা, গ্লাভস, কানটুপি, গলাবন্ধনী, মাফলার ইত্যাদি
পাওয়া যাচ্ছে সুলভ মূল্যে।
চকবাজারের লেপ প্রস্তুতকারী মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, শীত আগমনের শুরু থেকে বেশ ভালোই অর্ডার
পাচ্ছি। ফলে এখন ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে আমাদের। তিনি আরও জানান, সামনে হিমেল হাওয়া ও শীত যতই
বাড়বে বিক্রি ততই বেড়ে যাবে।
গতবছরের চেয়ে চলতি বছরে কাপড় ও তুলার দাম একটু বেশি জানিয়ে লেপ ব্যবসায়ী কবির হোসেন বলেন,
পৈত্রিক সূত্রে তার এ ব্যবসায় আসা। শীতের এ সময়টিতে আয় ভালো হয়। সাধারণত কার্তিক মাসের শুরু থেকেই
তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বছরের এ সময়টুকু বাদ দিলে বাকি অলস সময় পার করতে হয়।

“আমনক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ, দিশেহারা কৃষক”

মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চলতি মৌসুমে আবাদ করা আমনের ধানক্ষেতে আক্রমণ
করছে কারেন্ট পোকা। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পোকা দমনে
ও কৃষকদের পরামর্শ দিতে মাঠ পর্যায়ে না যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তারা এমন অভিযোগ অস্বীকার
করেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে ২৬ হাজার হেক্টর
জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে। সবচেয়ে বেশি প্রায় ২ হাজার
হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে উপজেলার ৬ নং ইছাখালী ইউনিয়নে। কম আবাদ হয়েছে উপজেলার ৪ নং ধুম
ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নে চলতি বছর প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে আমনের চাষ করা হয়।
উপজেলার ৭ নং কাটাছরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী হুমায়ুন বলেন, আমি কৃষক পরিবারের
সন্তান। এবারও ইছাখালী চরে প্রায় তিন একর জমিতে আমনের চাষ করেছি। গত কিছুদিন ধরে দেখছি আমনক্ষেতে কারেন্ট
পোকা আক্রমণ করেছে। শীষের উপরে পুড়ে যাওয়ার মতো দেখা যাচ্ছে। এবার সময়মতো বৃষ্টি হয়নি, তার উপর
ডিজেলের দাম বেশি। অতিরিক্ত টাকা খরচ করে চাষীদের আমনের চাষ করতে হয়েছে। এখন ক্ষেতে কারেন্ট পোকার
আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। শিগগির ব্যবস্থা না নিলে লোকসান গুণতে হবে চাষিদের।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ৩৬জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আছেন।
কিন্তু তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কাজ করে না। আমি অনেকবার খবর দেওয়ার পরও তাদের দেখা মেলেনি।
মিরসরাই উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাজী নুরুল আলম বলেন, বিভিন্ন এলাকায় আমনক্ষেতে কারেন্ট পোকায়
আক্রমণ করেছে। তবে খুব বেশি জমিতে না। আমরা আক্রমণ থেকে রক্ষা থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তিনি
আরও বলেন, এই উপজেলা অনেক বড়। ইউনিয়নগুলোও আয়তনে অনেক বড়। আমাদের উপ-সহকারী কর্মকর্তা যারা
ইউনিয়নে দায়িত্বে রয়েছেন তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে তদারকি করেন কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে দাবি করেন
তিনি।
মিরসরাইয়ে সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এখানে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের
উপর চরম ক্ষুদ্ধ। তিনি বলেন, ৩৬ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছে। তাদের কাজ হলো মাঠ পর্যায়ে, কিন্তু তারা
মাঠে না গিয়ে অফিসে বসে বসে বেতন নিচ্ছেন। তিনি চলতি নভেম্বর মাস থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যাদের কৃষি
কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইউনিয়ন ভিত্তিক কাজ বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।