“চট্টগ্রামের জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন।”


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৪, ২০২২, ৪:০৩ অপরাহ্ন / ২৪৩
“চট্টগ্রামের জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন।”

“চট্টগ্রামের জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন।”
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ

প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠ পরিদর্শন করেছেন মাহবুব
উল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘আগামীকালের
জনসভা শুধু পলোগ্রাউন্ড মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, গোটা চট্টগ্রাম শহর একটি জনসমুদ্রে রূপ
নেবে।’শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠ পরিদর্শন শেষে তিনি এ
কথা বলেন।
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘পলোগ্রাউন্ড মাঠের জনসভাকে ঘিরে চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ ও মহানগরের
সবখানে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে একটা উচ্ছাস তৈরি হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ ১০ বছর পর চট্টগ্রামে
জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। সেটা দেখার জন্য, জানার জন্য, উনি যে দেশবাসীর জন্য দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য
দেবেন, সেটার জন্য চট্টগ্রামবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে জনসভাস্থলে প্রবেশের দরজা খোলা থাকবে। আমাদের নেতাকর্মীদেরও
৮টা থেকে মাঠে প্রবেশের জন্য সব প্রস্তুতি আছে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ‘আওয়ামী লীগ এই দেশের গণমানুষের দল। আওয়ামী লীগ
নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের সমাবেশ করছে। সরকার আছে, আইন আছে। নিয়ম অনুযায়ীই আওয়ামী লীগ সকল
কর্মসূচি পালন করে আসছে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনসভা করার অনুমতি চেয়েছে, সরকার ও
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনুমতি দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের যেখানে অনুমতি
দিয়েছে, সেখানেই জনসভা করতে হবে, সেটাই করা উচিত। দেশের সরকার মানবে না, সংবিধান মানবে না বা
সরকারের আইন মানবে না, এরকম কোনও অধিকার সরকার কাউকে দেয়নি, রাষ্ট্র দেয়নি। রাষ্ট্রের যেকোনও
আইন সবাইকে মানকে হবে।’
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পলোগ্রাউন্ড ময়দানে
চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন। এ কারণে চট্টগ্রামের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছে। এই
জনসভা স্মরণকালের ঐতিহাসিক জনসভা হবে। এতে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ সমবেত হবে। তাই
আগামীকালের জনসভাকে সামনে রেখে আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি।’

“এক জমিতে নানা ফসল, মীরসরাইয়ে চাষে বৈচিত্র্য, বেড়েছে উৎপাদনও।”
মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ

মীরসরাইয়ে সবজি চাষের ঐতিহ্য রয়েছে। এখন একই জমিতে নানা ফসলের
চাষ হচ্ছে। এতে উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। মীরসরাই উপজেলা কৃষি বিভাগের অভিমত কৃষকরাই পারবে সকল
অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে দিতে এই উপজেলার বিভিন্ন কৃষি আবাদি জনপদে এক সঙ্গে তিন ফসল আবাদ
করতে। পাশাপাশি একই জমিতে নানা ফসলের পাশাপাশি জমির আলে এক প্রকার, মাঝে মাঝে ভিন্নতা সৃষ্টিসহ
বৈচিত্র্যময় ফলনে আগ্রহ বাড়তে দেখা যাচ্ছে কৃষকদের মধ্যে। এতে যেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে কৃষি উৎপাদনে
তেমনি জমির ফলনও আশানুরুপ দেখা যাচ্ছে।
উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামে সরেজমিনে পরিদর্শন কালে কৃষক ইমাম হোসেন ( ৫৬),
কৃষক হারাধন ( ৫২) কে ব্যস্ত দেখা যায় গ্রামের তেপান্তরে। কৃষক ইমাম হোসেন ফুলকপির চারায় জৈবসার
দিচ্ছেন। হারাধন মরিচ ক্ষেতে পানি দিচ্ছেন। দেখা গেছে একই জমিতে লালশাক, ফাঁকে মরিচের চারায় ফুল,
আবার সরিষার ডগা বাড়ছে। আবার এক পাশে মরিচের চারা অন্যপাশে ফুলকপি, বাঁধা কপি, মাঝখানের আলে
সারি সারি পেপে গাছে শোভা পাচ্ছে সুন্দর ফলন। অপর পাশেই আবার লাউয়ের মাচায় অনেক লাউ যেন ভিন্ন
রকম প্রকৃতির অনন্য সুন্দর নির্মলতা।
কৃষকরা এখানে যে প্রকৃতিকে সুন্দর করে নিজেদের মনের মাধুরি দিয়ে সাজিয়েছেন তা নয় এখানেই তাদের
স্বচ্ছলতা আর স্বনির্ভরতার দৃশ্যপট। পোলমোগরা গ্রামের কৃষক ধনমিয়া ও লাল শাক, ধনিয়া পাতা, মরিচ একই
জমিতে আবাদ করে বেশ লাভ হচ্ছে বলে জানাল। আমবাড়িয়ার কৃষক জাহাঙ্গীর মিয়া (৪৮) বললেন এবার ৪
গণ্ডা জমিতে মিঙ সবজি চাষে ১০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। আশা করছে খরচ উঠে ৫০ হাজার টাকা
লাভবান হবেন।
তালবাড়িয়া গ্রামের কৃষাণি রাজিয়া খাতুন বলেন, আমরা দুপুর ১২টা থেকে সন্ধা পর্যন্ত এক বেলা লাল শাক তুলে
দিলে মালিক ২০০ টাকা দেয়। বাড়িতে বসেই থাকি সে জন্য বাড়তি আযের জন্য এই লাল শাক তুলছি জমি
থেকে। আমার স্বামী নিজের জমিতে চাষ করলে। বাড়তি আয়ে পরিবারের সন্তানদের পড়ালেখায় ব্যয় করি।
ঘরের পাশে আমার খালি জায়গাতে লাউ, সিম লাগিয়েছি। ৫ হাজার টাকার লাউ আমি ও বিক্রি করেছি এবার।
মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, এই উপজেলায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের
পাশাপাশি সকল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে পতিত সকল জমি আমরা কাজে লাগানো শুরু
করেছি। জমিগুলোতে ফলন বৃদ্ধি একসাথে একাধিক সবজিসহ নানা ফলফলাদি ও ফলন শুরু করেছে চাষীরা।
জমিতে সঠিক পরিচর্চা করে চাষীরা বেশ লাভবান হচ্ছে। কৃষিতে স্বনির্ভরতা আসলে আমরা সকল প্রকার
অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো বলে আশা করছি।