ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং কেটে গেলেও বরিশালে প্রধান সরকগুলো পানি নিচে।


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৬, ২০২২, ৩:০০ অপরাহ্ন / ৩২১
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং কেটে গেলেও বরিশালে প্রধান সরকগুলো পানি নিচে।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং কেটে গেলেও বরিশালে প্রধান সরকগুলো পানি নিচে।
জামাল কাড়াল বরিশাল
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং কেটে গেলেও বরিশালের নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি এবং অমাবস্যার জো’র প্রভাবে পানি থৈ থৈ করছে নদ-নদীতে। পানি নামতে না পারায় এখনও তলিয়ে আছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বরিশাল নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী নদীতে পানি বেশি থাকায় জমে থাকা পানি নামতে পারছে না বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ধীর ধীরে পানি কমবে বলে আশা তাদের। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বরিশাল জেলার ৩টি উপজেলায় ৬টি বেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আশংকার তুলনায় বরিশালে জানমালের উল্লেখযোগ্য কোন ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সিত্রাংয়ের প্রভাবে গত সোমবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর থেকেই বরিশালের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। বিকেলে কীর্তনখোলা সহ বিভাগের অন্যান্য নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। এর সাথে ভারী এবং অতিভারী বর্ষণে  থৈ থৈ করে নদীর পানি। সন্ধ্যার পর নদীর পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করে। উপচে পড়া নদীর পানি আর ভারী বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় নগরীতে। সদর রোড, ফজলুল হক এভিনিউ, বগুড়া রোড, পুলিশ লাইন রোড, রাজাবাহাদুর সড়ক, বটতলা রোড, কালবাড়ি রোড, ফকির বাড়ি রোড, হাসপাতাল রোড সহ প্রধান প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। বাড়িঘরেও ঢুকে যায় পানি। এতে দুর্ভোগে পড়েন জনসাধারণ।
গতকাল ভোরে পানি কমতে শুরু করলেও বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে আছে এখনও। কবে নাগাদ এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে তাও জানেন না তারা।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের উপ-সহকারী মো. মাসুম জানান, সিত্রাং কেটে গেলেও এর প্রভাবে নদীতে পানি বেড়েছে। এর সাথে অমাবস্যার জো’র প্রভাব এবং ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে পানি কমবে আশা তাদের।
পানির চাপের কারণে বরিশাল জেলার ৩টি উপজেলার ৬টি বেড়ীবাঁধের ১ হাজার ৬শ’ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন। সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদে ৩টি, বাকেরগঞ্জের নলুয়ায় ১টি এবং উজিরপুরের গুঠিয়ায় ২টি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ীবাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে জানমালের উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার।