“খুলনায় খেজুর গুড়ের চাহিদা থাকলেও দিন দিন কমছে খেজুর গাছের সংখ্যা”


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৪, ২০২২, ৫:০৩ অপরাহ্ন / ২৭৭
“খুলনায় খেজুর গুড়ের চাহিদা থাকলেও দিন দিন কমছে খেজুর গাছের সংখ্যা”
“খুলনায় খেজুর গুড়ের চাহিদা থাকলেও দিন দিন কমছে খেজুর গাছের সংখ্যা”
মোঃ শামীম হোসেন – খুলনা –
খুলনায় দিন দিন খেজুর গাছের সংখ্যা কমছে। যে গাছগুলো আছে তাতেও তেমন রস মিলছে না। বাজারে খেজুর গুড়ের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও যোগান নেই। কারণ খেজুরের গুড় তৈরির কাঁচামাল খেজুরের রসের সংকট। চাহিদার সাথে যোগানের সামঞ্জস্য না থাকার সুযোগে ভেজাল গুড়ে সয়লাব হচ্ছে বাজার। ফলে আসল খেজুর গুড়ের স্বাদ হতে বঞ্চিত হচ্ছে বর্তমান প্রজন্ম। খুলনার দাকোপ উপজেলার বাজুয়া এলাকার গাছি নিরাপদ জানান, তিনি ২০ বছর ধরে খেজুর গাছ কাটেন। বাজারে খেজুর গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী গুড় উৎপাদন করতে পারছে না তারা। উপজেলার কৈলাশগঞ্জের হরিণটানা গ্রামের গাছি হরিদাস জানান, বাজারে খেজুর গুড়ের চাহিদা আছে। এদিকে সিজনের সময়েও আগের মত রস পাচ্ছেন না তারা। ফলে চাহিদা থাকলেও গুড় উৎপাদন করতে পারছে না। এলাকায় গাছ অনেক কমে গেছে। যা আছে তাতেও আগের মত রস হয় না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, খুলনার মাটি খেজুর গাছের জন্য খুবই উপযুক্ত। তবে দিনদিন খেজুর গাছের সংখ্যা কমছে। জেলার সকল উপজেলায় কৃষি অফিসের উদ্দ্যোগে জনসাধারণকে খেজুর গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
“সুন্দরবনেও উড়ছে আর্জেন্টিনার পতাকা, উড়িয়েছেন দরিদ্র কিশোর জেলে”
মোঃ শামীম হোসেন – খুলনা –
দেশের বিভাগ, জেলা, উপজেলা, শহর, নগর ও গ্রাম পেরিয়ে আর্জেন্টিনার পতাকা এখন দক্ষিণের শেষ জনপদ ছাড়িয়ে চলে গেছে সুন্দরবনে। সুন্দরবনের কেওড়াগাড়ে শোভা পাচ্ছে আর্জেন্টিনার এ পতাকাটি। আর মনের টানে আর্জেন্টিনার প্রেমে এ পতাকাটি উড়িয়েছেন নিতান্তই দরিদ্র মাত্র ১৩ বছর বসয়ের জেলে বিপ্লব জোমাদ্দার ওরফে সিস্টেম বিপ্লব। এলাকায় এ কিশোর সিস্টেম নামেই পরিচিত। দরিদ্র হলেও খুব ডানপিটে সিস্টেম বিপ্লব। উপজেলার চিলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়মনি গ্রামের বাসিন্দা ও মোবাইল মেকানিক মোঃ ফিরোজ হাওলাদার জানান, বিপ্লব জোমাদ্দার (১৩) ওরফে সিস্টেম বিপ্লব পেশায় একজন জেলে। বাবা নেই, ৫ ভাইয়ের মধ্যে সে সবার ছোট। তারই ছোট বোনকে নিয়ে মায়ের সাথে থাকেন বিপ্লব। এক ভাইকে নদীতে মাছ ধরার সময় কুমিরে নিয়ে যায়। বাকী ভাইয়েরা আলাদা থাকেন। নদীতে মাছ ধরে বোন আর মাকে নিয়ে জীবিকা চলে তার। বিপ্লবের নিজের জাল-নৌকা নেই, অন্যের সাথে ভাগে নদীতে মাছ ধরেন। সেখান থেকে যে টাকা পান তা দিয়ে কিছু টাকা জমিয়ে বিপ্লব আর্জেন্টিনার পতাকা বানিয়েছেন। ২শ টাকা দিয়ে পতাকা বানিয়ে দড়ি ও কচা/লাঠি দিয়ে সেই পতাকা সুন্দরবনে উড়িয়েছেন। রবিবার বিপ্লব তার পছন্দের ভিনদেশী দলের পতাকাটি সুন্দরবনের কেওড়া গাছে উড়ান। বিপ্লব কিশোর ও দরিদ্র হলেও তার মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনার টান। আর্জেন্টিনার প্রেমেই তিনিই সংসারের খরচের টাকা বাচিয়ে পছন্দের দলের পতাকা কিনে তা মনের টানে টানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনে। স্থানীয় অন্যান্য বিভিন্ন দলের সমর্থকেরা বাজার, দোকানপাট, রাস্তার পাশে টানালেও বিপ্লব সুন্দরবনে টানিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। চিলা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন বলেন, বড় দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল তো আমাদের দেশ এবং এদেশের মানুষকে তো চিনেই না। তা নিয়ে এতো প্রেমিক ও আবেগপ্রবণতা ভাল না, যে সুন্দরবনে পতাকা উড়াতে হবে। তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত, কারণ বন সংরক্ষিত, সেখানে যে সে যখন তখন ঢুকতে পারেনা। কারণ বনবিভাগের অনুমতি লাগে। সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, চুরি করে যে এ পতাকা টানিয়েছেন সে এটি কোনভাবেই ঠিক করেননি। আমরা এটি নামানোর ব্যবস্থা করছি। চাঁদপাই রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনের খালের ওপারেই তিনদিন ধরে পতাকা উড়ছে এতে বনবিভাগের দায়িত্বে গাফিলতি রয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন এড়িয়ে বন কর্মকর্তা শহিদুল বলেন, আমাদের জনবল কম, তাই বিষয়টি এখনই দ্রুত দেখছি।