খুলনার দাকোপের ঝুলন্ত পাড়ায় চারশ’ পরিবারের মানবতার জীবন যাপন করছে।


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২০, ২০২২, ৬:৫৫ অপরাহ্ন / ৪৯০
খুলনার দাকোপের ঝুলন্ত পাড়ায় চারশ’ পরিবারের মানবতার জীবন যাপন করছে।
খুলনার দাকোপের ঝুলন্ত পাড়ায় চারশ’ পরিবারের মানবতার জীবন যাপন করছে।
মো: শামীম হোসেন- খুলনা –
খুলনার দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের কালাবগী এলাকার ঝুলন্ত পাড়ায় প্রায় ৪ শত পরিবারের গৃহহীন মানুষ মানবতার জীবন যাপন করছে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি পুনঃবাসনের। সরেজমিনে দেখা যায়, সুতারখালী ইউনিয়নের ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে কালাবগী ঝুলন্ত পাড়ায়, সহায় সম্বলহীন অসহায় মানুষ গুলো খরস্রোতা শিবসা নদীর তীরে টোংঘর বেঁধে নিয়ে জীবন যাপন করে আসছে। তাদের নেই কোন যাতায়াতের রাস্তা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা করার সুব্যবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা। এখানে বসবাস কারী মানুষ নদী ও জঙ্গলে মাছ, কাকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কথা হয় ৮ নং ওয়াডের বসবাসকারী আবদুর রউফ সরদারের (৬০) সাথে। তিনি বলেন, আমার বাব দাদারা এখানে বসবাস করত। তখন আমি আমার বাবার সাথে জমিতে ধান রোপন করতে গেছি। এখন তা শুধুই স্মৃতি। শিবসা নদীর খরস্রোতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত ১০/১২ বার ভাঙনের কারণে ঘর সরাতে হয়েছে। এখন আর জায়গায় জমি কিছুই নেই। বিধবা সকিনা বেগম (৫৫) জানান, তার একটি পাগল ছেলেকে নিয়ে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। তবে জায়গা জমি না থাকার কারণে সরকারের কাছে পুনবাসনের জন্য দাবি করছি। ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নিমাই রায় বলেন, আমার ওয়ার্ডে বেশকিছিু মানুষের জায়গা জমি আছে। যাহা ৩২ নং পোল্ডারের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চায়না কোম্পানি তাদেরকে ভেড়ি বাঁধের বাইরে রেখে রাস্তা করার জন্য প্রায়ই ৪০০ শত বিঘার উপরে জমিতে ধান রোপন করতে পারছে না। শিবসা নদীর জোয়ারের পানিতে প্রতিদিন হাবুডুবু খেতে হচ্ছে। বাব-দাদার ভিটা বাড়ী কিছুই নেই। জমি থাকতেও ফসল উৎপাদন করতে পারছে না তারা। এছাড়াও নদীভাঙ্গনের কারণে তার ওয়ার্ডে অনেক মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে হচ্ছে নৌকায় চড়ে। সরকারি স্কুল, মন্দির, মসজিদ, ও শিশু সুরক্ষা কেন্দ্র যাহা বর্তমানে নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার মানুষ কোন মতে টোং ঘর বেঁধে ছেলে সন্তান নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে । তিনি আরও বলেন, ঝুলন্ত পাড়ায় বসবাসকারী মানুষের জন্য মৌলিক অধিকারের কোনটাই সঠিক নেই। এলাকায় কোন মানুষ হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে নিয়ে যেতে হয় প্রায়ই ৩০ কিঃ মিঃ দুরে দাকোপ হাসপাতালে। দাকোপ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে খুলনা জেলা প্রশাসকের নিকট মাসিক সমন্বয় সভায় কথা বলবো। সরকারের কাছে পুনঃ বাসনের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে এলাকার অসহায় ছিন্ন মুল ভুক্তভোগীরা।
“খুলনায় আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে হারিকেন”
মোঃ শামীম হোসেন – খুলনা –
খুলনায় আধুনিকতার ছোঁয়ায় আর সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে হারিকেন বাতি। একসময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই আলোর বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। হারিকেন জ্বালিয়ে রাতে হাট-বাজারে যেত গ্রামের লোকজন, দোকানিরা বেচাকেনাও করত হারিকেনের আলোতে। অমাবস্যার রাতে ঘোর অন্ধকারে হারিকেনের আলো জ্বালিয়ে পথ চলার স্মৃতি এখনো বহু মানুষ মনে করে। প্রথম হারিকেনের বর্ণনা পাওয়া যায় আল রাযী-র বই ‘কিতাব আল আছা’য় যেখানে তিনি একে ‘নাফতা’ বলে উল্লেখ করেন। হারিকেন টিনের তৈরি কাচের চিমনি বিশিষ্ট প্রদীপ। আনারসের মতো গোলাকার কাচের চিমনির নিচের অংশে টিনের তৈরি তেলের ট্যাংক থাকত, যার ভেতরে ঢালা হতো কেরোসিন তেল। দিয়াশলাই দিয়ে এই অংশটিতে আগুন জ্বালালেই আলো ছড়াত হারিকেন। হারিকেনের পাশে থাকা রেগুলেটর দিয়ে আলো কমানো-বাড়ানো হতো। ওপরে টিন অথবা স্টিলের তার দিয়ে বহনযোগ্য করে তোলা হতো হারিকেন বাতি। হারিকেনের কেরোসিন তেল রাখার জন্য গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল বিশেষ ধরনের কাচের ও প্লাস্টিকের বোতল। বোতলের গলায় রশি লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হতো বাঁশের খুঁটিতে। সন্ধ্যাবেলা হারিকেনের কাচের চিমনি খুলে, পরিষ্কার করে তাতে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন জ্বালানো হতো। সারাদেশের প্রায় সবখানে পাওয়া যেত আর বিদেশেও রপ্তানি করা হতো এই হারিকেন। প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে এখন বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে, শহরেও কমেছে লোডশেডিং। স্বভাবতই কমে গিয়েছে হারিকেনের কদর আর জৌলুস। এখনো গ্রামের দু-একটি বাড়িতে হারিকেন পাওয়া যেতে পারে, সেগুলো হয়তো ময়লা ও মরিচা পড়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঘরে ঘরে, রাস্তা-ঘাটে, হাট-বাজারে এখন বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানি। প্রযুক্তির উৎকর্ষে হারিকেনের পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে পল্লী­বিদ্যুৎ, সোলারপ্লান্ট এবং চার্জারলাইট।
তাপ বিদ্যুৎ, জল বিদ্যুৎ সৌর বিদ্যুত্সহ জ্বালানিখাতে ব্যাপক উন্নয়নে হারিকেন বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেও না হারিকেন কী আর হারিকেন নিয়ে মানুষের স্মৃতিকাতরতার তাৎপর্য।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে আদর্শ বিদ্যালয় পরিদর্শন করলেন উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মনোয়ার হোসেন।
মেহেদি হাসান নয়ন,বাগেরহাট –
বাগেরহাটের ফকিরহাটে স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফকিরহাট আদর্শ বিদ্যালয় বিদ্যালয়টির পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা আবর্জনার স্তুপ পড়েছিল এমনকি পথচারীরা সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে পরিবেশ নষ্ট সহ প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ কোমলমতি শিশুদের স্কুলে পড়াশোনায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটতো সেই সাথে তাদের স্বাস্থ্যেরও ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছিল এমত অবস্থায় ১৯(ডিসেম্বর)সোমবার সকাল ১১টায় ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সর জমিনে পরিদর্শন করে কর্তৃপক্ষকে আগামীকালকের ভিতর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা সহ ভালো করে মাটি দিয়ে ফুলের বাগান করার নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সাথে তিনি ফকিরহাট ডাকবাংলো ও পরিদর্শন করেন সেখানে ডাকবাংলার সামনে ময়লা আবর্জনা স্তূপ দ্রুত অবসান করেন নির্দেশনা প্রদান করে।এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ফকিরহাট উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা  ডাঃ শাহ্‌ মোঃ মহিবুল্লাহ,ফকিরহাট আর্দশ বিদ্যালয়ের প্রধান মোঃ সিদ্দিকুর রহমান,ফকিরহাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক হোসেন, সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার কিসলু, ইউপি সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম, সহ আনসার বাহিনী ও গ্রাম পুলিশ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানোয়ার হোসেনের এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে ডিজিটাল ফকির হাট আরো একধাপ এগিয়ে যাবে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ জনগণ।