কুরবানি জন্য প্রস্তুত বগুড়ার চরাঞ্চলের গরু


প্রকাশের সময় : মে ২২, ২০২৪, ১০:৩৫ অপরাহ্ন / ৫২
কুরবানি জন্য প্রস্তুত বগুড়ার চরাঞ্চলের গরু

রাশেদ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে গরু পালন করে ভাগ্য ফিরেছে খামারি সহ জনসাধারণের। যমুনা চরের প্রায় বাড়িতেই প্রস্তুত হয়েছে কুরবানির দেশী গরু। কোনও বাড়িতে রয়েছে ১৫ থেকে ২০ টি করে গরু।
সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলের কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলানোর পাশাপাশি গরু ছাগল পালন করেন। চরাঞ্চল ঘুরে প্রতিটি বাড়ির আঙিনার গরুর গোড়ায় ৫ থেকে শুরু করে ৩০ টি পর্যন্ত গরু দেখা যায়। আর এসব গরুর মধ্যে প্রতিটি পরিবারেই প্রস্তুত রয়েছে কুরবানির গরু। কেউ কেউ আবার গত কয়েকমাস আগে কুরবানির জন্য গরু ক্রয় করেছেন। সেই গরুগুলো মোটাতাজা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে গিয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন। গরু পালনের ক্ষেত্রে বাড়ির নারীরাই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেন। খুব সকালে গরুকে গোয়ালঘর থেকে বের করা, সকাল বিকাল দুইবেলা গরুকে খুদ, গুরা, ভূষি দিয়ে পানি খাওয়ানো, গোয়ালঘর থেকে গোবর বের করে তা পরিস্কার করা, দুপুরে গরুকে গোসল করানো এবং সারাদিন গরুকে ঘাস ও খর খাওয়ানোর কাজ বাড়ির নারীরাই করে থাকেন।
চরাঞ্চলের পুরুষরা সারাদিন মাঠে ফসলের যত্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও জমিতে কাজের ফাঁকে তারা গরুর জন্য ঘাস কাটেন। সেই ঘাস গরুকে সারাদিন খাওয়ানোর ফলে চরাঞ্চলে গরু পালনে সাধারণত খুবই কম খরচ হয়। এখানে গরু পালনে ঘাস ক্রয় করার কোনও প্রয়োজন না থাকায় শুধুমাত্র কুঁড়া এবং খুদ ভূষি ক্রয় করলেই চলে। কেউ কেউ গরুকে দলবদ্ধভাবে যমুনাচরের বিস্তীর্ণ চারণভূমিতে নিয়ে আসেন। সেখানে সারাদিন গরু কাঁচাঘাস খেয়েই পেট ভরে ফেলে।
সরেজমিন পরিদর্শন করে উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া চরে দেখা যায় সেখানে প্রতিটি বাড়িতেই কুরবানির জন্য দেশী গরু প্রস্তুত রয়েছে। গরুর মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেখানে দেড় লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত কুরবানির ষাঁড় গরু প্রস্তুত রয়েছে। এ গ্রামের লিটন বেপারির স্ত্রী শিউলি বেগমের ১৪ টি গরুর মধ্যে ৫ টি গরু কুরবানির জন্য প্রস্তুত। এছাড়া সিদ্দিক বেপারির ছেলে তারেক মাহমুদের ৫ টি, লতিফুর রহমানের স্ত্রী শিউলি বেগমের ৭ টি, সিরাজ বেপারির ছেলে জহুরুল বেপারির ২০ টির মধ্যে ৯ টি গরু কুরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
জহুরুল বেপারী জানান, কুরবানির জন্য এ গ্রামে তাদের ৫ ট্রাক গরু প্রস্তুত রয়েছে। যে গরুগুলো তারা চট্টগ্রাম বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। চালুয়াবাড়ী সুজালির পাড়া চরের রিপন মিয়া জানান, তার গোয়ালে ৫৫ টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ টি ষাঁড় গরু কুরবানির জন্য প্রস্তুত।
সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর এবং ভেটেরিনারি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পুরো উপজেলায় ২১ হাজার ৭২৪ টি গরু, ৪০ হাজার ৯৯৩ টি ছাগল, ২৮৯৫ টি ভেড়া এবং ৮৮৬ টি মহিষ কুরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শাহ আলম বলেন, এ উপজেলায় যেসব কুরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে তা উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে কয়েকগুণ বেশি পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হবে।
পুরো উপজেলায় যেসব কুরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে তার সিংহভাগই চরাঞ্চলে রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।