“কালাইয়ে চলতি মৌসুমে আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা”


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৯, ২০২২, ৭:৩০ অপরাহ্ন / ২৫১
“কালাইয়ে চলতি মৌসুমে আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা”

“কালাইয়ে চলতি মৌসুমে আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা”
মোঃ জাহিদুল ইসলাম,
কালাই(জয়পুরহাট)সংবাদদাতাঃ
২৮/১১/২২
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা আলু উৎপাদনের জন্য  প্রসিদ্ধ। এ উপজেলায় উৎপাদিত আলু দেশের চাহিদা মিটিয়ে, বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি করা হয়। এ উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে আগাম জাতের আলু লাগানো শেষ হয়েছে। এখন চলছে অন্যান্য জাতের আলু লাগানোর চলতি  মৌসুম। তবে এবার আলুর বীজ এবং সারের দাম বেশি হওয়ায়-  গত  বছরের  তুলনায় কিছুটা জমি কমেছে। এখন সেই আলুতেই আগামী দিনের স্বপ্ন দেখছে  কৃষকরা। এ বিষয়ে কালাই উপজেলা কৃষি অফিসার  অরুন চন্দ্র রায় বলেন, কালাই উপজেলাতে প্রায় ১১ হাজার ২০০ হেক্টর  জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে গত বছরেরর চেয়ে  কম। এর কারণ, কৃষকদের আমরা আলু চাষের পাশাপাশি সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করছি।  সে উদ্দেশ্যে সরিষা চাষের জন্য আমরা কৃষকদের প্রনোদনাও দেয়েছি।সরিষা বেশি চাষ হলে, ভোজ্য তেলের উৎপাদন বাড়বে।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে চাষিরা এখন আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।  কেউ চাষ দেওয়ার আগে, জমিতে জৈব এবং রাসায়নিক সার ছিটিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ মেসি বা পাওয়ার টিলার দিয়ে আলু রোপনের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। কেউবা রোপণ করছেন আলু। আবার কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন। কালাই উপজেলা  হাতিয়র  গ্রামের হাজী পাড়া  কৃষক রাশিদুল  বলেন, ‘এবার  আমি মাত্র দুই বিঘা জমিতে এ্যাস্টেরিক জাতের আলু চাষ করিছি। প্রতি বস্তা আলুর বীজ কিনেছি ২ হাজার ৪০০শত টাকায়। সারও কিনেছি চড়া দামে। গত বছরের চেয়ে এবার বিঘা প্রতি ৫-৬ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। আলু তোলার মৌসুমে দাম ধানের মতন একটু বেশি পালে, ধার-দেনাগুলা শোধ করা গেলোহিনি।’
একই গ্রামের আনিছুর  বলেন, ‘আমি  এবার ১০ বিঘা জমিতে গ্রানোলা জাতের আলু লাগাচি। বাড়ির বীজ। তাই খরচ কিছুটা কম হচ্ছে। আমার প্রতি বিঘায় খরচ পরবে ২০ হাজার টাকা। বীজ কিনা লাগলে প্রতি বিঘায় খরচ হতো ২৪-২৫ হাজার টাকা।’
কালাই  উপজেলার হাতিয়র  গ্রামের শাহীন  বলেন, ‘এবার আলু চাষে খরচ হচ্ছে বেশি।  ব্যবসায়ীরা চালাকি করে, চড়া দামে সার আর বীজ বিক্রি করে । তেলের দামও বেশি। তাই এবার সবমিলিয়ে খরচ বেশি হচ্ছে। শেষে লাভ হবে কি না, লোকসান হবে জানিনা না।

“আক্কেলপুরে কমলা চাষে বাজিমাৎ ইমরান -সুমি দম্পতির”
মোঃ জাহিদুল ইসলাম। কালাই (জয়পুরহাট) সংবাদদাতাঃ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ভিকনী গ্রামে সমতল ভূমিতে কমলা চাষ করে বাজিমাৎ করেছেন উদ্যেক্তা মোঃইমরান হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার।কাজের প্রতি অন্তরিকতা থাকলে যে কোন কাজে সফলতা পাওয়া যায় সেটাই দেখিয়ে দিয়েছেন এই দম্পতি। বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও বিভিন্ন এলাকার ফল চাষীরা।এরই মধ্যে বাগান থেকে কমলা বিক্রিও শুরু করেছেন এই দম্পতিরা।কমলার আকার বড় আর স্বাদেও বেশ মিষ্টি।
জানা গেছে, তরুণ এই উদ্যোক্তা ইমরান হোসেনের টেলিকমের ব্যবসা ছিলো ঢাকার সাভারে। করোনার সময় ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে এসে কৃষিকাজের দিকে মনোযোগ দেন। নিজের চিন্তা থেকে এক বিঘা জমিতে রোপণ করেন কয়েকটি (বারি-২)জাতের কমলার চারা। সেই চারাগুলো থেকে গ্রাফটিং করে আরও চারা বাড়ান। এখন তার বাগানে ১৩০টি কমলার গাছ রয়েছে। ১৩০টি গাছের মধ্যে ৬০টি গাছে কমলা ধরেছে। প্রতিটি গাছে ১৫-৪০ কেজি পর্যন্ত কমলা ধরেছে। প্রতি কেজি কমলা পাইকারি ১৩০ টাকা করে দাম বলছেন ব্যবসায়ীরা।
উদ্যোক্তা ইমরান হোসেন দৈনিক আশ্রয় প্রতিদিন কে বলেন, আমি ক্ষুদ্র ব্যবসা করতাম। ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে অন্য কিছু করার চিন্তা মাথায় আসে। অনেক চিন্তার পর অনলাইনে সার্চ করে কৃষির কথা ভাবতে থাকি এবং এই কৃষি পেশায় চলে আসি। দেখলাম আধুনিক কৃষির কোনটাতে লাভবান বেশি হওয়া যায়। এরপর কমলা চাষে উদ্বুদ্ধ হই।
ইমরান হোসেন বলেন আমরা বাইরের দেশ থেকে কমলা আমদানি করে থাকি। এতে অনেক টাকা রিজার্ভ থেকে চলে যায়। সকলে যদি কমলা চাষে উদ্বুদ্ধ হই, তাহলে রিজার্ভের টাকা থেকে এসব ফল আমদানি করতে হবে না। এজন্য বেকার যুবক যারা আছেন, তারা কমলা চাষে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন। এর চেয়ে আর সহজ কোনো চাষ নেই।
কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এই উদ্যোক্তা বলেন, চাষের প্রথম দিকে অনেক ধরনের খারাপ মন্তব্য শুনতে হয়েছে। কমলা হবে না, হলেও ভালো হবে না, ছোট, তিতা হবে। তবে তা হয়নি। অনেক সুন্দর কমলা হয়েছে। এখন সেই মানুষরাই সাধুবাদ জানাচ্ছে। তিনি আরো বলেন,আমি আর আমার স্ত্রী এই বাগানের যত্ন করে থাকি।২০১৯ সালে আমি প্রথম (বারি-২)কমলার চারা রোপণ করি। এখন পর্যন্ত এই বাগানে ১৩০ টি গাছের পেছনে প্রায় ২ লক্ষ্য টাকা খরচ হয়েছে।বর্তমানে আমার ১৩০ টি গাছে কমলা ধরেছে,আমি আশা করছি এখান থেকে ৩০ মণ কমলা বিক্রি হবে।আমি ১৫০ টাকা দরে এই কমলাগুলো বিক্রি করছি এবং কমলা গাছের কলমের চারা বিক্রি করেছি ৩ লক্ষ্য টাকার মতো।
ইমরানের স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন কমলা বাগানের বয়স প্রায় তিন বছর। অনেক পরিশ্রমের ফলে সুফল আসছে। অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু এখন তারা প্রশংসা করছেন। কমলা অনেক ভালো এবং সুমিষ্ট। আমি সংসারে কাজের পাশাপাশি বাগান পরিচর্যা করি।
কমলা কিনতে আসা কালাই উপজেলার মাহফুজ আহমেদ বলেন, আমি কমলা বাগানের বিষয়টি জেনে এখানে এসেছি। বাগানটি দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম হাবিবুল হাসান বলেন, সমতলে ইমরানের কমলা চাষ একটি বিপ্লব। কমলা সাইট্রাস জাতীয় ফল, এটি পাহাড়ে হয়। কিন্তু এটি এখন সমতলেও হচ্ছে। অনেক বেকার যুবক চাইলে কমলা চাষ করতে পারেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্বুদ্ধ হয়ে কমলা চাষের সুযোগ রয়েছে।উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ফলবাগান সৃজন কর্মসূচির আওতায়, কমলার চারা প্রদান,সার, কীটনাশক ও প্রশিক্ষন সহায়তা দেয়া হবে।
মোঃ জাহিদুল ইসলাম
কালাই (জয়পুরহাট)
০১৭৮৫-৩৫২৫৫৮

জয়পুরহাটে  হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মোঃ আমজাদ হোসেন স্টাফ রিপোর্টার জয়পুরহাট –
জয়পুরহাটে গভীর নলকুপের ড্রেনম্যান ইউনুস আলী সরকার হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ নুরুল ইসলাম এ রায় দেন । আদালতের কৌঁসুলি নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সদর উপজেলার রশিদার বম্বুর মৃত সিরাজ প্রধানের ছেলে মদন, বাচ্চা মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও আব্দুল মোতালেবের ছেলে দেলোয়ার হোসেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার রশিদার বম্বুর মৃত দুুদু মিয়ার ছেলে ইউনুস আলী গ্রামের একটি গভীর নলক‚পের ড্রেনম্যান হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে তিনি কাজে যান। সেই রাতে আসামীরা ইউনুসকে হত্যা করে পাশের একটি বাঁশ ঝাড়ের পানি সেচার ভাতির মধ্যে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।
পরের দিন সকালে স্থানীয়রা তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আলম হোসেন সরকার ১ মার্চ বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এ রায় দেন।