‘কর্মস্হলে প্রাণ দিলেন, বরণ কুমার এিপুরা’


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৯, ২০২২, ২:২৯ অপরাহ্ন / ৩৪৭
‘কর্মস্হলে প্রাণ দিলেন, বরণ কুমার এিপুরা’

‘কর্মস্হলে প্রাণ দিলেন, বরণ কুমার এিপুরা’

মোহরম আলী,সীতাকুণ্ড(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়ীয়া এলাকায় চৌধুরী মার্কেটস্হ অবস্থিত  জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড।মঙ্গলবার (১৮ই,অক্টোবর) আনুমানিক দূপুর ১ টায় ওয়্যারহাউজে একটি ট্রাক (চট্টমেট্টো-উ-১১০৮৩৯) দ্রুত গতিতে ওয়্যারহাউজের গেইট ভেঙে ঢুকে পড়ে। এসময় গেইটে দায়িত্বে থাকা নিরাপওা কর্মী বরুণ কুমার এি
পুরা ও মিল্লাত হোসেনকে পিষে ৫০ মিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রাকটি। এতে ঘটনাস্থলেই বরণ কুমার এিপুরা মারা যান। অপরদিকে মিল্লাত হোসেনের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা মিল্লাত হোসেনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়।সীতাকুণ্ডে ইস্পাত প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাতের নিজস্ব পরিবহনের একটি ট্রাক নিজেদেরই দুই নিরাপত্তাকর্মীকে পিষে দিয়েছে।সঙ্গে সঙ্গে বরণ কুমার এিপুরা (৩০) নামক নিরাপওা কর্মী জায়গায় নিহত হন,বরণ কুমার এিপুরা (৩০) খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ সাপমারা এলাকার শোভা চন্দ্রের ছেলে।বরুণ কুমার ত্রিপুরা(৩০)
লাশটি  সীতাকুণ্ড থানার হেফাজতে আছে,ওখান থেকে তার লাশটি  ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়,  ময়নাতদন্ত শেষে তাহার বাড়িতে  নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুমণ বণিক। মিল্লাত হোসেন নামের এক নিরাপত্তাকর্মীর পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চমেক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১ টায় সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়ীয়া এলাকায় চৌধুরী মার্কেটস্হ  অবস্হিত জিপিএইচ ইস্পাত লিঃ ফ্যাক্টরির ওয়্যারহাউজে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে ঘটনার পরপর বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুপুর আড়াইটায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, জিপিএইচ ইস্পাতের ওই ওয়্যারহাউজের প্রবেশ গেইটে লাল ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। কোন সংবাদকর্মী এমনকি জিপিএইচের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকেও প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তাকর্মীসহ জিপিএইচের যে কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে দেয়া হয়েছে তারা কেউ মুখ খুলছেন না। তাদের সবার একই বক্তব্য, আমরা কেউ কিছু দেখিনি, আমাদের কিছুই জানা নেই। এরপর থেকে ওয়্যারহাউজের গেইট ত্রিপল দিয়ে ডেকে দেয়া হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভিতরে কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। বাইরে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশের একাধিক টিম অবস্থান করছে।

ঘটনাস্থলে গেলে মো. আব্দুল আউয়াল নামে একজন নিরাপত্তাকর্মী বলেন, বরণ কুমার এিপুরা ৬টা থেকে ২টার ডিউটিতে ছিলেন  তার সাথে ছিলেন মিল্লাত হোসেন। ট্রাকটি তাদের দুজনকে পিষে দিয়েছে। বরণের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। মিল্লাতকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ট্রাকটির চালক বা হেলপারকে আমরা দেখিনি। সিকিউরিটি অফিসার জাকিররুল ইসলাম বলেন, বরুণ কুমার এিপুরা এক বছর যাবত আমাদের সাথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন, সে কর্মরত অবস্থায় তার  অনেক সুনাম ছিল, হটাৎ করে তাহার এমন মৃত্যু কোন ভাবে মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুমণ বণিক বলেন, ট্রাকচাপায় একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছে। মিল্লাত হোসেন নামে আরেক নিরাপত্তাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। বিস্তারিত পরে বলতে পারব। সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আমাদের জানা নেই। তাদের কারখানা তারাই ভালো জানে। এ বিষয়ে জানতে জিপিএইচ ইস্পাতের ডিএমডি আলমাস শিমুলকে কল করা হলে ফোন রিসিভ করেন তার পিএ। তিনি বলেন, স্যার একটু মিটিংয়ে আছেন।