কক্সবাজার সমুদ্রকে নিরাপদ রাখা আবশ্যক বললেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৮, ২০২২, ৫:১৯ অপরাহ্ন / ২৩৮
কক্সবাজার সমুদ্রকে নিরাপদ রাখা আবশ্যক বললেন প্রধানমন্ত্রী।
কক্সবাজার সমুদ্রকে নিরাপদ রাখা আবশ্যক বললেন প্রধানমন্ত্রী।
ওমর ফারুক উখিয়া, কক্সবাজার সংবাদদাতা –
অবাধ বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থেই সমুদ্রকে নিরাপদ রাখা আবশ্যক বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ হয়ে থাকে সমুদ্রপথে। সামুদ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও অনুসন্ধানের বিশাল সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র সম্পদের এই অপার সম্ভাবনা উপলব্ধি করে
বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সমৃদ্ধ অর্থনীতি কেবল তখনই সম্ভব, যখন আমরা সমুদ্রে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবো। সে লক্ষ্যে আমরা সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ গুণগত উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে নৌবাহিনীকে আধুনিকায়ন করে যাচ্ছি।
বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ ২০২২’ (আইএফআর ২০২২) কক্সবাজারের ইনানীতে আয়োজনের শুভ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় কূটনৈতিক মিশনের সদস্যরা; সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা, অংশগ্রহণকারী নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড প্রধানরা, প্রতিনিধিরা, অন্যান্য সামরিক ও অসামরিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংঘাত নয়, সমঝোতা এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যেকোনও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করা হচ্ছে যুদ্ধ করার জন্য নয়। আমাদের লক্ষ্য শান্তি স্থাপন এবং শান্তি বজায় রাখা।’ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেকোনও যুদ্ধ যে মানবজাতির জন্য কী ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তা আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে, ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’। জাতি হিসেবে আমরা সর্বদা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। সেই নীতি মেনেই আমরা সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। নিকট প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক সব দেশের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক বিদ্যমান।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি সংঘাত নয়, সমঝোতা এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যেকোনও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করা হচ্ছে যুদ্ধ করার জন্য নয়। আমাদের লক্ষ্য শান্তি স্থাপন এবং শান্তি বজায় রাখা।’ যেকোনও যুদ্ধ মানবজাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে সতর্ক করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তা আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। নিকট অতীতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখাতে সক্ষম হয়েছি উল্লেখ করে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সম্পর্কিত মতপার্থক্য সৌহার্দপূর্ণভাবে সমাধানের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে আমরা একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। এই বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে তিনটি দেশরই সুনীল অর্থনীতি বিকাশের অবারিত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানার শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি আমরা করতে পেরেছি।’
অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি বাংলাদেশ আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিগত দুই দশক ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সৈন্য প্রেরণকারী দেশগুলোর একটি। ২০১০ সাল থেকে সুদূর ভূমধ্যসাগরের লেবাননে জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মোতায়ন রয়েছে। এসব কার্যক্রম বিশ্ব শান্তির প্রতি আমাদের অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক সীমানার মাধ্যমে আমাদের সব দেশ বিভক্ত হলেও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধনে সমুদ্র উপকূলীয় সব দেশের সঙ্গে আমরা একই সূত্রে গাঁথা। ‘ফ্রেন্ডশিপ বিয়োন্ড দ্য হরিজোন’ উপজীব্যকে ধারণ করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আয়োজিত ‘আইএফআর-২০২২’ ইভেন্টটি আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে, যা সব সামুদ্রিক দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’ ‘অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৈচিত্রের দেশ বাংলাদেশ। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বিশ্বের সর্ববৃহৎ সোনালি বালুকাময় সৈকত। বাংলাদেশ বিপুল সম্ভাবনার দেশ। আমি আশা করি, আইএফআর ২০২২-তে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সমুদ্র, সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নের অপার সম্ভাবনা, পর্যটন ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবেন।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে কক্সবাজারে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ ২০২২’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ‘আইএফআর ২০২২’ আয়োজন করার জন্য আমি বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি অংশগ্রহণকারী সব দেশ, বিভিন্ন দেশের নৌপ্রধান এবং প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই- আলম চৌধুরী লিটন, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একাধিক সংসদ সদস্য, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক- বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সামরিক কর্মকর্তারা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা চারটি প্রকল্পের তেপান্তর স্থাপনা করেন ও বিভিন্ন প্রকল্প  শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। 
কক্সবাজার উপজেলা সদর প্রতিনিধি মোঃহোসেন( সুমন)
0188-4146519
 উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে কক্সবাজার – খুশিতে আত্মাহারা কক্সবাজারবাসী, উদ্ভোধন হবে কক্সবাজারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং স্থাপানা। উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে কক্সবাজার – খুশিতে আত্মাহারা কক্সবাজারবাসী, উদ্ভোধন হবে কক্সবাজারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং নেতাকর্মীর ঢল নেমেছে কক্সবাজার শহরে। আওয়ামী লীগ এর সভানেএী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেএী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা পাঁচ বছর পর এক দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন। বুধবার (৭ই ডিসেম্বর) মেরিনড্রাইভের উখিয়ার ইনানীতে আন্তর্জাতিক নৌ মহড়া পরিদর্শন শেষে অংশ নেবেন সৈকতের লাবণী পয়েন্টের শহীদ শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য দলীয় জনসভায় যোগ দিবেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার আগে কক্সবাজারে চলমান কর্মযজ্ঞের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া ২৮টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া চারটি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তরও স্থাপন করবেন তিনি। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মামুনুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আধুনিক ও পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে কক্সবাজারকে গড়ে তুলতে ১০টি মেগা প্রকল্পসহ ছোটবড় ৭২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এরই মধ্যে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়ক, খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ,রেললাইন, আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন, কক্সবাজার আবহাওয়া রাডার স্টেশন,উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভবন, বিমান বাহিনী ঘাঁটি, নৌবাহিনীর ঘাঁটি , সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্ট, বিজিবি ক্যান্টনমেন্ট, পুলিশ লাইন, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক,বোটানিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা অফিস, লিংকরোড় থেকে হলিডে মোড় সড়ক এবং মহেশখালী ডিজিটাল আইল্যান্ডে সম্পন্ন হওয়া প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতেছে জনগণ। চলমান প্রকল্প থেকে ২৮টি শেষ হয়েছে। সমাপ্ত হওয়া এসব প্রকল্প ৭ ডিসেম্বর উদ্বোধন করবেন মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা মমতাময়ী মা শেখ হাসিনা।
জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, এক হাজার ৩৮২ দশমিক ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সমাপ্তের পর উদ্বোধনের তালিকায় থাকা উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে আছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রামুতে বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কক্সবাজারে ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম উন্নয়ন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুতুবদিয়ায় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন ও বাহারছড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠ এবং কলাতলী উদ্যান নির্মাণ।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের আওতায় জোয়ারিনালা শেখ হাসিনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবন, আব্দুল মাবুদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ভবন ও উখিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ।
সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় জেলার লিংক রোড-লাবণী মোড় সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ, টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ হাড়িয়াখালী হতে শাহপরীর দ্বীপ অংশ পুনর্নির্মাণ, প্রশস্তকরণ এবং শক্তিশালীকরণ, রামু-ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্থতায় উন্নীতকরণ। সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় জেলার লিংক রোড-লাবণী মোড় সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ, টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ হাড়িয়াখালী হতে শাহপরীর দ্বীপ অংশ পুনর্নির্মাণ, প্রশস্তকরণ এবং শক্তিশালীকরণ, রামু-ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্থতায় উন্নীতকরণ। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কক্সবাজার টেকনাফস্থ শাহপরীর দ্বীপে হোল্ডার নং-৬৮ এর সি-ডাইক অংশের বাঁধ পুনর্নির্মাণ ও প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ণ।
স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন রামু উপজেলাধীন কলঘর বাজার-রাজারকুল ইউপি সড়কে বাকঁখালী নদীর উপর ৩৯৯ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজ, নবনির্মিত ৬ ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন, রামু উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, টেকনাফ উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন সম্প্রসারণ, উখিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, বিমান বন্দর হতে নুনিয়ারছড়া সড়ক এবং ৪টি সংযোগ সড়ক আরসিসিকরণ, শহীদ সরণী সড়ক এবং ৩টি সংযোগ সড়ক আরসিসিকরণ, সদর থানা হতে খুরুশকুল পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণ, সুগন্ধা পয়েন্ট হতে লাবনী পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক এবং ৪টি সংযোগ সড়ক আরসিসিকরণ এবং কক্সবাজার প্রধান সড়ক হতে খরুশকুল রোড হয়ে তারাবনিয়ারছড়া পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প শেষ হয়েছে।
পাশাপাশি ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (২য় পর্যায়) প্রকল্প, এলজিইডির আওতায় কুতুবদিয়ার ধুরুং জিসি মিরাখালী সড়কের ধুরুংঘাটে ১৫৩ দশমিক ২৫ মিটার জেটি এবং আকবর বলি ঘাটে ১৫৩ দশমিক ২৫ মিটার জেটি ও মহেশখালী গোরকঘাটা ঘাটে জেটি নির্মাণ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নতির লক্ষ্যে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদীর তীরের ৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি এবং ৬৮ পোল্ডার পুনর্মেরামত প্রকল্প। এদিকে জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে মন্তব্য করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, ২০১৭ সালে কক্সবাজারকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। প্রতিশ্রুতি মতে কক্সবাজারে গত ১৪ বছরে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার ৭২টি উন্নয়ন প্রকল্প দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২৮টি এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। বাস্তবায়নাধীন আছে আরও প্রায় ৪৫টি প্রকল্প।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে জনসভাস্থলের পাশে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন দলের নেতারা বলেন, বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন করে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সংযুক্তি, কক্সবাজারের সঙ্গে মহেশখালী উপজেলার সংযোগ সেতু ও বাঁকখালী নদীর তলদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের কাজ চলমান , জানানো হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা  মমতাময়ী মা শেখ হাসিনার কাছে।এবং প্রধানমন্ত্রীর   কাছে কক্সবাজারবাসীর একটা দাবি সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা করবেন কক্সবাজারকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগমনকে কেন্দ্র করে, কক্সবাজার, জেলা,উপজেলা,রামু-ঈদগাঁ, চকরিয়া-পেকুয়া , উখিয়া-টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, কুতুবদিয়া-মহেশখালী থেকে  আসা প্রায় ১০/১৫লাখ মানুষের সমাগম হয় ও পুরো মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ  হয় । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শেষে, আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করা জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সাথেই সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন, ওবায়দুল কাদের  এমপি, যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী,ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি,বেসামরিক বিমান চলাচল পরিবহন, পর্যটন ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয় মন্ত্রী।সরকারি সামরিক-বেসামরিক, উচ্চতর কর্মকর্তা,বিভিন্ন মন্ত্রীগণ, বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ, এসএসএফ সদস্যরা, কক্সবাজার সদর আসন-৩,আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, জাফর আলম এমপিসহ উপস্থিত ছিলেন।