উলিপুরে “কুইনএনি” জাতের গোল আলুর বম্পার ফলন-দ্বিগুন লাভের আশা। 


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৩, ৮:১০ অপরাহ্ন / ৩২৮
উলিপুরে “কুইনএনি” জাতের গোল আলুর বম্পার ফলন-দ্বিগুন লাভের আশা। 

“উলিপুরে কুইনএনি জাতের গোল আলুর বম্পার ফলন-দ্বিগুন লাভের আশা। 
আবুল কালাম আজাদ, উলিপুর প্রতিনিধি –
কুড়িগ্রামের উলিপুরে কুইনএনি জাতের গোল আলুর বম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি। কুইনএনি গোল আলু পুষ্টির দিক দিয়ে ভাত ও গমের সাথে তুল্য। এছাড়া খাদ্য হিসাবে আলু সহজেই হজম হয়। আলুতে যথেষ্ঠ পরিমানে খাদ্য শক্তি রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন ও খনিজ লবণও পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এবারে উপজেলায় পৌরসভা সহ আলু চাষের লক্ষ্য মাত্রা প্রায় ৭’শ ২০ হেক্টর। এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে প্রায় ৮’শ ৯০ হেক্টর। লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৭০ হেক্টর বেশি অর্জিত হয়েছে। তার মধ্যে কান্দাল ফসল হিসাবে কুইনএনি জাতের গোল আলুও রয়েছে। কুইনএনি জাতের গোল আলু কান্দাল ফসল উৎপাদন প্রদর্শনীতে ২০ শতক করে জমিতে চাষ করেছেন। কান্দাল ফসল উৎপাদন প্রদর্শনীর আলু চাষিদের বিনামূল্যে বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। কুইনএনি জাতের গোল আলুর বম্পার ফলন হওয়ায় আলু চাষিরা অধিক লাভের আশা করছেন। তারা বলেন এ জাতের আলু মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে হয়ে থাকে। আলুর বাজার দর ভালো থাকলে অনেক লাভবান হতে পারব বলে জানান তারা।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কান্দাল ফসল উৎপাদন প্রদর্শনীতে ২০ শতক জমিতে করে কুইনএনি জাতের গোল আলুর চাষ করা হয়েছে। পুষ্টি গুনে ভরা কুইনএনি গোল আলুর বম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যায়। এখন পর্যন্ত যে ভাবে ফলন হয়েছে তাতে দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন আলু চাষিরা। কুইনএনি জাতের আলুর পুষ্টি গুন ক্রেতাদের বুঝাতে পারলে বাজারে অনেক চাহিদা বেড়ে যাবে। কুইনএনি জাতের গোল আলু দিয়ে মিষ্টি, সেমাই, নানা রকম ভর্তাসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার তৈরি করা যায়। তরকারি হিসাবে খাওয়া ছাড়াও প্রক্রিয়াজাত করে চিপস বিক্রি করে গৃহবধূ ও মেয়েরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে বলে জানান আলু চাষিরা।
উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের পাকার মাথায় কুইনএনি জাতের গোল আলু চাষি ফখরুল ইসলাম বলেন, আমি কান্দাল ফসল উৎপাদন প্রদর্শনীতে ২০ শতক জমিতে আলুর চাষ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কুইনএনি জাতের আলুর বীজ ও সার বিনামূল্যে দিয়েছে। যে ভাবে বাম্পার ফলন হয়েছে তাতে দ্বিগুণ লাভের আশা করছি। তিনি বলেন ২০ শতক জমিতে আলুর বীজ লাগানো হয়েছে ৮’শ কেজি। জমিতে আলু চাষ করা থেকে আলু উঠানো পর্যন্ত মোট ব্যায় হবে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। যে ভাবে বাম্পার ফলন হয়েছে তাতে আলু হবে প্রায় ৬০ মোণ। বর্তমান বাজারে আলু কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা। যার মুল্য হয় প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। তাতে লাভের আশা করছেন প্রায় ২১ হাজার টাকা।
এছাড়াও উপজেলার থেতরাই এলাকার কুইনএনি জাতের গোল আলু চাষিদের মধ্যে সাইদুল ইসলাম, শেখ ফরিদ, মনোয়ারা, রাবেয়া সহ আরও অনেকে বলেন, কুইনএনি জাতের গোল আলুর বম্পার ফলন হয়েছে। এ জাতের আলুতে তেমন কোন রোগবালাই পোকামাকড় দেখা যায় নাই। ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। বাজারদর ভালো থাকলে আমরা অনেক লাভবান হতে পারব বলে জানান তারা।
উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এ জাতের আলু চাষ করার আগ্রহ কম থাকায় কৃষকদের মাঝে এ জাতের আলুর বম্পার ফলন হয় এবং অনেক লাভবান হওয়া যায় সে সম্পর্কে অবগত করে আলু চাষে আগ্রহী করে তুলেছি। কুইনএনি জাতের গোল আলু চাষিদের বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই পোকামাকড় দমন সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ জাতের আলুর বম্পার ফলন হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকলে অনেক লাভবান হতে পারবেন আলু চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেন বলেন, কুইনএনি জাতের গোল আলু চাষ একটি লাভজনক ফসল। এ জাতের আলু চাষে দ্বিগুণ লাভবান হওয়া যায়। কুইনএনি গোল আলু পুষ্টির দিক দিয়ে ভাত ও গমের সাথে তুল্য। এছাড়া খাদ্য হিসাবে আলু সহজেই হজম হয়। আলুতে যথেষ্ঠ পরিমানে খাদ্য শক্তি রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন ও খনিজ লবণও পাওয়া যায়। কুইনএনি জাতের আলু চাষিদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। আলুর বম্পার ফলন হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকলে অনেক লাভবান হবেন তারা। তবে এ জাতের আলু দেশে একটু চাহিদা কম থাকলেও দেশের বাহিরে এর অনেক চাহিদা আছে বলে জানান তিনি।”