পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ৮২ কোটি টাকার ভবন হস্তান্তরের আগেই ফাটল !


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৩১, ২০২৩, ৭:০৩ অপরাহ্ন / ২১৯
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ৮২ কোটি টাকার ভবন হস্তান্তরের আগেই ফাটল !

মোঃ যুবরাজ মৃধা পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ-

পটুয়াখালীতে ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত হচ্ছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত বিভাগ। তবে হস্তান্তরের আগেই নবনির্মিত ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। ভবনের বিভিন্ন স্থানজুড়ে ফাটল দৃশ্যমান হয়েছে। যা ঢাকতে দেয়া হচ্ছে পলেস্তরা ও রংয়ের প্রলেপ।

স্থানীয়দের অভিযোগে নির্মাণ কাজে অনিয়ম এবং নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহারের কারণেই নবনির্মিত ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।

তবে গণপূর্ত বিভাগের দাবি, নির্মাণ কাজ শতভাগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তারা। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, ‘ত্রুটিপূর্ণ ভবন হস্তান্তর নিবেন না তারা।

জানাগেছে, পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে ২০১৯- ২০ অর্থবছরে ‘গণপূর্ত বিভাগ’র মাধ্যমে ৫ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। যেখানে ব্যয় হবে মোট ৮২ কোটি টাকা। মেসার্স খান বিল্ডার্স নামের বরিশালের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভবনটি নির্মাণের দায়িত্ব নিয়ে ২০২০ সালে কাজ শুরু করে। ২০২২ সালের মধ্যে ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করে হস্তান্তরের কথা ছিলো।

কিন্তু কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের মধ্যে ভবনটি হস্তান্তরের নির্দেশনা রয়েছে গণপূর্ত বিভাগের। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভবনটির চারপাশ থেকে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির বাহিরের এবং ভিতরের অধিকাংশ দেয়ালের বেশ কিছু জায়গায় দৃশ্যমান ফাটল রয়েছে। শ্রমিকরা সিমেন্ট-বালু এবং রং দিয়ে ফাটলগুলো ঢাকার চেষ্টা করছেন। নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক শ্রমিকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তুলনায় কম নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ভবনটি হস্তান্তর হবে। তাই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার সঞ্জিব চন্দ্র দাসের নির্দেশে ফাটল ঢাকতে কাজ করছেন তারা।

এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, নবনির্মিত ভবনে কোন ফাটল আছে কিনা আমার জানা নেই। এটি হস্তান্তরের আগপর্যন্ত আমাদের জানার বিষয়ও নয়। তবে ত্রুটিপূর্ণ ভবন আমরা হস্তান্তর নেবো না।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ বলেন, হাসপাতালের নবনির্মিত ভবন হস্তান্তরের জন্য প্রায় প্রস্তুত। তবে কোন রকম ফাটলের বিষয়টি আমার জানা নেই। সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ বিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।