নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর নাজিম উদ্দিন ফকির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার -২


প্রকাশের সময় : জুন ১২, ২০২৪, ৭:০৫ অপরাহ্ন / ৩৬
নওগাঁয়  চাঞ্চল্যকর নাজিম উদ্দিন ফকির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার -২

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

“নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর “নাজিম উদ্দিন ফকির” হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও
হত্যাকান্ডে জড়িত ০২ জন কে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ

গত ১০তারিখ রাত্রী অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় বিলভবানীপুর শুকুরের মোড় হতে ভিকটিম নাজিম উদ্দিন ফকির (৬০) মোটরসাইকেল নিয়ে বিলভবানীপুর মৎসজীবি পাড়ায় জনৈক মোঃ একলাস এর বাড়ীতে স্থানীয় শালিস দরবার করার জন্য যান। শালিস দরবার শেষে বাড়ী ফেরার সময় রাত্রী অনুমান ১১.৪০ ঘটিকায় বাড়ীর প্রবেশ পথে অজ্ঞাতনামা আসামীরা

ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দ্বারা উপর্যপরি বুকের নিচে মাঝখানে, বুকের নিচে বাম পাশে,পেটের বাম পাশে, পেটের ডান পাশে ও ডান বাহুতে আঘাত করে গুরুতর জখম করলে,ভিকটিমের ডাক-চিৎকার ও গোঙ্গানো শব্দ শুনে বাড়ীর ভিতর হতে ভিকটিমের ছেলে, স্ত্রীসহ আত্মীয় স্বজন বের হয়ে ভিকটিমকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য

ভ্যানযোগে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উক্ত সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে নওগাঁ জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উক্ত ঘটনায় অজ্ঞাতনামা অপরাধীদেরকে গ্রেফতারের জন্য নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মুহাম্মদ রাশিদুল হক, পিপিএম মহোদয়ের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায়, জনাব মোঃ গাজিউর রহমান, পিপিএম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এর তত্ত্বাবধানে, জনাব ফৌজিয়া হাবিব খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল নওগাঁ,এর নেতৃত্বে জনাব মোঃ জাহিদুল হক, অফিসার ইনচার্জ, নওগাঁ সদর মডেল থানা, নওগাঁ সহ একটি চৌকস টিম গঠন করে উক্ত টিম একাধিক বার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে । স্থানীয়

সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নৃশংস হত্যা কান্ডের ঘটনা উদঘাটনে তথ্য প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে সল্পতম সময়ের মধ্যে নওগাঁ পৌরসভাস্থ আরজী নওগাঁ দপ্তরীপাড়া এলাকা হতে
ঘটনায় জড়িত আসামী ১. মোঃ সুজাত আলী (৩২),পিতা-মৃত আব্দুস সামাদ,সাং-বিল ভবানীপুর মেহেদী হাসান(২৮), পিতা- মো: নজরুল ইসলাম, সাং- রঘুনাথপুর, উভয় থানা-নওগাঁ, জেলা- নওগাঁদ্বয়কে গ্রেফতার করে। আসামীদ্বয়ের স্বীকারোক্তি মূলক তথ্যের ভিত্তিতে এবং তাদের দেখানো মতে সাক্ষীদের সামনে রানীনগর থানার আতাইকুলা বেতগাড়ী ব্রীজ (মুক্তিযোদ্ধা ব্রীজ)এর উত্তরে ছোট যমুনা নদী হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং ঘটনাস্থল হতে হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত
হাতুড়ী উদ্ধার করা হয়। ভিকটিম নাজিম উদ্দিন এর লাশ ময়না তদন্ত শেষে মৃতের পরিবারের

নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় নওগাঁ সদর থানার মামলা নং-২৮, তারিখ-১১/০৬/২০২৪, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়েছে। আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, প্রায় ০৩ বছর পূর্বে একটি সালিশে ভিকটিম কর্তৃক আসামী সুজাত আলী শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত হওয়ার ক্রোধে সে তাঁর বন্ধু মেহেদী হাসানকে নিয়ে এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা নওগাঁ থেকে হত্যাকণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও হাতুড়ি ক্রয় করে। ঘটনার রাতে তারা ভিকটিমের বাড়ীর সামনে ঝোপের মধ্যে ওঁৎ পেতে বসে থাকে। রাত্রী অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম নাজিম উদ্দিন ফকির তার বাড়ীর নিকট পৌঁছা মাত্রই আসামীদ্বয় পূর্ব পরিকল্পনা মত ভিকটিমকে এলোপাথারীভাবে ছুরিকাঘাত ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আঘাত করে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায় আসামীদ্বয়কে স্বীকারোক্তি মুলক বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।